ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

রমজানে ভিন্ন ছন্দ মালিনীছড়া চা বাগানে

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬

জীবন পাল
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মালিনীছড়া চা বাগান। বছরের অন্য সময়ের মতো এখানে এখন তেমন কর্মব্যস্ততা নেই। পবিত্র রমজান মাসে যেন একটু ধীর হয়ে আসে বাগানের দৈনন্দিন ছন্দ। কাজের চাপ কম থাকে, আর শ্রমিক ও স্টাফদের অনেকেই সময়মতো নামাজ পড়তে পারেন, পরিবারের সঙ্গে ইফতারও করেন।

বাগানের পারমানেন্ট স্টাফ মোফাজ্জল হোসেন প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘রমজানে কাজের চাপ তেমন থাকে না। বৃষ্টি না হওয়ায় এখন বাগানে উৎপাদনও কম। তাই কাজের ফাঁকে নামাজের সময় হলে তারা সহজেই চলে আসতে পারেন।’

jagonewsশ্রমিক পরিবারের সন্তান বাদশা মিয়া জানান, বাগানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি মুসলিম পরিবার রয়েছে। শ্রমিকরা সকাল ৯টার দিকে কাজে যান। দুপুর ২টা বা ৩টার দিকে কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে যান। এতে পরিবারের সঙ্গে সুন্দরভাবে ইফতার করার সুযোগ হয়।

আরেকজন স্টাফ জানান, বর্তমানে বাগানে অফ সিজন চলছে। সকাল আটটার দিকে কাজে এলেও আসরের নামাজের পরই দিনের কাজ শেষ হয়ে যায়। মৌসুমে অবশ্য ইফতার করেও আবার কাজে ফিরতে হয়। তবে এখন সেই প্রয়োজন নেই। বেশির ভাগ স্টাফ বাসাতেই ইফতার করেন।

মালিনীছড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন জানান, বাগানে বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি মুসলিম পরিবার রয়েছে। রমজানজুড়ে মসজিদে সম্মিলিত ইফতারের আয়োজন করা হয়। বাগানের স্টাফরা পালাক্রমে দুই দিন করে ইফতারের দায়িত্ব নেন। এভাবে পুরো মাসে প্রায় ১৫ জন স্টাফ এই আয়োজন পরিচালনা করেন।

jagonewsতিনি আরও জানান, মাগরিব ও আসরের নামাজে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হয়। তারাবিতে সাধারণত দুই কাতার মুসল্লি দাঁড়ান। কারণ, এই বাগানে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

বাগানের বাসিন্দারা জানান, একসময় এখানে মাত্র তিনটি মুসলিম পরিবার ছিল। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় চল্লিশের বেশি। তাই বাগানের একটি অংশ এখন পরিচিত ‘মুসলিম পাড়া’ নামে। পাশের আরেকটি এলাকায়ও কিছু মুসলিম পরিবার বাস করেন, সেটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘নয়াপাড়া’ নামে।

রমজানকে ঘিরে মালিনীছড়া চা বাগানে তাই তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ কাজের ফাঁকে ইবাদত, আর সন্ধ্যায় পরিবার কিংবা মসজিদে একসঙ্গে ইফতারের আনন্দ।

আরও পড়ুন
দেউলিয়ার পর বন্ধ হয়ে গেল ব্রিটিশদের সেই ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’
পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী মূলত শিল্পোন্নত দেশগুলো

কেএসকে

আরও পড়ুন