রাতে ভাত খেলে শরীরে যা হয়
এআই ছবি
ভাত ছাড়া আমাদের অনেকেরই যেন চলেই না। খাবার টেবিলে যত সুস্বাদু পদই থাকুক, ভাত না থাকলে যেন তৃপ্তি আসে না। অনেকেই দিনে তিনবেলা ভাত খান। তবে প্রশ্ন উঠেছেরাতে ভাত খাওয়া কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর? বিশেষ করে ওজন বৃদ্ধি বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কি এতে বাড়ে? চলুন বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
রাতে কি ভাত খাওয়া ঠিক নয়
অনেকের ধারণা, রাতে ভাত খেলে পেটের সমস্যা বা ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভাত একটি সহজপাচ্য খাবার। বিশেষ করে সাদা ভাত দ্রুত হজম হয় এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। তাই রাতে পরিমিত পরিমাণে ভাত খেলে সাধারণত হজমের সমস্যা হয় না। বরং কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার অনেক সময় ভালো ঘুম আনতেও সহায়ক হতে পারে।
তবে সমস্যা হয় তখনই, যখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাত খাওয়া হয় অথবা সারাদিনের মোট ক্যালরির হিসাব না রাখা হয়। অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে তা ভাত হোক বা অন্য কোনো খাবার।

ওজন কমাতে চাইলে যেভাবে খাবেন
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য পরিমিতি বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাতে যদি ভাত খেতেই হয়, তবে সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল বা ব্রাউন রাইস খাওয়া ভালো। লাল চালে আঁশ (ফাইবার) বেশি থাকে, যা হজম ধীর করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
সাদা ভাতে আঁশ কম থাকায় এটি দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। ঘন ঘন বা বেশি পরিমাণে খেলে দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি কিংবা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সবজি, প্রোটিন ও সালাদ বাড়ানো যেতে পারে।
কতটুকু ভাত খাবেন
একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ভাতের পরিমাণ তার উচ্চতা, ওজন, বয়স ও শারীরিক পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার একজন ব্যক্তি দিনে প্রায় ১৫০ গ্রাম চালের ভাত খেতে পারেন,অর্থাৎ একবেলায় প্রায় ৭৫ গ্রাম চালের ভাত, দিনে দুই বেলা।

তবে এটি সবার জন্য এক নয়। যাদের শারীরিক পরিশ্রম বেশি, তাদের ক্যালরির চাহিদাও বেশি। আবার যাদের ওজন বেশি বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ভাতের পরিমাণ কমানো প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একজন ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
ডায়াবেটিসে ভাত খাওয়া যাবে
ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অনেকেই ভাত পুরোপুরি বাদ দিতে চান। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ভাত এড়িয়ে চলা সবসময় প্রয়োজন হয় না। মূল বিষয় হলো-পরিমাণ ও ধরনের নির্বাচন। লাল চাল, আটার রুটি বা কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত কার্বোহাইড্রেট বেছে নেওয়া ভালো।
ভাত খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়তে পারে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ছোট পরিমাণে, সবজি ও প্রোটিনের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া উচিত। নিয়মিত রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই নিরাপদ উপায়।
রাতে ভাত খাওয়া নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। সমস্যা তৈরি হয় অতিরিক্ত খাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং ক্যালোরির ভারসাম্যহীনতায়। সঠিক পরিমাণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম বজায় রাখলে ভাতও হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হিন্দুস্তান টাইমস
আরও পড়ুন:
রাতে যে ফলের রস পান করলে সকালে গলায় আরাম পাবেন
রাতে ভালো ঘুমের জন্য পান করুন ভেষজ চা
এসএকেওয়াই/জেআইএম