চুলের রং ধরে রাখার জন্য খেতে পারেন এই ৫ খাবার
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো
চুলে বয়সের আগেই সাদা ছোঁয়া দেখা অনেকের জন্যই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তবে এর পিছনে থাকে সাধারণ কিছু কারণ। যেমন-পুষ্টির অভাব, মানসিক চাপ বা অনিয়মিত জীবনধারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলের প্রাকৃতিক রং দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখতে এবং অকাল পাকা রোধ করতে খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব অনেক বেশি।
কেন হঠাৎ চুল পেকে যায়?
যদি হঠাৎ কয়েকটি চুল সাদা হয়ে যায়, তাহলে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। বয়স এখনও কম, তাহলে চুল কেন অকালেই সাদা হতে শুরু করলো? প্রকৃতির নিয়মে চুল একদিন সাদা হবে। কিন্তু জেনেটিক কারণ, মানসিক চাপ বা শরীরের ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি অনেক সময় চুলকে অকালেই পাকা করে তোলে। চুলের রং নির্ভর করে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থের উপর। শরীরে নির্দিষ্ট পুষ্টির অভাব হলে মেলানিন উৎপাদন কমে যায় আর তখনই দেখা দেয় অকাল পাকা চুলের সমস্যা।
খাবারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খেলে চুলের প্রাকৃতিক রং ধরে রাখা সহজ হয়।
কপার সমৃদ্ধ খাবার (ঝিনুক, মাশরুম, আলু)
কপার বা তামা মেলানিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে কপারের ঘাটতি হলে চুলের রং ফিকে হয়ে যেতে পারে। ঝিনুক ও গরুর কলিজা তামার ঘন উৎস আর আলু ও মাশরুম থেকেও প্রয়োজনীয় কপার পাওয়া যায়। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে তামার অভাব অনেকটা পূরণ হয়।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার (লাল মাংস, মুরগি, ডাল, পালং শাক)
আয়রন চুলের কোষকে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে। আয়রনের অভাবে চুল নিস্তেজ ও ফিকে হয়ে যেতে পারে। লাল মাংসের মতো প্রাণিজ খাবার এবং ডাল, পালং শাকের মতো উদ্ভিজ্জ উৎস দুইটাই চুলের জন্য ভালো আয়রনের উৎস।
ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার (স্যামন, ইলিশ, দুধ, কমলার রস)
ভিটামিন ডি শুধু হাড় নয়, চুলের বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা দেখাচ্ছে, ভিটামিন ডি এর অভাব চুল পড়া এবং অকাল পাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্যামন বা ইলিশ মাছ, দুধ ও কমলার রস নিয়মিত খেলে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার (মুরগির কলিজা, ইলিশ)
ভিটামিন বি১২ চুলের রং ধরে রাখতে সহায়ক। এটি অক্সিজেন পরিবহন এবং মেলানিন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। বি১২ এর অভাবে চুল দুর্বল হয়ে যায় ও রঙ হারাতে পারে। মুরগির কলিজা ও ইলিশ মাছ সহজেই এই ভিটামিনের উৎস।
আরও পড়ুন:
- কোল্ড থেরাপিতে ফিরছে প্রিয়াঙ্কার ত্বকের জৌলুস
- জেন জির স্টাইলে তামান্নার ফাইন জুয়েলারি
- রাতারাতি মুখ উজ্জ্বল করার ঘরোয়া পদ্ধতি
ফলেট সমৃদ্ধ খাবার (পালং শাক, কালাই বা ব্ল্যাক-আই পিস)
ফলেট বা ভিটামিন বি৯ শরীরের কোষ বিভাজন ও রক্ত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে চুলের গঠন ও রং উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে। পালং শাক বা কালাই নিয়মিত খেলে ফলেটের ঘাটতি পূরণ হয় এবং চুলের প্রাকৃতিক দীপ্তি বজায় থাকে।
জীবনযাপনেও যত্ন প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনও চুলের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক শান্তি এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয়ই চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।
তথ্যসূত্র: ভোগ ইন্ডিয়া
জেএস/