ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

রেকর্ড পর্যবেক্ষকে ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ‘অগ্নিপরীক্ষা’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল | প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় চার্টার’ বিষয়ক গণভোট আয়োজন কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।

এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি বৈতরণি পার হতে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনও গণভোট সামনে রেখে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আর মাত্র ১১ দিন পর দেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন তথা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

আসন্ন এ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবার রেকর্ডসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথসহ ১৬টি দেশ ও বিভিন্ন সংস্থার ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যা ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের এই নির্বাচন এখন আন্তর্জাতিক মহলের কাছে একটি ‘টেস্ট কেস’। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই নির্বাচনের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা মানচিত্রে বড় প্রভাব ফেলবে।

এবারের নির্বাচনের অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘জুলাই জাতীয় চার্টার’ নিয়ে গণভোট। এই সনদের বৈপ্লবিক প্রস্তাবগুলোর মধ্য রয়েছে:

মেয়াদ নির্ধারণ: কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

ক্ষমতার ভারসাম্য: রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা।

নির্বাচনি পরিবর্তন: সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ।

অধিকার সুরক্ষা: ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের (ইউরোচেম) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ইইউর পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে একটি বড় আস্থার প্রতীক।’

সম্প্রতি তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় স্পষ্ট করে বলেছেন, আমরা এমন একটি নির্বাচন উপহার দেব যা উদাহরণ হিসেবে বহু দেশ আলোচনা করবে। এবার নির্বাচনে জালিয়াতি রুখতে প্রথমবারের মতো বড় আকারে সিসি ক্যামেরা এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এক নজরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল

সংস্থা/দেশ পর্যবেক্ষক সংখ্যা বিশেষ তথ্য
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ জন ২৭টি রাষ্ট্রসহ নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড।

কমনওয়েলথ ২৫ জন নেতৃত্বে ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-অ্যাডো।

আনফ্রেল ২৮ জন এশীয় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক নেটওয়ার্ক।

মালয়েশিয়ার ১৪ জন নেতৃত্বে দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান।

তুরস্ক ১২ জন নেতৃত্বে সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল।

যুক্তরাষ্ট্র ৮ জন আইআরআই থেকে ৭ জন ও এনডিআই থেকে ১ জন।

অন্যান্য ১৬ দেশ ৫৭ জন জাপান, পাকিস্তান, রাশিয়া, ভুটানসহ ১৬ দেশ।

পরিসংখ্যান: অতীতের তুলনায় এবারের পার্থক্য
নির্বাচনের সাল পর্যবেক্ষক সংখ্যা মন্তব্য

২০১৪ (১০ম) ৪ জন অধিকাংশ দল বর্জন করেছিল।

২০১৮ (১১তম) ১২৫ জন ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

২০২৪ (১২তম) ১৫৮ জন বিতর্কিত ও একতরফা নির্বাচন।

২০২৬ (১৩তম) ৩৩০+ (নিশ্চিত) সর্বদলীয় অংশগ্রহণ ও গণভোটের গুরুত্ব।

এমইউ/এমআইএইচএস/