ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত

সমান সুযোগ না পেলে ইউরোপীয়-ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসবে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ইউরোপীয় ও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলেট।

তিনি বলেন, সমান সুযোগ না পেলে এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হবে না।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।

জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলেট বলেন, ইউরোপীয় ও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ থাকা জরুরি। যদি সেই সুযোগ না থাকে, তাহলে তারা এখানে আসবে না।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত সরকার নেয় না, কারণ এগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে তাদের জন্য একটি সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্স দীর্ঘদিনের অংশীদার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুরুতেই ফ্রান্স স্বীকৃতি দিয়েছিল। তাই ফ্রান্স সবসময় বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত সমর্থক। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে, বিশেষ করে জাতিসংঘের ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতে চায়। ফ্রান্সও একই পথে বিশ্বাসী। সংঘাত নয়, সহযোগিতার মাধ্যমেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ছাড়াও অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফ্রান্স চায় আরও বেশি ফরাসি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক।

সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ নতুন সম্ভাবনা দেখছে বলে জানান তিনি। জিন-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, বাংলাদেশ থেকে আরও শিক্ষার্থী ও শিল্পী ফ্রান্সে যাক এবং ফ্রান্স থেকেও শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা বাংলাদেশে আসুক—এমন বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, ফরাসি কূটনীতির অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে নারীবাদী পররাষ্ট্রনীতি অন্যতম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও সহযোগিতা করতে চায় ফ্রান্স।

এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এয়ারবাস ফ্রান্সের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং তারা উচ্চমানের উড়োজাহাজ তৈরি করে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।

এয়ারবাস না কিনলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে কী হবে।

অন্যদিকে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সব দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বন্ধু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

জেপিআই/ইএ