বনমোরগের বদলে দেশি মোরগের অবমুক্তি: প্রকৃতির সাথে প্রতারণা
খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাজার থেকে বনমোরগ কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। পথে তাঁকে আটকায় বন বিভাগ। বনমোরগটি উদ্ধার করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। নিয়ম অনুযায়ী ওই মোরগ নিকটস্থ বনে অবমুক্ত করার কথা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার। তবে উদ্ধার করা ওই বনমোরগ অবমুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
উদ্ধার করা বনমোরগটি অবমুক্ত করা হয়েছে দাবি করে যে ছবি তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠান, সেই ছবিতে তাকে একটি ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত করতে দেখা গেছে। সেটি উদ্ধার করা বনমোরগের নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন উনি গতবছরের ছবি দিয়েছেন কিন্তু কেন গতবছরের ছবি দিয়েছেন, এর কোন উত্তর দিতে পারেননি।
খবরটি পড়ার পর চোখের সামনে ভেসে উঠেছে কিছু লোভী মানুষের ছবি, যারা নিজেরা রক্ষক হয়ে ভক্ষক হয়ে যায়, যারা চোখের সামনে যা পায়, তাই খেতে খেতে উদরপূর্তি করে, যারা অন্যের জিনিস জেনেও গোগ্রাসে তা হজম করে ফেলে। অভিযুক্ত রেঞ্জার হয়তোবা সেই দলেরই কেউ। একটা ছোট্ট বনমোরগও এদের হাতে নিরাপদ নয়।
যখন একশ্রেণির মানুষকে দেখি ডানে-বায়ে টাকা আয় করছে, নিয়ম-অনিয়মের তোয়াক্কা করছে না, যেখানে যাকে পারছে কোপ মেরে টাকা আয় করছে, তখন ছোট মেয়ে চিহিরোর গল্পটার কথা মনে হয়। গল্পটা এরকম, বাবা মায়ের সাথে নতুন শহরে যাবে ছোট্ট মেয়ে চিহিরো। যেতে গিয়ে পথ হারিয়ে একটি ছোট্ট বনের ভেতরে ঢুকে পড়ে তারা। সেই বনের ভেতরে দিয়ে যেতে যেতেই হঠাৎ সামনে দেখে একটি প্রাচীন বাড়ির গেট ও একটি আজব মূর্তি। চিহিরো পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে ভয় পায়, ফিরে যেতে চায়। বাবা মা তাকে গাড়িতে থাকতে বলে। ছোট্ট চিহিরোকে তারা বলে বাড়িটির ভেতরটা দেখেই চলে আসবে।
কিন্তু একা একা ভয় পেয়ে চিহিরো তাদের পিছু নেয়। চিহিরোর বাবা-মা বাড়িটির ভেতরে গিয়ে দেখে বাড়িটির পেছনে বাইরে বেরুবার একটি পথ দেখা যাচ্ছে। সেটি দিয়ে এগিয়ে তারা দেখে সেখানে জনমানবহীন অন্য একটি শহর। শহরটিতে ঢোকামাত্র খাবারের সুন্দর গন্ধ পেতে থাকে তারা। একটু এগিয়েই তারা দেখে টেবিলে সারি সারি খাবার রাখা কিন্তু চারপাশে কেউ নেই। একটু ডাকাডাকি করে চিহিরোর মা-বাবা ভাবে খেয়ে নেই, কাউন্টারে লোক এলে বিল দেয়া যাবে। এই ভেবে তারা সুস্বাদু খাবারগুলো খেতে শুরু করে।
ওদিকে চুপচাপ পরিবেশ দেখে চিহিরোর ভয় আরো বেড়ে যায়। বাবা মাকে ছেড়ে আজব ভীতিকর এলাকাটা একটু ঘুরে ফিরে দেখতে থাকে চিহিরো। এদিকে সুস্বাদু সব খাবার গোগ্রাসে খেতে থাকে চিহিরোর বাবা-মা। চিহিরো ঘুরে এসে পেছন থেকে দেখে মা বাবা বেশ মোটা হয়ে গেছে খেতে খেতে। ভয় পেয়ে তাদের ডাকলে তারা ফিরে তাকায়। চিহিরো অবাক হয়ে দেখে দেখে তার বাবা-মা মানুষ নেই, শুকরে পরিণত হয়েছে তার বাবা-মা।
সেই দেশের যে ডাইনি সে এইভাবে লোভী মানুষদের ধরে এনে খাইয়ে খাইয়ে মোটা তাজা করে এবং একদিন রোস্ট বানিয়ে খেয়ে ফেলে। জাপানের স্টুডিও জিবলির অ্যানিমেটেড ফিল্ম "স্পিরিটেড অ্যাওয়ে" এর গল্পের একটি অংশ এটি। আমাদের মধ্যে অনেকেই চিহিরোর বাবা-মায়ের মত শুধু গোগ্রাসে খাচ্ছে।
প্রতিদিন খবরে দেখি মানুষ বিভিন্ন প্রাণীর সাথে নির্মম, নিপীড়নমূলক আচরণ করছে। কোন কারণ ছাড়াই তাদের হত্যা করে, কষ্ট দেয়, বিষ প্রয়োগ করে আনন্দ পায়। তবে সুখের কথা যে ইদানিং চোখে পড়ছে প্রাণীর প্রতি ভালবাসা নিয়ে অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন এগিয়ে এসেছে ভাষাহীন প্রাণীদের বাঁচাতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে।
