ডেটিংয়ে নতুন ট্রেন্ড, পোষাপ্রাণী দিয়ে ইমপ্রেশন তৈরি
ছবি: এআই
আজকের দিনে ডেটিং অ্যাপ মানেই শুধু প্রোফাইল ছবি নয়, বরং নিজের ব্যক্তিত্ব উপস্থাপনের একটি ডিজিটাল মঞ্চ। শহরের রাস্তাঘাট, জিম, ক্যাফে বা ভ্রমণের ছবিসহ প্রায় সবকিছুই ব্যবহার করা হয় অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। কিন্তু এই ভিড়ে সঠিক মানুষের নজর পাওয়া সহজ নয়। তাই অনেকেই এখন ভিন্নভাবে নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন কৌশল ব্যবহার করছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো পেট-ফিশিং।
পেট-ফিশিং আসলে কী?
‘পেট ’ মানে পোষা প্রাণী আর ‘ফিশিং’ মানে আকর্ষণ করে টেনে আনা। এই দুই শব্দ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে পেট-ফিশিং ধারণা। ডেটিং অ্যাপে নিজের ছবির বদলে বা ছবির সঙ্গে কুকুর বা বিড়ালের ছবি ব্যবহার করে অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
এর মাধ্যমে অনেকে প্রথম দেখাতেই একটি বন্ধুসুলভ এবং ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে চান। এটি শুধু প্রেমের ক্ষেত্রে নয়, বন্ধুত্ব বা সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনেও দেখা যায়। অনেক সময় মানুষ নিজের ছবি, বয়স, জীবনধারা বা ব্যক্তিত্বকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করে, যাতে অন্যকে আকৃষ্ট করা যায়।
মানুষ কেন এতে আকৃষ্ট হচ্ছে?
বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে দ্রুত সংযোগ তৈরি করার প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই মনে করেন, পোষা প্রাণীর ছবি দেখলে মানুষকে সহজে বিশ্বাস করা যায় এবং সে ব্যক্তি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল বলে মনে হয়।
অনলাইন যোগাযোগের এই ফাস্ট কানেকশন অনেকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবেও কাজ করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এটি বেশি জনপ্রিয়, কারণ তারা সম্পর্কের শুরুতেই একটি ইতিবাচক ইমপ্রেশন তৈরি করতে চায়।

এছাড়া তরুণদের বড় একটি অংশ পোষা প্রাণীকে গ্রিন ফ্ল্যাগ হিসেবে দেখে। অর্থাৎ কেউ যদি প্রাণী ভালোবাসে, তাহলে সে ব্যক্তি দায়িত্ববান ও যত্নশীল হতে পারে, এমন ধারণা তৈরি হয়। বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তারা মনে করেন, পোষ্য থাকা মানেই একটি আবেগপূর্ণ ও স্থিতিশীল ব্যক্তিত্বের ইঙ্গিত।
মানুষ পেট ফিশিং যে কারণে করছে
পেট ফিশিংয়ের পেছনে বিভিন্ন মানসিক ও সামাজিক কারণ কাজ করে। অনেকে নিজের বাস্তব জীবনের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ঢাকতে অনলাইনে ভিন্ন পরিচয় তৈরি করে। বাস্তব জীবনে যে আকর্ষণ বা গ্রহণযোগ্যতা তারা পান না, সেটি অনলাইনে পাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার কেউ কেউ কৌতূহল বা বিনোদনের জন্যও এমন করেন। এতে তারা এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা গ্রহণযোগ্যতার অনুভূতি পান। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণেও মানুষ আংশিক ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে থাকেন, যদিও তা সবসময় নেতিবাচক উদ্দেশ্যে নয়।
মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও আকর্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোষা প্রাণীর ছবি মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করে। এটি সহানুভূতি, কোমলতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়। ডেটিং অ্যাপে যখন কেউ কুকুর বা বিড়ালের ছবি দেখে, তখন তার মধ্যে একটি আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ঝুঁকি ও বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পেট-ফিশিং অনেক সময়‘হ্যালো ইফেক্ট’ তৈরি করতে পারে, যেখানে শুধু পোষা প্রাণীর ছবি দেখে একজন মানুষকে অতিরিক্ত ইতিবাচকভাবে বিচার করা হয়। ব্যক্তি প্রতারিত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। ফলে প্রতারিত হলে তার মধ্যে বিশ্বাস ভেঙে যায়। পরবর্তী সম্পর্কেও সন্দেহ তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব দেখা হলে সম্পর্ক ভেঙে যায়, কারণ অনলাইন পরিচয় ও বাস্তবতার মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে।
বাস্তব ডেটিং অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন
পেট-ফিশিং শুধু অনলাইন প্রোফাইলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বাস্তব ডেটিং অভিজ্ঞতাতেও এর প্রভাব পড়ছে। অনেকেই এখন প্রথম ডেট হিসেবে কফি শপের বদলে পার্কে হাঁটা বা পোষ্য নিয়ে সময় কাটানো বেছে নিচ্ছেন।
একটি সম্পর্ক টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন বোঝাপড়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৎ যোগাযোগ এবং মানসিক সামঞ্জস্য। তাই শুধু পোষা প্রাণীর ছবি নয়, সম্পর্কের আসল ভিত্তি গড়ে ওঠে মানুষের সত্যিকারের আচরণ ও অনুভূতির ওপর।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই