ভারত
মেট্রোর পিলার ধসে মৃত্যু, ক্ষতিপূরণ না পেলে মরদেহ নেবে না পরিবার
ক্ষতিপূরণ না পেলে মরদেহ নেবে না যাদব পরিবার/ ছবি: পিটিআই
ভারতের মুম্বাইয়ে নির্মাণাধীন মেট্রো রেললাইনের একটি পিলার ধসে প্রাণ হারিয়েছেন রামধনী যাদব নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু তার মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পরিবার। পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, রামধনী যাদবের পরিবারের সদস্যরা দুই কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনের সরকারি চাকরির দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুর্ঘটনাস্থলে বিক্ষোভও করেছেন তারা।
বিক্ষোভের পর পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং পরিবারকে আলোচনার জন্য মুলুন্ড থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় বিধায়ক মোহিত কোটেচা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনোজ কোটাকও পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন>>
মোদীকে নিয়ে মহাসড়কে নামলো উড়োজাহাজ
ভারতে চলন্ত গাড়ির ওপর ধসে পড়লো মেট্রোরেলের পিলার, নিহত ১
প্লেনে রাখা চিরকুটে লেখা ‘বোমা আছে’, কলকাতা বিমানবন্দরে আতঙ্ক
ভারত/ ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী!
যাদব সম্প্রদায়ের সদস্যরা দ্রুত লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। দাবি না মানা হলে সড়ক অবরোধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
রামধনী যাদব উত্তর প্রদেশের জৌনপুর জেলার ভরথানি গ্রামের নির্বাচিত প্রধান ছিলেন এবং সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ
রামধনীর এক আত্মীয় শশীকান্ত যাদব অভিযোগ করেন, গত শনিবার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পরিবারকে ১৫ লাখ রুপি এবং সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ রুপি সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে।
পরিবারের দাবি, রামধনীর তিন কন্যা রয়েছে। তাদের পড়াশোনা ও বিয়ের খরচ বহনের দায়িত্ব এখন পরিবারের ওপর। এই পরিস্থিতিতে ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয় বলে মনে করে তারা।
কীভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
গত শনিবার দুপুরে এলবিএস রোডের জনসন অ্যান্ড জনসন কারখানার কাছে নির্মাণাধীন উড়াল মেট্রো সেতুর প্যারাপেটের একটি অংশ একটি অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেটকারের ওপর ভেঙে পড়ে।
অটোরিকশাটি ধ্বংসস্তূপের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে। ঘটনাস্থলেই রামধনী যাদব নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবারই মুলুন্ড থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ ধারায় (খুন নয়, কিন্তু দণ্ডনীয় মানবহত্যা) এবং অন্যান্য ধারায় মিলান রোড বিল্ডটেক ও ডিবি হিল এলবিজি সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরে মিলান রোড বিল্ডটেকের প্রকল্প পরিচালক হরিশ চৌহান, প্রকল্প ব্যবস্থাপক কুলদীপ সাপক্যাল, ডেপুটি ম্যানেজার সৌরভ সিং, সুপারভাইজার প্রশান্ত ভোইর এবং ডিবি হিল এলবিজির প্রকল্প ব্যবস্থাপক অবধূত ইনামদারকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কেএএ/