ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

যুদ্ধের প্রভাব

পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের জোগান সংকটে চাপে প্লাস্টিক শিল্প

ইকবাল হোসেন | প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বড় অংশের জোগান আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। ইরান যুদ্ধের কারণে হামলা-পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব দেশের অনেক পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি প্ল্যান্ট। হামলা থেকে বাদ যায়নি পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনকারীও।

হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে থমকে গেছে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের জোগান। এতে বড় চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক, অ্যাক্সেসরিজ, প্যাকেজিং পণ্য উৎপাদন শিল্প।

পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ব্যবহার

এতে বড় চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক, অ্যাক্সেসরিজ, প্যাকেজিং পণ্য উৎপাদন শিল্প। এ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বড় বড় পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকে তাদের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, অনেকে পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে রপ্তানি। এতে পণ্যভেদে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে পেট্রোকেমিক্যাল উপকরণের দাম। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছে দেশীয় উৎপাদনকারীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সামগ্রিক রপ্তানিখাতেও।

পোশাক শিল্পসহ ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, চামড়া, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, তাজা ফল ও সবজি, হস্তশিল্প ইত্যাদি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো প্যাকেজিং অ্যাক্সেসরিজ। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের জন্য ৩০টিরও অধিক ধরনের অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য ব্যবহৃত হয়।

প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং খাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হলো প্রাণ-আরএফএল। আমাদের কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। বিভিন্ন ধরনের পলিমার রেজিনের মতো পেট্রোকেমিক্যালের প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে আমাদের উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হচ্ছে, উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ফলে পণ্য সরবরাহে চাপ তৈরি করছে।-প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চিফ সাপ্লাই চেইন অফিসার তানজির হেলাল

দেশে প্রায় দুই হাজারের বেশি কারখানায় এসব অ্যাক্সেসরিজ তৈরি হয়। বিশেষ করে কার্টন, পলি ব্যাগ, হ্যাঙ্গার, গাম টেপ, পিপি ব্যান্ড, স্কচটেপ, ওভেন লেবেল, প্রিন্টেড লেবেল, হ্যাং ট্যাগ, প্রাইস ট্যাগ, কেয়ার লেবেল, সুইং থ্রেড, জিপার, বাটন, ইলাস্টিক, টুইল টেপ, ইন্টারলাইনিং, কুইল্টিং, কলার ইনসার্ট, বাটারফ্লাই, কলার বোন, কলার স্ট্যান্ড, বারকোড, সেফটি স্টিকার, অ্যারো স্টিকার, আরএফআইডি ট্যাগ ইত্যাদি অ্যাক্সেসরিজ রয়েছে।

এসব অ্যাক্সেসরিজের বেশিরভাগ তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পেট্রোকেমিক্যাল মেটারিয়ালের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, বিউটাডাইন, বেনজিন, জাইলিন, টলুইন, ভিনাইল ক্লোরাইড, স্টাইরিনসহ নানান উপকরণ ব্যবহৃত হয়।

প্লাস্টিকপণ্যের কাঁচামাল
একইভাবে প্লাস্টিক পণ্যের মূল কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয় রেজিন। রেজিন একটি পরিচিত পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য। রেজিনের একটি বিশেষ ধরন হলো এইচডিপি (হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন)। ওজনে হালকা কিন্তু অনেক বেশি ভার সহ্য করতে পারার কারণে ভালো মানের প্লাস্টিক পণ্য তৈরিতে এইচডিপি বেশি ব্যবহার করা হয়। উন্নতমানের পলিব্যাগ, পানির পাইপ, শ্যাম্পুর বোতল, দুধের গ্যালন, তেলের কনটেইনার ও খেলনা তৈরিতে এ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যটি ব্যবহার বেশি হয়।

পলি-প্লাস্টিক শিল্পে এবিএস (অ্যাক্রিলোনিট্রাইল বিউটাডাইন স্টাইরিন) নামে একটি বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ব্যবহার হয়। অ্যাক্রিলোনিট্রাইল, বিউটাডাইন এবং স্টাইরিন- এ তিনটি ভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে এবিএস তৈরি করা হয়। প্লাস্টিক পণ্য মজবুত, উচ্চ তাপসহনীয় এবং চকচকে মসৃণ করতে এ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। ল্যাপটপ, কম্পিউটার-টিভির বডি, কি-বোর্ড, মাউস, শিশুদের খেলনা, গাড়ির ড্যাশবোর্ড, বাম্পার ও ভেতরের প্লাস্টিক প্যানেল, কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার তৈরিতে এবিএস ব্যবহার করা হয়।

