ডায়াবেটিস রোগীর রোজা কখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়? চেনার উপায় জানুন
সেহরি খেয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে রোজা শুরু করলেন। দুপুরের পর হালকা মাথা ঘোরা, বিকেলে অস্বাভাবিক দুর্বলতা - ভাবলেন হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু এসবই হতে পারে বিপদের সংকেত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজার সময় শরীরের প্রতিটি সিগন্যাল গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা বেড়ে যেতে পারে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)। দুটোই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আগে থেকেই জানা দরকার – কোন লক্ষণগুলো ঝুঁকির দিকে নির্দেশ করে।
১. রক্তে শর্করা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার-এর নিচে নেমে গেলে
আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রক্তে শর্করা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার নিচে নামলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া হিসেবে ধরা হয়। এই অবস্থায় ঘাম, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি হতে পারে। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভাঙা জরুরি।
২. রক্তে শর্করা ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার-এর ওপরে গেলে
অতিরিক্ত উচ্চ শর্করাও সমান বিপজ্জনক। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের রমজান গাইডলাইন অনুযায়ী, সুগার ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার ছাড়ালে রোজা চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
৩. অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার ভাব
শুধু সংখ্যার ওপর নির্ভর নয়, লক্ষণ বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ক্লান্তি, চোখে ঝাপসা দেখা, বুক ধড়ফড় বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি হলে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. বমি, ডায়রিয়া বা জ্বর হলে
এই অবস্থায় শরীরে পানিশূন্যতা দ্রুত বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডিহাইড্রেশন ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই অসুস্থ অবস্থায় রোজা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৫. যাদের আগে থেকেই উচ্চ ঝুঁকি আছে
টাইপ–১ ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত সুগার, কিডনি বা হৃদ্রোগ থাকলে রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের স্পষ্ট পরামর্শ জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে রোজা না রাখাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য রোজা রাখা সম্ভব, তবে শর্ত হলো সচেতনতা ও নিয়মিত মনিটরিং। ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের শরীরের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহ হলে দেরি নয় - চিকিৎসা নিন।
সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (রমজান গাইডলাইন), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এএমপি/জেআইএম