ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটির লঞ্চারে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জানুয়ারির পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ট্রাক-ভিত্তিক লঞ্চারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে সেগুলো দ্রুত নাড়াচড়া বা মোতায়েন করা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থির লঞ্চার স্টেশনের পরিবর্তে পরিবহনযোগ্য ট্রাকে ক্ষেপণাস্ত্র রাখা মানে এটি দ্রুত আক্রমণের উদ্দেশ্যে সরানো বা ইরানের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় মোতায়েন করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত করে, উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন ও অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের অভিযোগে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে যুদ্ধ এড়াতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক কথোপকথন এখনো চলমান।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, তুরস্ক ও ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়াতেও। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, ইরানে হামলা হলে তারা যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।

স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারির শুরুতে গোটা অঞ্চলে বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম বাড়ানো হয়েছে। কনটেস্টেড গ্রাউন্ডের ফরেনসিক ইমেজারি বিশ্লেষক উইলিয়াম গুডহাইন্ড এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এম৯৮৩ হেভি এক্সপ্যান্ডেড মোবিলিটি ট্যাকটিক্যাল ট্রাকে (এইচইএমটিটি) স্থাপন অবস্থায় দেখা গেছে। গুডহাইন্ড বলেন, এভাবে মোতায়েন করার ফলে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলোর চলাচলক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এগুলো দ্রুত নতুন স্থানে সরানো বা প্রয়োজনমতো পুনর্বিন্যাস করা যায়।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো এইচইএমটিটিতে রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি। পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য দেয়নি।

ইরান বলেছে, গত গ্রীষ্মে ইসরায়েল তার পারমাণবিক স্থাপনা ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর দুই সপ্তাহের সংঘাতের মধ্যেই তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ফের পূরণ করে ফেলেছে। রাজধানী তেহরানের কাছে, কেরমানশাহ, সেমনান ও উপসাগরীয় উপকূলের কাছেও ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্স রয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে ২৭ জানুয়ারি বন্দর আব্বাস থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোনবাহী জাহাজ আইআরআইএস শহীদ বাগেরিকে দেখা গেছে। মঙ্গলবারের (১০ ফেব্রুয়ারি) ছবিতেও বন্দর আব্বাসের কাছে জাহাজটি দেখা যায়।

স্যাটেলাইট চিত্রে পর্যবেক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য ঘাঁটির সর্বশেষ অবস্থা:

আল-উদেইদ, কাতার

১ ফেব্রুয়ারির ছবিতে দেখা গেছে- একটি আরসি-১৩৫ রিকনাইস্যান্স বিমান, তিনটি সি-১৩০ হারকিউলিস, ১৮টি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার ও সাতটি সি-১৭। তার আগে ১৭ জানুয়ারির চিত্রে দেখা গিয়েছিল ১৪টি স্ট্রাটোট্যাঙ্কার ও দুটি সি-১৭।

এছাড়া ১০টি পর্যন্ত এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে এইচইএমটিটিতে স্থাপন করা অবস্থায় দেখা গেছে।

মুয়াফফাক, জর্ডান

২ ফেব্রুয়ারির ছবিতে দেখা যায়- ১৭টি এফ১৫-ই স্ট্রাইক বিমান, ৮টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট, চারটি সি-১৩০ ও চারটি অজ্ঞাতপরিচয় হেলিকপ্টার। তার আগে ১৬ জানুয়ারির ছবির রেজুলেশন কম থাকায় তখন সব বিমান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মুয়াফফাকের আরেকটি স্থানের ২ ফেব্রুয়ারির ছবিতে দেখা যায়- একটি সি-১৭, একটি সি-১৩০ ও চারটি ইএ-১৮জি গ্রাউলার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান। ২৫ জানুয়ারির ছবিতে এই স্থানে কোনো বিমান দেখা যায়নি।

অন্যান্য ঘাঁটির চিত্র

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির ২ ফেব্রুয়ারির ছবিতে একটি সি-৫ গ্যালাক্সি ও একটি সি-১৭ দেখা গেছে। ৬ ডিসেম্বরের ছবিতে পাঁচটি বিমান দেখা গিয়েছিল, যা সম্ভবত সি-১৩০।

ডিয়েগো গার্সিয়ার ৬ ফেব্রুয়ারির ছবিতে ৩১ জানুয়ারির চেয়ে সাতটি বেশি বিমান দেখা গেছে। ওমানের দুখান ঘাঁটির ২৫ জানুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারির ছবিতে বিমান উপস্থিতির সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