খেলনা মায়ের সঙ্গে শিশু বানর পাঞ্চের খুনসুঁটি
মা হলেন সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও অকৃত্রিম আশ্রয়, যেখানে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক। পৃথিবীর সব প্রাণীর কাছেই মা মানে হৃদয়ের গভীর আবেগ, অসীম মমতা এবং স্নেহে গড়া এক পবিত্র আশ্রয়, যা কোনো কিছু দিয়েই পরিমাপযোগ্য নয়। মাতৃত্বের এই অনন্য দৃশ্য মানুষের পাশাপাশি প্রাণিজগতেও সমানভাবে বিদ্যমান, যেখানে মা তার সন্তানকে আশ্রয় ও আদর দিয়ে আগলে রাখে।
যারা মা ছাড়া, তাদের কষ্টের শেষ নেই। সম্প্রতি জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানায় এমনই একটি হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখা গেছে। মাত্র ছয় মাস বয়সী এক বানর, যার নাম পাঞ্চ, তার অনুপস্থিত মায়ের শূন্যতা মেটাতে একটি খেলনা ওরাংওটাংকে আঁকড়ে ধরে আছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পাঞ্চ যেন সেই খেলনাটিকে তার মা ভেবে রাখছে, পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে রেখেছে।

ছয় মাস বয়সী বানর পাঞ্চ জন্মেছিলেন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। জন্মের পরপরই তাকে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিত্যক্ত ও অসহায় অবস্থায় চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়করা তাকে হাতে নিয়ে লালন-পালন শুরু করেন। তার বৃদ্ধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য বানরের সঙ্গে পরিচয় করানো হয়।
যখন পাঞ্চকে অন্য বানরের সঙ্গে একটি ঘেরে স্থানান্তর করা হয়, তখন দেখা যায়, সে দলে মিশতে লড়াই করছে। একাকীত্ব ও উদ্বেগ মোকাবেলা করার জন্য তার হাতে দেওয়া হয় কম্বল ও নরম খেলনা। বিশেষ করে একটি ওরাংওটাংয়ের পুতুলের সঙ্গে তার গভীর সখ্য তৈরি হয়। এই খেলনাটি এখন তার সারাক্ষণের সঙ্গী, যা তার মানসিক নিরাপত্তা ও সান্ত্বনার প্রতীক।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘুমানোর সময় পাঞ্চ খেলনাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। নতুন পরিবেশ বা অন্য বানরের উপস্থিতিতে সে আরও ঘনিষ্ঠভাবে খেলনাটিকে ধরে রাখে, যেন সেটিই তার আশ্রয়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সময়ও সে তার পুতুল মাকে ছাড়েনি। বানররা সামাজিক প্রাণী, তাই নতুন বানরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। তবু পাঞ্চের মানসিক নির্ভরতা এই খেলনার ওপর স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আচরণ শুধুমাত্র বানর নয়, অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রেও দেখা যায়। মায়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে শিশুরা বা নবজাতক প্রাণীরা নিরাপত্তার অনুভূতি অর্জনের জন্য ‘ট্রানজিশনাল অবজেক্ট’-এর সাহায্য নেয়। পাঞ্চের এই আচরণ প্রাণীদের মানসিক বিকাশে সঠিক যত্নের গুরুত্ব দেখায়।
ছয় মাস বয়সী এই প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শুধু চিড়িয়াখানার কর্মীদেরই নয়, জাপান ও বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় কাড়ছে। অনেকে এটিকে হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী বলছেন। শিশুর মায়ের অনুপস্থিতির কারণে শক্ত করে আঁকড়ে ধরা দৃশ্যটি গভীর প্রভাব ফেলে।

চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়করা জানান, পাঞ্চ ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। তার খেলা, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য বানরের সঙ্গে মেলামেশার মধ্যে সবসময় সেই খেলনার উপস্থিতি তার মানসিক শান্তি বজায় রাখছে। এতে পাঞ্চ নতুন পরিবেশে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারছে।
পাঞ্চের গল্প প্রমাণ করে, প্রাণীরও আবেগ থাকে এবং শিশুকালীন নিরাপত্তা উপকরণ তাদের মানসিক বিকাশে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাস বয়সী এই বানর ও তার খেলনা মায়ের সম্পর্ক সামাজিক মাধ্যমে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
সূত্র নিউ ইয়র্ক পোস্ট, দ্য সান
আরও পড়ুন:
ক্ষমতার আড়ালে বিকৃত লালসা: এপস্টেইন থেকে ইতিহাসের কুখ্যাত শাসকরা
ইতিহাসে বিশ্ব নেতাদের আলোচিত উত্থান, পতন ও পরিসমাপ্তি
এসএকেওয়াই/এমএস