ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে ভালো

মো. নাহিদ হাসান | প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের জ্বালানি খাত এক ধরনের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, অন্যদিকে খোলাবাজারে মিলছে অবৈধ মজুত। আবার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।

এমন পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কতটা, সরকার কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এ খাতে আমাদের দুর্বলতা কোথায়- এসব বিষয় নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মো. নাহিদ হাসান

জাগো নিউজ: জ্বালানি খাতে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। একদিকে খোলাবাজারে তেলের মজুত করে মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার কি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে?

ড. বদরূল ইমাম: ব্যর্থ হচ্ছে কি না এটা বলা মুশকিল। সরকার যদি নিয়মিতভাবে অভিযান চালায় তবে এটা খুবই ভালো। আর যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে ব্যর্থ বলতেই হবে। এটা একদিনে হবে না, সময় নিয়ে সরকারকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তারপর দেখা যাবে সরকার পরিস্থিতি কতটা সামাল দিতে পারলো। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে জ্বালানি খাত সামনে হুমকির মুখে পড়বে, আমাদের আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে।

জাগো নিউজ: বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ কী?

ড. বদরূল ইমাম: প্যানিক বায়িং কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে। গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে জনগণ আশ্বস্ত হয়।

আমাদের অনেক গ্যাস সম্পদ এখনো আন-এক্সপ্লোর আছে। সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো কার্যক্রমই এখন নেই। এসব কার্যক্রম বাড়াতে হবে। দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে

জাগো নিউজ: বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কী?

ড. বদরূল ইমাম: আমাদের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ ব্যবহার না করে, এটার উত্তোলন না করে আমদানিনির্ভর পলিসির দিকে ঝুঁকে যাওয়া ভুল। তেল-গ্যাস সম্পদে আমরা সমৃদ্ধ—এটার ওপরে যদি আরও কাজ করা হয়, এর ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব সম্পদ আহরণ করা যেতে পারে। বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যেতে পারে। এদিকে নজর দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে ভালো। আমাদের সূর্যের তাপ ও আবহাওয়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি একেবারে আমাদের হাতের কাছে। এটা কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারি। ইউরোপে অনেক সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তাদের চেয়ে সূর্যালোক আমাদের অনেক বেশি। তারা (ইউরোপ) তো নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে উঠে এসেছে

জাগো নিউজ: আপনি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর জোর দিতে বলছেন?

ড. বদরূল ইমাম: হ্যাঁ। আমাদের অনেক গ্যাস সম্পদ এখনো আন-এক্সপ্লোর আছে। সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো কার্যক্রমই এখন নেই। এসব কার্যক্রম বাড়াতে হবে। দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।

আরও পড়ুন

জ্বালানি মজুত সক্ষমতা না বাড়ালে ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ
৮ এপ্রিল শেষ হতে পারে ক্রুডের মজুত, বন্ধের হুমকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি
এলএনজি নিয়ে আপাতত ‘চিন্তা নেই’, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
বিপিসির মোংলা জেটিতে ভেড়ে না জাহাজ, ফাঁকা তেলের ট্যাংক

জাগো নিউজ: বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কতটা?

ড. বদরূল ইমাম: বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে ভালো। আমাদের সূর্যের তাপ ও আবহাওয়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি একেবারে আমাদের হাতের কাছে। এটা কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারি। ইউরোপে অনেক সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তাদের চেয়ে সূর্যালোক আমাদের অনেক বেশি। তারা (ইউরোপ) তো নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে উঠে এসেছে। সেই পথেই আমাদের যাওয়া উচিত।

এনএস/এএসএ/এমএফএ