কুমিল্লা-১০ আসন
ধানের শীষ কোন ভূঁইয়ার, ভাগ্য নির্ধারণ বৃহস্পতিবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ও মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা হারানোর পর মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল এ আসনে।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন, অন্যদিকে মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গফুর ভূঁইয়ার রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানি হবে এদিন।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু।
জানা গেছে, কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার আগে বিএনপির অন্য প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নাগরিকতা নিয়ে জটিলতার কারণে উচ্চ আদালতে গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা টেকেনি। এরপর আদালতের নির্দেশে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন। এখন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আপিল আবেদন আর আবদুল গফুর ভূঁইয়া নিজেই আপিল বিভাগে প্রার্থিতা ফেরাতে আবেদন করেন। এখন দেখার পালা কোন ভূঁইয়া টিকে যান।
গত ২৫ জানুয়ারি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। এর পরের দিন ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পান মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণখেলাপি ও দলীয় প্রত্যয়নপত্র জমা না দেওয়ায় গত ৩ জানুয়ারি বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন। শুনানি নিয়ে নির্বাচন কমিশন গত ১৮ জানুয়ারি মোবাশ্বেরের আপিল নামঞ্জুর করে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ১৯ জানুয়ারি তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের দিনই মোবাশ্বের আলমকে বিএনপির মহাসচিব স্বাক্ষরিত দলীয় প্রত্যয়নপত্রে কুমিল্লা-১০ আসনের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে দলীয় মনোনয়ন দিলে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারীরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চূড়ান্ত মনোনয়নের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তবে আবদুল গফুর ভূঁইয়াকেই দল চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়। গত ৩ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বৈধতা পায়। পরে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হলফনামায় তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি গোপনের অভিযোগে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম ছিদ্দিকি।
এরপর ১৮ জানুয়ারি এ নিয়ে শুনানির পর গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে রিট করেন গফুর। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার করা রিটটি ২২ জানুয়ারি সরাসরি খারিজ করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট গফুর ভূঁইয়ার করা রিট খারিজ করে দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ঋণখেলাপি ও দলীয় প্রত্যয়ন নেই—এ দুই গ্রাউন্ডে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। মোবাশ্বের আলম গত ১০ ডিসেম্বর এককালীন অর্থ পরিশোধ করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ ডিসেম্বরের আগেই ঋণ পুনঃতফসিল হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যোগাযোগ করতে গিয়ে দেরি করেছে। পুনঃতফসিলের পরবর্তীসময়ে সব টাকা পেয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জানিয়েছে। তাই তিনি খেলাপি নন। আর দলীয় প্রত্যয়নপত্র ছাড়া তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরও বলেন, একই আসনে গফুর ভূঁইয়ার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি তার হলফনামায় গোপন করার অভিযোগে অন্য এক প্রার্থীর করা আপিলের কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ওই দিনই বিএনপি মোবাশ্বের আলমকে চূড়ান্ত করে দলীয় চিঠি তার হাতে তুলে দেয়। পরে তিনি দলীয় চিঠি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে হাজির হন মনোনয়নপত্রের বৈধতার জন্য। তবে হাতে হাতে চিঠি নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। পরে তিনি রিট করেন। সর্বশেষ মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২১ জানুয়ারি কুমিল্লা-১০ আসনে ছয়জনকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাতকে দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহাকে হাতপাখা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম ছিদ্দিকিকে ছড়ি, বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহম্মেদকে ডাব, গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফকে ট্রাক এবং আমজনতার দলের মো. আবদুল্লাহ আল নোমানকে প্রজাপতি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
কুমিল্লা-১০ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। কিন্তু দল মনোনয়ন দেয় একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থিতা টিকে যায়। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াও মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে। দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় সেটি যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। তবে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াই এখন এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। এখন দেখার পালা কে থাকেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এই আসনের বিএনপির কান্ডারি।
এফএইচ/বিএ
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ ধানের শীষ কোন ভূঁইয়ার, ভাগ্য নির্ধারণ বৃহস্পতিবার
- ২ বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানি ১ ফেব্রুয়ারি
- ৩ ৪১তম বিসিএসের ১৪ প্রার্থীকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের
- ৪ ৭ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা
- ৫ পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক সাইদুল ও তার স্ত্রীর সম্পদ জব্দের আদেশ