ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য পটাসিয়াম কেন জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬:১৯ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

র্ট আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশী, যা প্রতিনিয়ত রক্ত পাম্প করে শরীরের সব কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়। কিন্তু এই পাম্পিং মেশিনটি ঠিকভাবে কাজ করার জন্য শুধু ভালো ডায়েট বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়।

একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আছে - পটাসিয়াম - যা শরীরের অনেক কার্যকলাপের ‘ইলেকট্রিক’ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ পরিমাণে পটাসিয়াম না থাকলে হৃদযন্ত্র তার কাজ ঠিকমতো করতে পারেনা।

পটাসিয়াম কি এবং কী কাজ করে?

পটাসিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইলেক্ট্রোলাইট, যা রক্তে এবং কোষে ইলেকট্রিক্যাল চার্জ সমন্বয়ে সাহায্য করে। এটি শুধু হৃৎপেশী নয়, নিউরোন, কিডনি ও অন্যান্য পেশীর কাজেও অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। পটাসিয়াম মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়তা করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ বের করতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।

হার্টের জন্য পটাসিয়ামের উপকারিতা

১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
যখন শরীরে পটাসিয়াম পর্যাপ্ত থাকে, এটি রক্তনালির দেয়ালকে শিথিল করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দেয়, ফলে সিস্টোলিক রক্তচাপ কমে যায় - যা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

২. হৃদস্পন্দন নিয়মিত রাখে
পটাসিয়াম হৃৎপেশীর ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। এর অভাবে হার্ট অস্বাভাবিক ছন্দে বেজে যেতে পারে বা অ্যারিদমিয়া হতে পারে, যা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য পটাসিয়াম কেন জরুরি

৩. স্ট্রোক ও হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমায়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে - পটাসিয়ামযুক্ত খাদ্য যেমন কলা, পালং শাক বা কমলা খেলে রক্তচাপ কমে। কোপনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রায়ালে দেখা গেছে, পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ডায়েট হার্ট ফেইলিউর ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি প্রায় ২৪% কমাতে সাহায্য করেছে।

কোন খাবারে পটাসিয়াম পাওয়া যায়?

পটাসিয়াম আপনার দৈনন্দিন খাবারে সহজেই পাওয়া সম্ভব। যেমন - কলা, কমলা, খেজুর–এর মতো ফল, আলু, মিষ্টি আলু, পালং শাক, ব্রকলি, ডাল ও বাদাম, দুধ, দই, মাছ ও মাংস। এসব খাদ্য হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

কতটুকু দরকার?

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার ৪,৭০০ মিলিগ্রাম/দিন পটাসিয়াম ব্যালেন্সের জন্য সুপারিশ করে। কিন্তু কিডনি সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করা উচিত। পটাসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে ডাক্তারকে অবশ্যই জানান, কারণ খুব বেশি পটাসিয়ামও হার্টের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

নিজের ডায়েটে কি পরিবর্তন আনবেন?

>> লবণ কমান এবং পটাসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বাড়ান

>> প্রতিদিন ফল ও শাকসবজি খান

>> প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে স্বাভাবিক খাদ্য খান

পটাসিয়াম শুধু একটি খনিজ নয়, এটি হৃৎপেশীর রিদম, রক্তচাপ ও সার্বিক কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যকে সুরক্ষা দিতে অপরিহার্য।

সূত্র: ওয়েবএমডি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এএমপি/এমএস

আরও পড়ুন