যেমন- উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ২০টি কুকুরকে হত্যার দায়ে পৃথক ধারায় তিন আসামিকে আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর লিচুবাগান এলাকায় লোহার রড, সাঁড়াশি ও প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে ২০টি কুকুর হত্যা করা হয়। পরে মৃত কুকুরগুলো বস্তায় ভরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই নৃশংসতার ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছিল। অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশের পক্ষে আদালতে মামলা হয়। মামলায় তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় দিয়েছেন আদালত। বাংলাদেশের পশুপাখিদের নিরাপত্তার পথে এ এক বড় অর্জন।
প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ কেন কোনো কারণ ছাড়াই পশুপাখি হত্যা করে? করে শক্তিহীনের উপর প্রতাপ দেখানোর জন্য, দুর্বলকে নিপীড়ন করা জন্য, বিকৃত আনন্দলাভের জন্য এবং একধরনের মানসিক অসুস্থতা থেকে। যারা পথের কুকুরের হাত-পা ভেঙে দেয়, বিড়ালকে দড়িতে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়, আহত শামুকখোল পাখিদের রান্না করে খেয়ে ফেলে এবং বিষ খাইয়ে মাছ, বানর ও পাখি হত্যা করে, এরা সবাই খুনি। আজকে এরা বিনা প্রয়োজনে পশুপাখি খুন করছে, কালকে মানুষ খুন করবে এবং করছেও।
অনেকেই অভিযোগ করেন পথকুকুর, বিড়াল এরা ক্ষতিকর। মানুষকে কামড়ায়, তাড়া করে ও রোগ ছড়ায়। এই অপরাধে যদি সব কুকুর, বিড়ালকে মানুষ হত্যা করে, তাহলে মানুষের মধ্যে যারা হত্যাকারী, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও নির্যাতন করে, যারা লুটেরা, দুর্নীতিপরায়ণ, মোনাফেক তাদের কতজনকে আপনারা শাস্তির আওতায় আনতে পারেন অথবা সামাজিকভাবে বয়কট করতে পারেন। শাস্তি দেওয়া ও বয়কট করাতো দূরের কথা, এদের টিকিটিও ছুঁতে পারেন না।
শুধু কি কুকুর, বিড়াল? মানুষ হত্যা করে না এমন কোন প্রাণি নেই। কোনোটাকে হত্যা করে খাওয়ার জন্য, কোনো টার হাড়হাড্ডি ও মাংস বিক্রির জন্য, কোনো কোনোটা শুধু আনন্দের বা শায়েস্তা করার জন্য। পাখি, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, বানর সব প্রাণিকেই নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। আসলে হত্যা করার পক্ষে কোনো কারণই যথার্থ হতে পারে না, এমনকি বিষাক্ত শাপও কেউ হত্যা করতে পারে না। এরজন্য সিস্টেম আছে, আছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ। তাদের খবর দিন, তাদের হাতে তুলে দিন, কিন্তু হত্যা করবেন না।
সেদিনই পত্রিকায় দেখলাম বাংলাদেশে মেছোবিড়াল নিধনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সংঘাত, বিশেষ করে হাঁস-মুরগি ও পুকুরের মাছ খাওয়ার অভিযোগে প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড ধীরে ধীরে এই বন্যপ্রাণীটিকে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষক ও সংরক্ষণবিদরা। বিশ্বজুড়ে এই প্রজাতির জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসভূমি হিসেবে পরিচিত। ২০০৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশে অন্তত ১৬০টি মেছোবিড়াল হত্যা করা হয়েছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। মোট ঘটনার প্রায় ৪৭ শতাংশেই 'দেখামাত্র হত্যা' প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
