ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি খেজুর চিনবেন কীভাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজানে ইফতারের টেবিলে খেজুর শুধু একটি ফল নয়, বরং ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ। তবে সম্প্রতি বিশ্ববাজারে বিক্রি হওয়া কিছু খেজুরের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে বিক্রিত বহুল জনপ্রিয় মেডজুল খেজুরের অধিকাংশই ইসরায়েলি পণ্য, যা চাষ করা হয় দখল করা ফিলিস্তিনি ভূমিতে।

খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো দখল করা পশ্চিম তীরের বসতিতে উৎপাদিত খেজুর কখনো ‘মেড ইন ওয়েস্ট ব্যাংক’ ফিলিস্তিনি পণ্য ইঙ্গিত করে এমন মোড়কে বাজারজাত করছে। ইউরোপ ও আরব বিশ্বে বয়কট কর্মসূচি জোরদার হওয়ার পর এই প্রবণতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মিশরভিত্তিক আল-গাদ টিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগে ‘মেড ইন ইসরায়েল’ লেখা বাক্সে বিক্রি হওয়া পণ্য পরে নতুন মোড়কে স্থানীয় উৎপাদন হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>
পরিচয় লুকিয়ে ভিন্ন লেবেলে বিক্রি হচ্ছে ইসরায়েলি খেজুর
মেডজুল খেজুরের ৫০ শতাংশই ইসরায়েলি, চাষ দখল করা ভূমিতে
রমজানে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক কলকাতায়

পরিচয় লুকিয়ে রপ্তানি

দখল করা ভূমিতে চাষ করায় ইসরায়েলি এসব মেডজুল খেজুর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিচয় লুকিয়ে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। এর প্যাকেজিংয়ে কখনো শুধু ‘ইসরায়েলি পণ্য’ অথবা ‘জর্ডান উপত্যকার পণ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ বাস্তবে সেগুলো দখল করা অবৈধ জমির ফসল। আর এই ব্যবসার পুরো মুনাফা যায় ইসরায়েলের কাছে।

এসব ইসরায়েলি মেডজুল খেজুর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আরব দেশগুলোসহ প্রায় সারা বিশ্বেই রপ্তানি হয়।

চেহারায় মিল, পার্থক্য ধরা কঠিন

জর্ডান উপত্যকা ও মৃত সাগর অববাহিকার আবহাওয়া প্রায় একই ধরনের হওয়ায় খেজুরের রং, আকার ও গঠন কাছাকাছি হয়। ফিলিস্তিনি বিক্রেতা মোহাম্মদ কায়েদ সালিম বলেন, ‘এসব খেজুর দেখতে প্রায় একই ধরনের।’

ফিলিস্তিনি পাম ও ডেটস কাউন্সিলের প্রধান ইব্রাহিম দায়ীক জানান, রপ্তানি করা ফিলিস্তিনি পণ্যে সাধারণত ৬২৫ দিয়ে শুরু হওয়া বারকোড এবং ‘প্রোডাক্ট অব প্যালেস্টাইন’ লেখা থাকে। ইসরায়েলি পণ্যে সাধারণত ৭২৯ দিয়ে শুরু হওয়া বারকোড দেখা যায়, কখনো ৮৭১-ও থাকতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করেন, কিছু কোম্পানি নতুন কার্টনে ভরে বা ডিস্ট্রিবিউটরের নাম বদলে চিহ্ন মুছে ফেলতে পারে। ফলে নির্ভরযোগ্য নথি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

ফিলিস্তিনি কৃষি সংস্থাগুলোর মতে, তাদের এবং ইসরায়েলের উৎপাদন পদ্ধতিতেও পার্থক্য আছে। ফিলিস্তিনি খেজুরে ঝরনা ও বিশুদ্ধ কূপের পানি ব্যবহার করা হয়। আর ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত খেজুরে পুনর্ব্যবহৃত বর্জ্য পানি সেচে ব্যবহৃত হয়, যা স্বাদ ও পুষ্টিগুণে প্রভাব ফেলতে পারে।

দেখে কি চেনা যাবে?

হ্যাঁ! আপনি অনেক সময় খালি চোখেই ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি খেজুরের পার্থক্য ধরতে পারবেন।

 

বাহ্যিক গঠন

ফিলিস্তিনি খেজুর সাধারণত প্রাকৃতিক মধুর মতো হালকা রঙের এবং আকারে মাঝারি হয়। এর চামড়া পাতলা এবং মাংসল অংশটি বেশ নরম ও রসালো হয়।

ইসরায়েলি খেজুর সাধারণত ফিলিস্তিনি খেজুরের তুলনায় বেশি গাঢ় রঙের এবং আকারে অনেক সময় বড় হয়।

পানির উৎসের প্রভাব

ফিলিস্তিনি খেজুরের গাছগুলো মূলত প্রাকৃতিক ঝরনা এবং পরিষ্কার কূপের পানিতে সেচ দেওয়া হয়, ফলে এর স্বাদ প্রাকৃতিক ও মিষ্টি হয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বসতিগুলোতে চাষ করা খেজুর অনেক সময় রিসাইকেল করা বা পরিশোধিত বর্জ্য পানিতে সেচ দেওয়া হয়, যা খেজুরের পুষ্টিগুণ ও স্বাদে প্রভাব ফেলতে পারে।

কালো দাগ

আল-জাজিরার তথ্যমতে, ইসরায়েলের দখল করা ভূমিতে অপরিশোধিত পানি ব্যবহার করায় সেখানে উৎপাদিত খেজুরের বিচির গায়ে কালো দাগ থাকতে পারে। সাধারণত, বিশুদ্ধ পানির চাষে উৎপাদিত ফিলিস্তিনি খেজুরে এ ধরনের দাগ থাকে না।

সূত্র: আল-জাজিরা, প্যালেস্টাইন ক্রনিক্যাল
কেএএ/