বাস্তবে প্রেম, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস সিঙ্গেল কেন
ছবি: সংগৃহীত
কিছু বছর আগেও বেশিরভাগ জুটি তাদের জীবনের ছোট-বড় মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করত। ভ্রমণ, ডিনার, জন্মদিন বা সেলিব্রেশন-সবকিছু যেন সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা। তবে বাস্তবে দেখা যেত অনেকের সম্পর্কের ভিত মজবুত নয়। তারপরও তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পারফেক্ট কাপল’ হিসেবে হাজির হত।
সম্প্রতি এই প্রবণতা বদলেছে। অনেক কাপলরাই আর সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরের ছবি পোস্ট করেন না। নতুন একটি ধারা দেখা দিয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘সফট লঞ্চিং’। অর্থাৎ ডেট করছেন, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি প্রকাশ করছেন না। সম্পর্কের খুঁটিনাটি বা সঙ্গীর পরিচয় গোপন রেখে তারা শুধু ছোট হাইলাইট বা টিজার শেয়ার করেন। কিন্তু আরও নতুন ট্রেন্ড এসেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘নো লঞ্চ’।

নো লঞ্চ কী?
নো লঞ্চ হলো সম্পর্কের এমন একটি ধারা যেখানে যুগলরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের রিলেশনশিপের অস্তিত্ব প্রকাশ করেন না। রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সিঙ্গেল থাকে, যদিও বাস্তবে সম্পর্ক মজবুত। এখানে কেউ জানতে পারে না সে কার সঙ্গে আছেন। এই ধারা অযাচিত ঝামেলা, ট্রোলিং ও অন্যের মন্তব্য থেকে রক্ষা করে। যারা চাইছেন সম্পর্ককে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রাখতে, তাদের জন্য নো লঞ্চ কার্যকর।

কেন মানুষ নো লঞ্চ পছন্দ করছে?
সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে সম্পর্ক রাখা মানে মানসিকভাবে নিরাপদ ও ব্যক্তিগত থাকা। শুরুতে কাপলরা চাইতে পারেন সম্পর্কটা শুধু নিজেদের মধ্যে শক্তিশালীভাবে গড়ে উঠুক, বাইরে কেউ তার ওপর চাপ বা তুলনা তৈরি না করুক। যারা আগে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য নতুন সম্পর্কটি প্রকাশ না করা নিরাপদ মনে হতে পারে। ‘নো লঞ্চ’ এই কারণে সাহায্য করে, এটি সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রাখে, বিশ্বাস পরীক্ষা করতে দেয় এবং সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।

নো লঞ্চের সুবিধা ও অসুবিধা
নো লঞ্চে সম্পর্ক ব্যক্তিগত থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা স্ট্যাটাস প্রকাশ না করার কারণে যুগলরা বাহ্যিক চাপ ও মন্তব্য থেকে মুক্ত থাকে। এতে কাপলদের মধ্যে ইমোশনাল ইন্টিমেসি বৃদ্ধি পায়। সম্পর্কের ভিত আরও শক্তিশালী হয় কারণ তাদের মনোনিবেশ থাকে একে অপরের বোঝাপড়া ও সমঝোতার উপর। এছাড়া এই ধারা সম্পর্কের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ কমিয়ে আনে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিছু বিষয় ব্যক্তিগত রাখা ভালো। যুগলদের উচিত সম্পর্কের মান নির্ধারণ করা বাইরের মানুষের মন্তব্য বা তুলনার ওপর নয়। সম্পর্কের খুঁটিনাটি প্রকাশ না করে ব্যক্তিগত রাখলে যুগলরা নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস ও বোঝাপড়া গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। নো লঞ্চ এই ক্ষেত্রেই সহায়ক।
তবে কিছু অসুবিধাও থাকতে পারে। যদি দুজন একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা না করে, একজন সঙ্গী এটিকে অনিশ্চয়তা, প্রতিশ্রুতির অভাব বা দায়িত্বের ঘাটতি মনে করতে পারে। বিশেষ করে যারা অতীতে গোপনীয়তা বা প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, তাদের জন্য এটি নিরাপত্তাহীনতা বা অতিরিক্ত চিন্তার কারণ হতে পারে। মাঝে মাঝে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব বা যোগাযোগের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরও পড়ুন:
জীবনে কতবার আসে সত্যিকারের প্রেম?
পুরুষরা কেন বয়সে বড় নারীর প্রেমে পড়েন
এসএকেওয়াই/