যা বলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা 

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিনটি পেট্রোকেমিক্যাল মেটারিয়ালের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ান্ডার প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ আশরাফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামালগুলো পেট্রোকেমিক্যালস থেকে আসে। এটির বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এখন সব ধরনের পেট্রোকেমিক্যালসের দাম বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আগের ২৫ কেজি বস্তার একটি কাঁচামাল যেখানে চার হাজার টাকা ছিল, এখন হয়ে গেছে ছয় হাজার টাকার বেশি। সাড়ে চার হাজার টাকার এবিএস হয়ে গেছে সাত হাজার টাকা। কাঁচামালের দাম বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে সেই অনুপাতে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ানো যায় না। এখন প্রায় সব উৎপাদনকারীরাই লোকসানে আছে।’

কাঁচামালের দাম বাড়লেও আমাদের আগের যে এক্সপোর্ট অর্ডারগুলো আছে সেগুলো কমপ্লাই করতে হচ্ছে। প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী সবাই এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের উৎপাদনশীলতা অনেক কমে গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাজার স্থিতিশীল হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত চিত্র এমনই থাকবে।-বিপিজিএমইএ সভাপতি শামীম আহমেদ

দেশে প্লাস্টিকপণ্য উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। শিল্প গ্রুপটির বছরে প্রায় ৪০ হাজার টনের মতো কাঁচামালের প্রয়োজন পড়ে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কাঁচামাল সংগ্রহ নিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটিকে।

কথা হলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চিফ সাপ্লাই চেইন অফিসার তানজির হেলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং খাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হলো প্রাণ-আরএফএল। আমাদের কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। বিভিন্ন ধরনের পলিমার রেজিনের মতো পেট্রোকেমিক্যালের প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে আমাদের উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হচ্ছে, উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ফলে পণ্য সরবরাহে চাপ তৈরি করছে।’

আরও পড়ুন

কনটেইনার সংকটে টালমাটাল আমদানি-রপ্তানি
চট্টগ্রাম বন্দরে বিকল স্ক্যানার, আটকা শত শত কনটেইনার
দ্বিতীয় রিফাইনারি হলে আমাদের জ্বালানি সংকট আরও ৩-৪ মাস পরে আসতো
এলপিজির সরবরাহ সচল রাখা নিয়ে শঙ্কা

তিনি বলেন, ‘আমাদের বছরে ৪০ হাজার টনের মতো কাঁচামালের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ১৮-২০ হাজার টনের মতো পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামাল আনতে হয়। বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমরা এসব কাঁচামাল সংগ্রহ করি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আমদানি খরচ বেড়েছে। যেটি পুরো সাপ্লাই চেইনকে প্রভাবিত করছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনের দিনগুলোতে পণ্য সরবরাহেও সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।’

প্লাস্টিক পণ্য

চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মডার্ন পলি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পৃথিবীর কেউ ভালো নেই। আগে যে পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামাল ৭৫০ ডলার ছিল, সেটি এখন বেড়ে ১ হাজার ডলার হয়ে গেছে। পেট্রোকেমিক্যাল মেটেরিয়ালের বড় সরবরাহকারী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আমাদের দেশের পলিপ্লাস্টিক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কমবেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।'

বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) সভাপতি এবং জালালাবাদ পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘কাঁচামালের দাম বাড়লেও আমাদের আগের যে এক্সপোর্ট অর্ডারগুলো আছে সেগুলো কমপ্লাই করতে হচ্ছে। প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী সবাই এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের উৎপাদনশীলতা অনেক কমে গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাজার স্থিতিশীল হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত চিত্র এমনই থাকবে।’

প্রায় প্রত্যেক কাঁচামালের দাম গড়ে ৫০ শতাংশ বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কোনো আইটেম এখন ১৫শ থেকে ১৭শ ডলারে কিনতে হচ্ছে। আগে যেগুলো ৯৫০ থেকে এক হাজার ডলারের মধ্যে ছিল।’

প্লাস্টিকপণ্যের যত কাঁচামাল আছে রেজিনের দাম ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এইচডিপির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সাবিক (সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় পেট্রোকেমিক্যাল সাপ্লায়ার। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে প্ল্যান্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সাপ্লাই পুরোটাই বন্ধ।-স্মার্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাইনুল আহসান

বিপিজিএমইএর তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিকপণ্যের বাজার রয়েছে। সারাদেশে বর্তমানে ছয় হাজারের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদনকারী কারখানা। এর মধ্যে সরাসরি রপ্তানিতে জড়িত প্রায় ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান। দেশীয় এসব কারখানাগুলোতে বর্তমানে প্যাকেজিং, কনস্ট্রাকশন, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন খাতের জন্য প্রায় আড়াই হাজার ধরনের প্লাস্টিকপণ্য উৎপাদন করছে। এ খাতে জড়িতরা বলছেন, স্টিলের যন্ত্রাংশের পরিবর্তে প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে মোটরগাড়ির ওজন কমানো, খাদ্যপণ্যের সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্লাস্টিকের উল্লেখযোগ্য অবদান।

