ঢাকা-৫ আসন
নাগরিক বঞ্চনার অবসান চান ভোটাররা, আশা দেখাচ্ছেন প্রার্থীরা
ঢাকা-৫ আসনের মানুষের নাগরিক বঞ্চনা যেন আলোর নিচে অন্ধকার। রাজধানীবাসী, এমনকি সিটি করপোরেশনের মধ্যে থেকেও নাগরিক কোনো সুযোগ-সুবিধাই পান না তারা। সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার এক দশক হয়ে গেলেও ইউনিয়ন পর্যায়ের নানা সমস্যা থেকে তাদের মুক্তি মেলেনি এখনো।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে, যা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।
জলাবদ্ধতা এ আসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে জানিয়েছেন বেশির ভাগ মানুষ। এখানে এখনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। অনেক জায়গায়ই বেহাল রাস্তাঘাট। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ডুবলেও রয়েছে সুপেয় পানির সংকট।
আরও পড়ুন
এনসিপি নেতাকে হুমকি—‘তোকে নির্বাচনের আগেই গুলি করা হবে’
আব্বাস-পাটওয়ারীর আসনে সমস্যার শেষ নেই
দেশের পরিবর্তন চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে সিল মারুন: মামুনুল হক
এ ছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নানা সমস্যা বেড়েই চলেছে। চাঁদাবাজি দীর্ঘদিনের সমস্যা, চিকিৎসাসেবার সুযোগও অপ্রতুল। নেই পর্যাপ্ত বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক কিংবা সরকারি খেলার মাঠ। বিভিন্ন জায়গায় ময়লার ভাগাড় দেখা যায় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
নানা নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত এ আসনের জনগণকে অঙ্গীকারে আশা দেখাচ্ছেন এ আসনের প্রার্থীরা। ভোটার আকর্ষণে তারা অবকাঠামোগত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। তাই নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ঢাকা-৫ আসনে মোট প্রার্থী ১১ জন। বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ নবী (ধানের শীষ প্রতীক), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাজী মো. ইবরাহীম (হাতপাখা প্রতীক)। মূলত এ তিন প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কামাল হোসেন একই সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যেরও প্রার্থী।
এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা, গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর, লেবার পার্টির মো. গোলাম আযম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. তাইফুর রহমান রাহী, সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শাহিনুর আক্তার সুমি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মো. হুমায়ূন কবির ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাইফুল আলম।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন। প্রার্থীরা দিনভর আসনের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের কথা শুনছেন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ভোটারদের প্রত্যাশা
আসনের বিভিন্ন এলাকায় ভোটাররা প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন, সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন।
৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাতুয়াইল দুরন্ত ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়সাল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা চাই এমন যোগ্য ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোক যিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করবেন। আমাদের এখানে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাটা খুবই দুর্বল। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ ব্যবস্থাটা ভেঙে পড়ে, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির দিনে ছাত্র-ছাত্রী ও অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। আশা করি যারা নির্বাচিত হবেন, বিষয়টি সবার আগে বিবেচনায় রাখবেন।’
আরও পড়ুন
দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে নিজামী হত্যার বিচার হয়ে যাবে
বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে দেশের মানুষের নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই
বিএনপির ‘শাঁখের করাত’ ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী
তিনি বলেন, ‘এছাড়া আমাদের এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অবহেলিত। এ বিষয়টিও যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি বিবেচনায় রাখবেন। মাতুয়াইল ও এর আশপাশে মাদক বেচা-বিক্রির বিষয় আছে, জুয়া খেলাও আছে। অনেকে মাদক সেবন করে। যুবসমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জুয়াটা একটা বড় ব্যধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার সময় জুয়া চলে। এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।’
‘প্রার্থীরা এখন যেমন সবার কাছে আসছেন, আমরা চাই নির্বাচিত হলেও এভাবে আসবেন তারা। আমাদের কথা শুনবেন।’
ফয়সাল মিয়া বলেন, ‘রাজধানীর বাসিন্দা হওয়ার পরও আমাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। কিন্তু আমরা নিয়মিত সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স দিচ্ছি। আমি কখনো পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দেখিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো মাতুয়াইলে সরকারি কোনো খেলার মাঠ নেই। যেগুলোও ব্যক্তি মালিকানার ফাঁকা জায়গা ছিল, সেগুলোতে বাড়ি ঘর হচ্ছে। কোনো পার্কও নেই। কবরস্থানের পাশে থাকা ঈদগা মাঠটিকে আরও সম্প্রসারণ করে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। না হয় অচিরেই এ মাঠটাও হারিয়ে যাবে।’
মাতুয়াইল পুরাতন মসজিদ এলাকায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করে বলে জানিয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। এখানকার কিছু রাস্তাও বেশ ভাঙা দেখা গেছে। মাতুয়াইলের ইনুপট্টি এলাকার বেশির ভাগ জায়গায় এখনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে জানিয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা।
