রমজানে ক্লান্ত নয়, প্রাণবন্ত ত্বক চাইলে যা করবেন
সহজ ঘরোয়া যত্ন মেনে চললে রোজার সময়ও ত্বক রাখা যায় উজ্জ্বল। ছবি: এআই:
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও পানি ছাড়া থাকার কারণে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের ওপর প্রভাব পড়ে। সারাদিন পানি না খাওয়া, ঘুমের অনিয়ম এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের ফলে ত্বক শুষ্ক, নিস্তেজ ও প্রাণহীন হয়ে যায়।
অনেকের ক্ষেত্রে ব্রণের সমস্যা, অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব, চোখের নিচে কালো দাগ কিংবা ঠোঁট ফাটার সমস্যা বাড়ে । ফলে আয়নায় তাকালেই ক্লান্ত ও মলিন চেহারা চোখে পড়ে।
তবে সামান্য সচেতনতা ও কিছু সহজ ঘরোয়া যত্ন মেনে চললে রোজার সময়ও ত্বক রাখা যায় উজ্জ্বল ও সতেজ। এখন থেকেই সঠিক রুটিন শুরু করলে ঈদের সময় ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত ও দীপ্তিময়।
১. বরফ থেরাপি ও সতেজতার সহজ উপায়
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুখে হালকা করে বরফ ঘষে নিতে পারেন। এতে চোখের ফোলা ভাব অনেকটাই কমে যায় এবং ত্বক টানটান দেখায়। বাইরে বের হওয়ার আগেও একইভাবে বরফ ব্যবহার করলে ত্বক আরও সতেজ লাগে। বরফ ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, কোষকে সজীব করে তোলে এবং অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব কমাতে সাহায্য করে। ফলে মুখ আর মলিন দেখায় না।
এছাড়া দিনে কয়েকবার পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখে ঝাপটা দিন। এতে ত্বকের কোষ সতেজ থাকে এবং ধুলাবালি জমে নিস্তেজ হয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে।
২. ময়েশ্চারাইজিং ও সানস্ক্রিনের গুরুত্ব
রমজানে ত্বক সহজেই আর্দ্রতা হারায়। তাই প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরকে অটুট রাখে এবং সংবেদনশীলতা কমায়। দিনে অন্তত দুইবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
ত্বক যদি বেশি শুষ্ক হয়, তবে ভারী বা রিচ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ফেইস মিস্ট বা হালকা ফেস অয়েলও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। আর দিনের বেলা বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। রোজার সময় ত্বক কিছুটা নাজুক অবস্থায় থাকে, তাই সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।
৩. রাতের যত্ন ও ঘরোয়া মাস্ক
সারাদিনের ক্লান্তির পর রাতে ত্বককে বাড়তি যত্ন দেওয়া প্রয়োজন। হাইড্রেটিং মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বকের পানিশূন্যতা দূর হয়। অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মুখে লাগাতে পারেন। এছাড়া সমপরিমাণ টক দই, মধু ও সামান্য হলুদগুঁড়া মিশিয়ে মাস্ক বানিয়ে ব্যবহার করা যায়।
অতিরিক্ত তেল ও ব্রণের সমস্যায় মুলতানি মাটি ও গোলাপজল মিশিয়ে লাগাতে পারেন। চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে ঠান্ডা টি-ব্যাগ, শসার রস বা আলুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে চোখের চারপাশ অনেকটাই সতেজ দেখাবে।
৪. খাবারের প্রতি সচেতনতা জরুরি
ত্বকের যত্ন শুধু বাহ্যিকভাবে নিলেই হবে না, খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে পরিবর্তন। ইফতার ও সেহরিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ফল, শাকসবজি, বাদাম ও মাছ ত্বকের জন্য উপকারী।
চিনি, প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করে তোলে। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়াই ভালো। ইফতার ও সেহরির মাঝে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৫. ত্বকের যত্নে নিয়মিত রুটিন
রমজানে খাওয়া ও ঘুমের সময় বদলে যায়, তাই ত্বকের যত্নের রুটিনেও সামঞ্জস্য আনা প্রয়োজন। ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং ও সানস্ক্রিনএই তিনটি ধাপ নিয়মিত অনুসরণ করুন। রাতে হালকা স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চললে ত্বক থাকবে সুস্থ ও উজ্জ্বল।
সূত্র: বিবিসি, গালফ নিউজ ও অন্যান্য
আরও পড়ুন:
মেকআপের আগে প্রাইমার ব্যবহার জরুরি কেন?
বসন্তে ত্বকে চাই বিশেষ যত্ন
এসএকেওয়াই/