ভালো বসের যে গুণগুলো থাকা উচিত
কাজের পরিবেশকে ইতিবাচক, ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক করার পেছনে একটি বড় ভূমিকা পালন করেন অফিসের বস বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। একজন ভালো বস শুধু নির্দেশ দেয় না- তিনি কর্মীকে অনুপ্রাণিত করেন, শ্রদ্ধা করেন এবং একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরি করেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক একজন ভালো বসের কোন গুণগুলো থাকা একান্ত প্রয়োজন -
১. উৎসাহী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
একজন ভালো বস নিজের কাজের প্রতি উত্সাহী থাকেন এবং সেই উদ্দীপনা কর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কাজের উদ্দেশ্য বোঝাতে পারলে কর্মীরা সেই লক্ষ্য পূরণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।
২. ধারাবাহিক ও নির্দিষ্ট
বস যদি নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রত্যাশা জানান, তাহলে কাজের পরিবেশ স্থিতিশীল থাকে। ধারাবাহিক আচরণ কর্মীর মাঝে ন্যায়বোধ ও নিরাপত্তা তৈরি করে।

৩. শান্ত ও স্বচ্ছ চিন্তা
সমস্যা যখন জটিল হয়ে যায় বা অফিসে কাজের চাপ বাড়ে, তখন রেগে বা হতাশ হয়ে ওঠা কোনো সমাধান দেয় না। ভালো বস পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় বিচার করেন এবং সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেন।
৪. সহানুভূতিশীল ও মনোযোগী
কর্মীদের কথা মন দিয়ে শোনা, তাদের অনুভূতি বোঝা আর সহানুভূতি দেখানো ভালো বসের অন্যতম বড় গুণ। এতে যোগাযোগ আরও মসৃণ হয় এবং কর্মীরা নিজেদের মূল্যবান মনে করে।

৫. নম্রতা ও উদার মানসিকতা
ভালো বস কখনো নিজের ভুল লুকান না। ভুল হলে তা স্বীকার করেন এবং দলের উন্নতির জন্য নিজেদের শেখার প্রতিজ্ঞা করেন। এতে কর্মীরা নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করেন।
৬. সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা
টিমকে এগিয়ে নিতে সময়ে সময়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এমন সময়ে নিজ নিরাপত্তা বা ভয় ভুলে তথ্য ও বাস্তবতা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা একটি ভালো বসকে আলাদা করে তোলে।
৭. সততা ও স্বচ্ছতা
সত্য প্রকাশ ও স্বচ্ছভাবেই সম্পর্ক গড়া সম্ভব হয়। কর্মীরা একটি প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসে যেখানে তাদের বস সবসময় খোলামেলা ও সততার সঙ্গে কথা বলেন।
৮. অনুপ্রেরণা ও প্রশংসা
কোনো কাজ ভালোভাবে করলে শুধু বলা ভালো - এটা বড় কথা। প্রশংসা, প্রশিক্ষণ বা উপযুক্ত স্বীকৃতি কর্মীদের মনোবল বাড়ায় এবং তাদের কর্মদক্ষতাও উন্নত করে।
৯. ব্যক্তিগতভাবে যত্ন নেয়া
একজন ভালো বস কর্মীর কাজের বাইরেও তাদের জীবনের প্রতি আগ্রহ দেখান - তাদের পরিবার, ইচ্ছা ও স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চান। এভাবে সম্পর্ক শক্ত হলে টিমও সুসংহত হয়।
১০. খোলা মন ও দলগত চিন্তা
বিচার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সতর্ক ও খোলা মন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের মতামত শুনে টিমও আরও শক্তিশালী এবং নতুন ধারণার দিকে এগোতে পারে।
সূত্র: ইনডিড
এএমপি/জেআইএম