উত্তর রায়েরবাগ চাঁনবানু (বায়তুল আমান) জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম আজিজুল ইসলাম কাসেমী বলেন, ‘আমরা চাই একজন নামাজি সত্যবাদী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোক। তিনি যে প্রতিশ্রুতি দেবেন সেটা পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন করবেন। যার কাছে সমাজের জান-মাল নিরাপদ এমন মানুষ নির্বাচনে জয়লাভ করুক।’
তিনি বলেন, ‘সমাজে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি যাতে না হয়- নির্বাচিত এমপি যাতে সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। বাড়ি বানাতে গেলে চাঁদাবাজি হয়, এমন কথা আমরা শুনি।’
এ ইমাম আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে ড্রেনের সমস্যাটা বেশি, বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়। সবাই নিজ নিজ বাড়ি উঁচু রাখে কিন্তু ড্রেনটা অবহেলিত থেকে যায়। এতে পানিটা চলে যেতে পারে না। আমার মনে হয় জলাবদ্ধতাটা এক নম্বর সমস্যা আমাদের। ছোট ছোট বাচ্চারা বৃষ্টির দিনে স্কুলে-মাদরাসায় যেতে পারে না। মসজিদে মুসল্লিরা আসতে পারে না। এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।’
আরও পড়ুন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: সাদিক কায়েম
একটি দল মা-বোনদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে, ঘরে বন্দি করতে চাচ্ছে
ফ্যামিলি-কৃষক কার্ড না দিয়ে অ্যান্টি চাঁদাবাজি কার্ড দেওয়া হোক
ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার হাজী নগরের স্থায়ী বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশন হলেও বলতে গেলে আমরা কোনো সেবা পাই না। এটি নিশ্চিত করতে নির্বাচিত এমপি জোর দেবেন বলে আশা করি।’
শনির আখড়া গোবিন্দপুরের হাজি গলি এলাকার দোকানদার অমূল্য চন্দ্র বলেন, ‘শনির আখড়া আন্ডার পাস থেকে মাতুয়াইল মৃধা বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন। এছাড়া এ সড়কটিতে এত যানবাহন চলাচল করে যে, সারাদিন যানজট লেগে থাকে। এখানে ট্রাফিক পুলিশ দেওয়া প্রয়োজন। সন্ধ্যার পর আন্ডার পাসের সামনে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে। যিনিই এমপি হবেন আশা করি এখানে শৃঙ্খলা ফেরাবেন।’
যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল, গোবিন্দপুর, বাগানবাড়ি, ডেমরার কোনাপাড়া, ধার্মিকপাড়া, পাড়াডগাইরসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক এলাকায় শিল্প-কারখানা গড়ে উঠতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি ছাড়া এসব আবাসিক এলাকায় এসব কারখানা গড়ে উঠেছে। এগুলো চরমভাবে পরিবেশ দূষণ করছে।
এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো কাঠামোও গড়ে উঠেনি এ আসনের ওয়ার্ডগুলোতে। মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলছে। যদিও টাকার বিনিময়ে কিছু কিছু স্থানে ভ্যানের মাধ্যমে ময়লা নেওয়া হয়। এ আসনে বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় দেখা গেছে।
প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি
বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ আসনে বিগত সময়ে বলতে গেলে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানে সেবা প্রদানকারী সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানই নেই। একটা সরকারি কলেজ নেই, শিশু পার্ক নেই, সরকারি একটা খেলার মাঠ পর্যন্ত নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো নয়। মানুষ ট্যাক্স, রাজস্ব দেয়, তারপরও সব নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমি বিজয়ী হলে এ বিষয়গুলোতে নজর দেবো।’
জলাবদ্ধতা এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিএনডি বাঁধ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বাধীনতার পর কোনো এমপিই পদক্ষেপ নেননি। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর এখানে কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তবে যে কাজ হচ্ছে সেটা দিয়ে এখানকার জলাবদ্ধতা নিরসন করা একেবারেই সম্ভব নয়। এখানে ব্যাপক সার্ফেস ড্রেন করতে হবে। আরও অনেক কাজ করতে হবে।’
বিজয়ী হলে এখানে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি জমি ভরাট করে যেসব অবৈধ স্থাপনা করা হয়েছে সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে বলেও জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা-৫ আসন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত। এছাড়া মাদক, দখলের মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সমাজের সবার সঙ্গে কথা বলছি। সবাই এ আসনে একজন শিক্ষিত, জনদরদি ও সৎ নেতৃত্ব চান। যিনি এলাকা নিয়ে ভাববেন। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি, এ বিষয়গুলোকে ফোকাস করে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের এলাকার মানুষের সব সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতাল নির্মাণ করব। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— স্কুল, মাদরাসা সার্বিক উন্নয়নে আমরা ভূমিকা রাখব ইনশাআল্লাহ।’
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দায়িত্ব পেলে এ অঞ্চল থেকে চাঁদাবাজি চিরতরে দূর করবো। বাড়িওয়ালাদের বাড়িঘর করতে চাঁদা দিতে হবে না। গ্যাসের সংকট সমাধানের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলা হবে।’
এছাড়া বিজয়ী হলে ঢাকা-৫ আসনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানিয়েছেন মো. ইবরাহীম।
আরএমএম/এমএএইচ/
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ ১৩টি আইএসসিকে ১ কোটি টাকার সরঞ্জাম সহায়তা দিলো এনএসডিএ
- ২ প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দলের প্রার্থী সংঘাত তৈরির চেষ্টা করছে: ইশরাক
- ৩ নাগরিক বঞ্চনার অবসান চান ভোটাররা, আশা দেখাচ্ছেন প্রার্থীরা
- ৪ সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কথা শুনলেন জুবাইদা, দিলেন সমাধানের আশ্বাস
- ৫ নারীদের নিয়ে অতিকথনে থাকা নেতারা ‘গাইনোকলজিস্ট’: ফওজিয়া মোসলেম