নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে পতনে শেয়ারবাজার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হলেও, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবস বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বড় দরপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হলো।
এখন টানা পতন হলেও ভোটের আগের দুই কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ১৭০ পয়েন্ট। আর ভোটের পর প্রথম কার্যদিবসে সূচকটি বাড়ে ২০০ পয়েন্ট। অর্থাৎ তিনদিনে ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ে ৩৭০ পয়েন্ট।
এমন উত্থানের পর ভোটের পর দ্বিতীয় কার্যদিবসে সোমবার এসে সূচকটি ১১ পয়েন্ট কমে যায়। নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের দিনও শেয়ারবাজারে পতন হয়। আর নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেও দরপতন হলো।
বুধবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকা বড় হয়ে যায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এমনকি লেনদেনের শেষ দিকে পতনের মাত্রা বাড়ে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮৬টির। আর ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪২টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৯টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩টি দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে নেমে গেছে।
সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৩৫ কোটি ৭৭ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৮৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এশিয়াটিক ল্যাবরেটরির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সিটি ব্যাংক, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু ফেব্রিক্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্র্যাক ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং এবং কে অ্যান্ড কিউ।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৮৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২২টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৯ লাখ টাকা।
এমএএস/বিএ