ঈদের ছুটির পর বাসায় ফিরে যেসব কাজ করবেন
ছবি: এআই
ঈদ মানেই আনন্দ, ভ্রমণ, অতিথি আপ্যায়ন আর নতুন স্মৃতির ঝুলি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটিয়ে আবারও সবাই ফিরে আসেন কর্মব্যস্ত শহরের জীবনে। ছুটির আমেজ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় অফিস, পড়াশোনা কিংবা দৈনন্দিন দায়িত্ব। তবে এই ব্যস্ততায় ফিরে যাওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো,ঈদের পর বাড়ি ফিরে প্রথমে কী করবেন?
কয়েকদিন ঘর ফাঁকা থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কিছু অস্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে। বন্ধ জানালা, জমে থাকা ধুলা, গুমোট পরিবেশ মিলিয়ে চেনা ঘরটিও যেন একটু অচেনা লাগে। তাই ব্যস্ত জীবনে ফেরার আগে দরকার নিজের ঘরটিকেই আবার নতুন করে প্রস্তুত করে নেওয়া।
প্রথমে দরজা খুলে ভেতরের পরিস্থিতি বুঝে নিন
বাসায় ফিরে দরজা খুলেই তাড়াহুড়া করে ভেতরে ঢুকে পড়া ঠিক নয়। প্রথমে ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করুন এবং শিশুদেরও সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে ঢুকতে না দেওয়াই ভালো। ঘরের ভেতরে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না, বিশেষ করে কোনো অচেনা গন্ধ বা গ্যাসের মতো কিছু অনুভূত হচ্ছে কি না, তা খেয়াল করুন।
এ সময় একেবারেই ইলেকট্রিক সুইচ জ্বালাবেন না। কারণ, দীর্ঘদিন ঘর বন্ধ থাকলে গ্যাস লিকেজের সম্ভাবনা থাকতে পারে, যা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই প্রথমেই পরিবেশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

বাসার প্রতিটি জানালা খুলে দেওয়া
বাসায় ফিরেই প্রতিটি জানালাখুলে দিতে হবে। দীর্ঘদিন দরজা-জানালা বন্ধ থাকলে ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে না, ফলে গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি হয়। জানালা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকে তাজা বাতাস ও সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করবে, যা ঘরের পরিবেশকে সতেজ ও স্বাভাবিক করবে।
বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো চালু করা
বাসার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো, যা বাইরে যাওয়ার আগে বন্ধ করা হয়েছিল, তা আবার চালু করুন। ফ্রিজে রাখা খাবারের অবস্থা পরীক্ষা করুন; বিশেষ করে ডিপ ফ্রিজে খাবার নষ্ট হয়ে গেলে তা ফেলে দেওয়া উত্তম। এছাড়া গ্যাস, ওভেন বা অন্য কোনো সরঞ্জাম পরীক্ষা করুন যেন ক্ষতিকারক লিকেজ বা সমস্যা না থাকে।
গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে সতর্কতা
বাসায় ফিরে সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চুলা চালানো ঠিক নয়। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকার কারণে গরম ও গুমোট বাতাসে ক্ষতিকারক গ্যাস জমে থাকতে পারে। তাই প্রথমে রান্নাঘরের জানালা খুলে ঘরের বাতাসকে স্বাভাবিক করুন, তারপর চুলা চালান।
এসি চালানো এড়িয়ে চলা
দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই এসি সঙ্গে সাথেই চালিয়ে দেন। কিন্তু ঘরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে এসি চালানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কারণ ভেতরের গরম বাতাস এবং ধুলা এসিতে প্রবেশ করতে পারে। কিছু সময় ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠাণ্ডা হতে দিন।
মশা দূর করতে অ্যারোসল স্প্রে ব্যবহার করা
শহরে বিশেষ করে এই সময়ে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। কয়েকদিন ঘর ফাঁকা থাকলে সেই সুযোগে মশা বাসা বাঁধতে পারে। তাই বাসায় ফিরে প্রতিটি রুমে মশা প্রতিরোধে অ্যারোসল স্প্রে করা জরুরি। তবে স্প্রে করার আগে অবশ্যই দরজা-জানালা খুলে ঘরের ভেতর তাজা বাতাস প্রবেশ করান। এতে গুমোট পরিবেশ দূর হবে।
গাছপালার খোঁজ নেওয়া
ঈদের ছুটির সময়ে গাছপালার যত্নে অনেকে সরাসরি নজর দিতে পারেন না। বাসায় ফিরে গাছের অবস্থা পরীক্ষা করুন। যদি পানির অভাব থাকে, পর্যাপ্ত পানি দিন। পাতা বা মাটি শুকিয়ে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব পানি দিন এবং প্রয়োজনে সার ব্যবহার করুন।
ঘর পরিষ্কার করা
ঘর পরিষ্কার করা দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দীর্ঘদিন বাইরে থাকার কারণে ধুলা, ময়লা এবং অগোছালো অবস্থায় আসবাবপত্রের উপর জমে থাকে। ঘরে প্রবেশ করার পর ঝাড়ু দিয়ে ধুলো তোলা ও মেঝে পরিষ্কার করা মনকে উজ্জীবিত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
- আরও পড়ুন:
জেন-জি কেন এক জায়গায় বেশি দিন কাজ করতে চায় না
ভ্রমণে দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের যেসব নিয়ম মানা জরুরি
এসএকেওয়াই