ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

দ্রুত বের হতে গিয়ে স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছেন না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:২৬ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পরই শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস সবারই যেন সময়ের সঙ্গে লড়াই। তাড়াহুড়োর এই অভ্যাসে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয় একটি বিষয় সকালের খাবার। অনেকেই মনে করেন, আজ না হয় নাশতা বাদই দিলাম, সময় নেই। কিন্তু প্রতিদিনের এই ছোট সিদ্ধান্ত কি অজান্তেই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের? ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে গিয়ে আমরা শরীরের মৌলিক চাহিদাকেই উপেক্ষা করছি না তো?

রাতভর উপবাসের পর শরীরের অবস্থা কেমন থাকে?

রাতের খাবার খাওয়ার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত আমাদের শরীর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকে। সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কোনো খাবার যায় না শরীরে। এই সময় শরীর জমা শক্তি ব্যবহার করে কাজ চালায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। সকালের খাবার না খেলে শরীর পর্যাপ্ত গ্লুকোজ পায় না। ফলে দেখা দিতে পারে-

  • মাথা ঘোরা
  • দুর্বল লাগা
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • খিটখিটে মেজাজ
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় কাজ করেন, পড়াশোনা করেন বা শারীরিক পরিশ্রম করেন তাদের জন্য সকালের খাবার বেশি জরুরি।

মনোযোগ ও কর্মক্ষমতায় প্রভাব

সকালের খাবার মস্তিষ্কের জন্য জ্বালানির মতো কাজ করে। মস্তিষ্ক প্রধানত গ্লুকোজ থেকে শক্তি পায়। খালি পেটে বের হলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত শক্তি না পেয়ে ধীর হয়ে যেতে পারে। ফলে অফিসে কাজের গতি কমে যায়, শিক্ষার্থীদের পড়ায় মন বসে না, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়, ছোটখাটো ভুল বেড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত নাশতা করা ব্যক্তিদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি তুলনামূলক ভালো থাকে। অর্থাৎ দিনের শুরুটা ঠিক না হলে সারাদিনের পারফরম্যান্সও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন: 

গ্যাস্ট্রিক ও হজমজনিত সমস্যা

খালি পেটে দীর্ঘ সময় থাকলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরি হতে থাকে। খাবার না থাকলে এই অ্যাসিড সরাসরি পাকস্থলীর দেয়ালে প্রভাব ফেলে। এতে বাড়তে পারে
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, বুক জ্বালা, অস্বস্তি, বমিভাব। যাদের আগে থেকেই আলসার বা অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে খালি পেটে বের হওয়া পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে উল্টো প্রভাব

অনেকে মনে করেন, নাশতা বাদ দিলে ক্যালোরি কমবে, ফলে ওজনও কমবে। বাস্তবে অনেক সময় এর উল্টোটা ঘটে। সকালে না খেয়ে থাকলে দুপুরে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে। তখন অনেকেই বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, আবার দ্রুত নেমেও যায় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস বিপাকক্রিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

রক্তচাপ ও শর্করার ওঠানামা

বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য খালি পেটে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নির্দিষ্ট সময় খাবার না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে, যা বিপজ্জনক। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে খাবার ও ওষুধের সময়ের সমন্বয় জরুরি। খালি পেটে ওষুধ খাওয়া অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্ক আছে

ক্ষুধা শুধু শরীর নয়, মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় না খেলে মেজাজ খারাপ হওয়া, অস্থিরতা, উদ্বেগ এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ব্যস্ত সকালে যখন ট্রাফিক, কাজের চাপ, সময়ের সংকট সব মিলিয়ে মানসিক চাপ বাড়ে, তখন শরীর যদি পর্যাপ্ত শক্তি না পায়, চাপ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

সবাই একইভাবে প্রভাবিত না হলেও কিছু মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যেমন- শিশু ও কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস রোগী, অতিরিক্ত পরিশ্রমী কর্মজীবী মানুষ, যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে। এই গোষ্ঠীর মানুষের জন্য সকালের খাবার বাদ দেওয়া আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

তাহলে কী করবেন ব্যস্ত সকালে?

বাস্তবতা হলো সবাই বিশদ আয়োজন করে নাশতা করার সময় পান না। তবে সমাধান আছে। সহজ ও দ্রুত খাবার বেছে নিন। সকালের নাশতায় রাখুন ডিম সেদ্ধ, কলা, ওটস, দই, চিড়া, বাদাম এগুলো দ্রুত খাওয়া যায় এবং পুষ্টিকর।

ঘুমানোর আগেই প্রস্তুতি নেন। রাতে চিড়া ভিজিয়ে রাখা, ফল কেটে রাখা বা সেদ্ধ ডিম তৈরি করে রাখলে সকালে সময় বাঁচে। অল্প হলেও কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে শুধু শুধু চা-কফি দিয়ে সকাল শুরু করবেন না। কারণ খালি পেটে শুধু চা বা কফি অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে হালকা খাবার যোগ করা ভালো।

খালি পেটে বের হওয়া কি কখনো ঠিক?

কিছু মানুষ বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন, যেখানে নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা হয়। তবে এটি সবার জন্য উপযোগী নয়। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজের শরীরের প্রয়োজন, বয়স, রোগের ইতিহাস সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

ছোট সিদ্ধান্ত, বড় প্রভাব

প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলে। ‘আজ না হয় নাশতা বাদ’ এই ভাবনা যদি নিয়মে পরিণত হয়, তবে তা ধীরে ধীরে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সকাল মানেই শুধু দৌড় নয়, দিনের ভিত্তি গড়ে তোলার সময়। সেই ভিত্তিটা যদি দুর্বল হয়, সারাদিনই তার প্রভাব পড়বে।

ব্যস্ততা আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু সুস্থ না থাকলে সেই ব্যস্ততার কোনো অর্থ থাকে না। দ্রুত বের হতে গিয়ে যদি নিয়মিত খালি পেটে থাকেন, তবে একবার ভেবে দেখুন সময় বাঁচাতে গিয়ে আপনি কি স্বাস্থ্যকেই ঝুঁকিতে ফেলছেন? দিনের শুরুটা হোক সচেতন সিদ্ধান্তে। কারণ সুস্থ শরীরই সফল দিনের প্রথম শর্ত।

তথ্যসূত্র: এমডিপিআই

জেএস/

আরও পড়ুন