ভিডিও EN
  1. Home/
  2. ফিচার

বিয়েতে মসলিন শাড়ি, ঐতিহ্যের নরম ছোঁয়া

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০২৬

বিয়ে জীবনের অন্যতম অনুষ্ঠান। এই বিশেষ দিনে যে পোশাকটি বধূ পরিধান করে, তা শুধু শারীরিক সৌন্দর্য নয়, বরং তার ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্য এবং স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বাংলাদেশের বিয়েতে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি পরা হয়, কিন্তু এর মধ্যে অন্যতম মসলিন শাড়ি। বিশ্বের সবচেয়ে নরম, হালকা এবং সূক্ষ্ম বস্ত্র এটি। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের ধানমণ্ডি, নরসিংদী, টাঙ্গাইল ও ঢাকা অঞ্চলে মসলিন বোনা হত।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মসলিনকে ‘নরম সিল্ক’ বা ‘লাইটওয়েট ফ্যাব্রিক’ বলা হতো। এক সময় মসলিনের চাহিদা এতই বেশি ছিল যে, বিদেশি রাজারা ও সম্রাটরা বিশেষভাবে এই বস্ত্র কিনতেন। আজও মসলিন শাড়ি বিয়েতে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। এটি শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং আরামেরও প্রতীক। হালকা ও শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য হওয়ায় বিয়ের ঘামঝরা দিনেও কনেকে সহজভাবে চলাচলের সুযোগ দেয়।

বিয়েতে মসলিন শাড়ি, ঐতিহ্যের নরম ছোঁয়া

নরম ছোঁয়া ও সৌন্দর্য

মসলিনের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর নরম ছোঁয়া। এটি কেবল দেখতে সুন্দরই নয়, পরিধানেও দারুণ আরামদায়ক। বিশেষ করে বিয়ের মতো দীর্ঘ অনুষ্ঠান চলাকালীন, হালকা বস্ত্র কনেকে ক্লান্ত করে না। আধুনিক নকশা এবং রঙের সঙ্গে মসলিন শাড়ি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ফুলের প্রিন্ট, লেইস, হালকা সোনালি বা রূপার কাজ সবই মসলিন শাড়ির সঙ্গে মানানসই। তাই মসলিন শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, ফ্যাশনের দিক থেকেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিয়ের জন্য মসলিন শাড়ি বেছে নেওয়া সহজ নয়, কারণ এতে শৈল্পিক নান্দনিকতার সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাদও প্রাধান্য পায়। প্রথাগতভাবে মসলিন শাড়ি সাধারণত হালকা রঙের হয়। যেমন-পিঙ্ক, ক্রিম, হালকা নীল বা মেরুন। তবে আধুনিক বিয়েতে নববধূরা অনেক সময় উজ্জ্বল রঙও পছন্দ করেন।

আরও পড়ুন: 

সূক্ষ্ম সোনার বা রূপার কাজ মসলিন শাড়িকে মার্জিত দেখায়। তবে অত্যধিক কাজ থাকলে শাড়ি ভারী মনে হতে পারে। তাই সঠিক ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। মসলিনের স্বাভাবিক নরম এবং হালকা বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে শাড়ি এমনভাবে বাঁধা উচিত যাতে চলাফেরায় অসুবিধা না হয়। হালকা ও সূক্ষ্ম গহনা মসলিন শাড়ির সঙ্গে সুন্দর মানায়। ভারী গহনা পরলে শাড়ির সরল সৌন্দর্য হারাতে পারে।

বিয়েতে মসলিন শাড়ি, ঐতিহ্যের নরম ছোঁয়া

আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মিলন

আজকের নববধূরা শুধুই প্রথাগত ভাবেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। মসলিন শাড়িকে আধুনিক শৈলীর সঙ্গে মেলানোর ট্রেন্ডও বেড়েছে। হালকা ফুলের প্রিন্ট, প্যাস্টেল রঙ এবং সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি সব মিলিয়ে মসলিন শাড়ি বিয়ের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়েছে। কিছু ডিজাইনার এমন শাড়ি তৈরি করছেন যা ঐতিহ্যকে ধরে রাখে, কিন্তু আধুনিক স্বাদও যোগ করে। ফলে নববধূরা এই শাড়ি পরিধান করে দেখতে যেমন মার্জিত, তেমনি আরামদায়কও বোধ করেন।

মসলিন শাড়ির আর্থিক মূল্য

প্রচলিতভাবে মসলিন শাড়ি দামি ধরা হয়। তবে বর্তমান বাজারে বিভিন্ন মান এবং ডিজাইনে মসলিন শাড়ি পাওয়া যায়। মূল বিষয় হলো শাড়ি কেনার সময় কেবল দামের দিকে নয়, তার মান এবং বস্ত্রের নরমত্বের দিকে খেয়াল রাখা।

বিয়েতে মসলিন শাড়ি, ঐতিহ্যের নরম ছোঁয়া

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

মসলিন শাড়ি শুধুই একটি পোশাক নয়। এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং গর্বের প্রতীক। বিয়েতে মসলিন শাড়ি পরিধান করলে নববধূ শুধু নিজেকে নয়, তার পরিবার ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকেও সম্মান জানায়।

প্রতিটি শাড়ি একটি গল্প বলে; শিল্পীর শ্রম, বস্ত্রের নরমতা এবং সংস্কৃতির ছোঁয়া। বিয়ের ছবিতে মসলিন শাড়ি পরিহিত নববধূ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে, যা ভবিষ্যতের জন্যও অনুপ্রেরণা।

জেএস/

আরও পড়ুন