শাস্তি দিয়ে হলেও অপ্রদর্শিত আয় দেশে রাখতে হবে: সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যান
প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ/ছবি: জাগো নিউজ
প্রয়োজনে শাস্তি দিয়ে হলেও অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা দেশে রাখতে এবং তা বিনিয়োগে আনার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ।
তিনি বলেন, ‘কিছুটা অস্বস্তিকর শোনাতে পারে, তবে বাস্তবতা হলো- বাজারে বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত আয় রয়েছে। এ অর্থকে কোনো না কোনোভাবে মূল অর্থনীতির ধারায় ফেরানো না গেলে বা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে, তা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিভিন্ন প্রণোদনা কিংবা প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে হলেও এ অর্থ দেশে ধরে রাখা জরুরি। পাশাপাশি, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা গেলে অর্থনীতির জন্য তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় হোসেন খালেদ এসব কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), চ্যানেল-২৪ ও দৈনিক সমকাল যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ ও রিজওয়ান রাহমান, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট মো. কাওসার আলম, আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর প্রমুখ।

সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা করাটা সহজ করা দরকার। ব্যবসা শুরু করা যেরকম সহজ করা দরকার, ব্যবসা চালানোও সহজ করা দরকার। আবার ব্যবসা যদি বন্ধ হয়, সেটাও সহজ করা দরকার। তার সঙ্গে আসলে ব্যবসা করার জন্য যে আমাদের খরচ, এই খরচগুলো আমরা অনেক জায়গাতে নজর দিয়েছি, কিন্তু উন্নতির আরও অনেক বেশি সুযোগ রয়ে গেছে।’
তিনি পরামর্শ দেন- অনলাইনে প্রত্যেক ব্যক্তির, বৃহৎ করদাতা ইউনিট হোক অথবা ক্ষুদ্র-মাঝারি, সব ব্যবসায়ী ও ব্যক্তির কর অনলাইনে দেওয়া শতভাগ সহজ করা দরকার।
হোসেন খালেদ জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় বাস্তবতা হলো- মোট আর্থিক লেনদেনের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে হয়, বাকি প্রায় ৭০ শতাংশই নগদ বা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে জোর দিতে হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, দেশে ক্রেডিট কার্ডসহ ডিজিটাল লেনদেনের ওপরও ভ্যাট ও কর আরোপ করা হচ্ছে, যা ডিজিটাল লেনদেনকে নিরুৎসাহিত করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচিত ডিজিটাল ও কার্ডভিত্তিক লেনদেন আরও উৎসাহিত করা, যাতে অর্থনীতি আরও বেশি আনুষ্ঠানিক ধারায় আসে।
ব্যাংকিং খাতের ওপর করের চাপ তুলনামূলক বেশি বলেও উল্লেখ করেন সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এ খাত সর্বোচ্চ করদাতা হলেও করহার উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তাই ব্যাংকগুলোর মূলধন শক্তিশালী করতে করহার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতেও ব্যাংকগুলো অবদান রাখছে। তবে এ খাতে কর রেয়াতের সীমা মাত্র ১০ শতাংশ হওয়ায় সেটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
ইএইচটি/একিউএফ