প্লাস্টিকপণ্যের রপ্তানি

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে প্লাস্টিকপণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে ২১ কোটি মার্কিন ডলারের প্লাস্টিকপণ্য রপ্তানি হয়েছিল, পরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২৪ কোটি ডলার। সবশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ২৮ কোটি ডলারের প্লাস্টিকপণ্য।

স্মার্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাইনুল আহসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্লাস্টিকপণ্যের যত কাঁচামাল আছে রেজিনের দাম ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এইচডিপির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সাবিক (সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় পেট্রোকেমিক্যাল সাপ্লায়ার। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে প্ল্যান্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সাপ্লাই পুরোটাই বন্ধ। এইচডিপির বড় সাপ্লায়ার সাবিক। এখন আমাদের স্থানীয় বাজারে এটি ১৮শ ডলারেও পাওয়া যাচ্ছে না। এটি দিয়ে ভালো মানের শপিং ব্যাগ তৈরি হয়। বিশেষ করে রপ্তানিজাত পোশাক প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত পলি তৈরি হয় এইচডিপি দিয়ে।’

এখন যে কাঁচামাল রয়েছে, তা দিয়ে দেশে ১৫-২০ দিন, কারও এক মাসের কিংবা দুই মাসের মতো চলবে। তারপর দেশে সংকট তৈরি হবে। আগে যে কাঁচামাল আমরা এক হাজার ডলারের কমে কিনেছি, এখন সেটির টন ১৬শ ডলার।-বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের আগে সংগৃহীত কাঁচামাল দিয়ে আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। পুরো দেশের প্রায় সব ধরনের শিল্পই পলি প্লাস্টিকের ওপর নির্ভরশীল। এখন সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিলিয়ে দাম বাড়ালে বাজারে বিক্রিতে ধস নামবে।’

পলিব্যাগ, হ্যাঙ্গার, গাম টেপসহ রপ্তানিকারী পোশাক শিল্পের প্যাকেজিং পণ্য উৎপাদন করে চট্টগ্রামের ‘ফোর এমিরেলডস অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড’। কথা হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. জহির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে প্যাকেজিং গুডসের কাঁচামালের সরবরাহ কমে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পেট্রোকেমিক্যালস কাঁচামালগুলো আসতো। এখন আসা কমে গেছে। সাপ্লায়াররা মেটারিয়ালস পাঠাচ্ছে না। এতে দেশেও কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। ফলে দেশের প্যাকেজিং শিল্পের উৎপাদনের মারাত্মক ধস নেমেছে। এভাবে চললে সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ সব ধরনের রপ্তানিপণ্য প্যাকেজিংয়ের ওপর নির্ভর করে।’

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি এবং আদজি ট্রিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহরিয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে পেট্রোকেমিক্যালসের সাপ্লায়াররা পিআই (প্রোফরমা ইনভয়েস) ইস্যু করছে না। সকালে পিআই ইস্যু করলেও বিকেলে প্রাইস বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেকে এলসি (ঋণপত্র) খোলার পর সাপ্লায়ার বলছে প্রাইস বাড়িয়ে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন যে কাঁচামাল রয়েছে, তা দিয়ে দেশে ১৫-২০ দিন, কারও এক মাসের কিংবা দুই মাসের মতো চলবে। তারপর দেশে সংকট তৈরি হবে। আগে যে কাঁচামাল আমরা এক হাজার ডলারের কমে কিনেছি, এখন সেটির টন ১৬শ ডলার।’

বর্তমান চলমান থাকলে সামনে তৈরি পোশাক খাতের প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রোডাক্টের কস্টিংয়ের ওপর বায়ারকে প্রাইস কোট করি। বর্তমানে যেখানে কাঁচামালের দাম বেড়েছে তাতে আগের রেটে প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হবে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহ দিতে না পারলে কোনো তৈরি পোশাক রপ্তানি হবে না। শুধু তৈরি পোশাক নয়, প্যাকেজিংনির্ভর কোনো পণ্যই রপ্তানি করা যাবে না।’

বিজিএপিএমইএ বলছে, তৈরি পোশাকসহ পুরো রপ্তানিখাতে ব্যাকওয়ার্ড শিল্প হিসেবে অ্যাক্সেসরিজ প্যাকেজিংয়ের বড় অংশগ্রহণ রয়েছে। এর মধ্যে সবশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ হাজার ৪৭৬ মিলিয়ন ডলার এসেছে অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত থেকে। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসেছিল ৬ হাজার ৮৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এমডিআইএইচ/এএসএ/এমএফএ