ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ঢাকা-৭

সুপরিকল্পিত পুরান ঢাকা গড়তে ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ চান ভোটাররা

মো. নাহিদ হাসান | প্রকাশিত: ০৭:১৪ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচরের আংশিক ও কোতোয়ালির আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসন। ঘনবসতিপূর্ণ এ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ জন প্রার্থী। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গোডাউনের সুরক্ষা ও গ্যাস-রাস্তা-জলাবদ্ধতার যিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নেবেন তাকেই ভোট দিতে চান ভোটাররা।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘিঞ্জি পরিবেশ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এখানকার মূল সংকট। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তাই এ আসনের ভোটারদের প্রত্যাশা বসবাসযোগ্য এলাকা ও পরিকল্পিত উন্নয়ন।

জলাবদ্ধতাকে এলাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প বৃষ্টিতেই সরু রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। নোংরা পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়, বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি। পুরান ঢাকার জন্য আলাদা করে আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

কেমিক্যাল গোডাউনকে এলাকার ঝুঁকি বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। চকবাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে আবাসিক ভবনের নিচতলায় কেমিক্যাল গোডাউন ও ওপরের ফ্ল্যাটগুলোতে মানুষের বসবাস। এতে সামান্য দুর্ঘটনায় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অতীতে ছোট-বড় একাধিক আগুনের ঘটনা এলাকাবাসীর মনে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, কেমিক্যাল গোডাউনগুলোকে আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে একটি পরিপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের আসনে ৪৯ শতাংশই নারী ভোটার, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
‘কড়াইল বস্তির ভোট যার, সংসদ সদস্য পদ তার’
‘ভাগ হয়ে যাবে বিএনপির ভোট, মাঝখান দিয়ে জিতা যাইবো জামায়াত’


স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন সোহাগ বলেন, ‘এ এলাকার অন্যতম সমস্যা কেমিক্যাল গোডাউন। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কারও যেন এসব নিয়ে চিন্তা নেই। দুর্ঘটনা ঘটলে সবাই নড়েচড়ে বসে, পরে আবার যা তাই। এখানকার প্রায় সব বাসার নিচে কেমিক্যালের গোডাউন আর ওপরে মানুষ বসবাস করে। প্রায়ই তো আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এসব নিয়ে একটা স্থায়ী পরিকল্পনা করা উচিত জনপ্রতিনিধিদের।’

এছাড়া ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা ঘিরেও সংসদ সদস্য প্রার্থীদের কাছে রয়েছে নানা দাবি। দর্শনার্থীদের জন্য কেল্লাটিকে আরও উপযোগী করা, পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, আশপাশের রাস্তা ও ম্যানহোল সংস্কারের কথা বলছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, লালবাগ কেল্লা শুধু ঐতিহ্য নয়, সঠিক পরিকল্পনা নিলে এটি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

শুধু লালবাগ কেল্লা নয়, এ এলাকায় চকবাজার শাহী মসজিদ, চিনির টুকরা মসজিদসহ আরও দর্শনীয় স্থাপনা রয়েছে। লালবাগের স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদ লিটন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এমনকি বিদেশি পর্যটকরাও লালবাগ কেল্লা দেখতে আসেন। কেল্লার সামনে সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও আধুনিক ব্যবস্থা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার, যাতে আকর্ষণীয় হয় এবং পর্যটকরা আসেন। অথচ সেসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। শুধু লালবাগ কেল্লা নয়, পুরান ঢাকায় আরও অনেক মোগল স্থাপত্য আছে। সেগুলোকে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা করতে হবে। যিনিই এমপি নির্বাচিত হন না কেন, আমরা চাই ঐতিহ্য যেন সংরক্ষিত থাকে।’

এলাকায় বসবাসকারী গৃহিণীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস না থাকা এ এলাকার অন্যতম সমস্যা। লাইনের গ্যাস না থাকায় সময়মতো রান্না করতে পারেন না তারা। এতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গৃহিণী তামান্না বলেন, ‘বাসায় ঠিকমতো গ্যাস থাকে না। গ্যাসটা পেলে অন্তত সময়মতো রান্না করতে পারতাম। যেই এমপি হোক, আমরা চাই গ্যাসের সমস্যার যেন সমাধান হয়।’

সংসদ সদস্য প্রার্থীদের কাছ থেকে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান ভোটাররা। বংশালের স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল উল্লাহ বলেন, ‘পুরান ঢাকা শুধু সমস্যার এলাকা নয়, এটা ইতিহাস-ঐতিহ্যের সুতিকাগার। যিনি এমপি হবেন, তাকে সমস্যার সমাধানে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

সব মিলিয়ে এ আসনের ভোটাররা চান জলাবদ্ধতা নিরসন, কেমিক্যাল গোডাউনের ঝুঁকি কমানো, গ্যাস সমস্যার সমাধান, ভাঙাচোরা সড়কের উন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত এলাকা। যার জন্য যিনিই এমপি সংসদ সদস্য হবেন তাকে অনেক কিছু মোকাবিলা করে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

যেসব এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–৭ আসন

ঢাকা–৭ আসন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ১৮০ নম্বর আসন। এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। আসনটির অন্তর্ভুক্ত থানাগুলো হলো লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচরের আংশিক এবং কোতোয়ালীর আংশিক।

ভোটার সংখ্যা

আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ১২ জন।

প্রার্থী যারা

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার (ফুটবল প্রতীক), জাতীয় পার্টির (জেপি) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন (লাঙ্গল প্রতীক), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হামিদুর রহমান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. এনায়াত উল্লাহ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) শফিকুর রহমান (হাতি প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুর রহমান (হাতপাখা প্রতীক), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ (বটগাছ প্রতীক), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মো. শহিদুল ইসলাম (কাঁঠাল প্রতীক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মাকসুদুর রহমান (ছড়ি প্রতীক), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শাহানা সেলিম (তারা প্রতীক), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সীমা দত্ত (কাঁচি প্রতীক) নির্বাচনে লড়ছেন।

এনএস/এএসএ