শুধু কুকুর, বিড়াল বা মুরগি নয়, যারা পশুপাখির প্রতি অত্যাচার করে এবং তাদের প্রতি করা অত্যাচার মেনে নেন, সেই অমানুষগুলো দেখতে অবিকল মানুষের মত হলেও, আসলে এরা মানুষ নয়, দানব। একদল লোক হাতির বাচ্চাকে ২-৩ মাসব্যাপী ‘প্রশিক্ষণ’ এর নামে নানা কলা-কৌশল শেখাতে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। এ সময় হাতি শৃঙ্খলমুক্ত হতে জোর চেষ্টা চালায়, শুড় উঁচিয়ে কাতরায়। কখনও নির্যাতনে হাতি শাবক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, তবুও নির্যাতন থামে না। পশুর প্রতি এ ধরনের নিষ্ঠুর আচরণ এবং কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা যেমন অমানবিক, তেমনি বেআইনি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে হাতিকে ব্যবহার করে চাঁদা তোলা হচ্ছে আইন রক্ষাকারী সংস্থার সামনেই দিয়েই। হাতি অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী, দলগতভাবে বিচরণ করে, বাচ্চাকে খুব ভালোবাসে, নিজের মতো চলাফেরা করে, বাধা পেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সেই রাজকীয় প্রাণীকে মানুষ ভিক্ষুক বানিয়ে ছেড়েছে।
পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা একধরনের মানসিক বিকৃতি বা অসুস্থতা। একমাত্র মানুষই পারে অপ্রয়োজনে বা তুচ্ছ কারণে ভয়ংকরভাবে অন্যকে হত্যা করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে “বাৎসরিক বিড়াল মারা উৎসব” হয়েছে। হোমফিড খুলতেই চোখে এলো সেই হলের জানালার কার্নিশে মেরে রাখা মৃত বিড়ালদের ছবি। ওই একই দিনে খবরে দেখলাম, একটি মৃত নবজাতককে কেউ বুয়েটের ডাষ্টবিনে ফেলে রেখে গিয়েছে। দুটো ঘটনাই ঘটেছে ক্যাম্পাসে এবং দুটিতেই সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে।
নগরে বা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যদি কুকুর বিড়ালের সংখ্যা বেড়ে যায়, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার বিভিন্ন উপায় আছে। জবাই দেয়ার মত মারাত্মক অপরাধ করতে হবে কেন? প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ কেন কোনো কারণ ছাড়াই পশুপাখি হত্যা করে? করে শক্তিহীনের উপর প্রতাপ দেখানোর জন্য, দুর্বলকে নিপীড়ন করা জন্য, বিকৃত আনন্দলাভের জন্য এবং একধরনের মানসিক অসুস্থতা থেকে।
যারা পথের কুকুরের হাত-পা ভেঙে দেয়, বিড়ালকে দড়িতে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়, আহত শামুকখোল পাখিদের রান্না করে খেয়ে ফেলে এবং বিষ খাইয়ে মাছ, বানর ও পাখি হত্যা করে, এরা সবাই খুনি। আজকে এরা বিনা প্রয়োজনে পশুপাখি খুন করছে, কালকে মানুষ খুন করবে এবং করছেও।
জাপান গার্ডেন সিটির কুকুর বিড়ালগুলোকে কে বা কারা বিষ দিয়ে হত্যা করেছে, তা আমরা জানতে পারিনি। মামলা হওয়ার পর আদালত বলছে কেউ ওদের হত্যা করেনি, আমরা সেটাই মেনে নিয়েছি। কিন্তু ভাষাহীন প্রাণিগুলোতো নিহত হয়েছিল।
যাক এরপরেও আমরা আশাবাদী হই কিছু মানুষ ও সংগঠনের প্রাণিদের প্রতি ভালোবাসার খবর পড়ে। মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন। তিনি বলেন, ‘একেক মানুষের একেক কাজে আনন্দ, আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই’
এদিকে ক্যাম্পাসে বিড়াল নির্যাতন বন্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এটাই বা কম কী পথেঘাটে ঘুরে বেড়ানো বিড়ালদের জন্য। গাজীপুরের কাপাসিয়াতে এলাকাবাসী ১৩ টা কুকুরছানাকে শীতের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন এলাকাবাসী।
এক ঝড়বৃষ্টির রাতে ভন্ডগ্রামের ফারুক আহমেদের বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল কালিম পাখিটি। চেষ্টা করেও পাখিটি উড়তে পারছিল না। সেবা-শুশ্রূষা করে ওই বাড়ির লোকজন পাখিটিকে ঘরে রেখে দেন। সুস্থ হয়ে উঠলেও পাখিটি ফারুকের বাড়ি ছেড়ে যায়নি। তারা পাখিটি মুক্তভাবে লালন-পালন করেন।
চার মাস পর পাখিটি উড়ে ফারুকের প্রতিবেশী শামস উদ্দিনের বাড়িতে চলে যায়। সেই থেকে সেখানেই পাখিটির বসবাস। পাখিটি শামস উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও প্রতিদিনই ফারুকের বাড়িতে এসে খাবার খেয়ে যায়। ঘটনাগুলো সুন্দর ও মায়ায় ভরা। এরকম ইতিবাচক ঘটনা আরো আছে। আমরা এগুলো নিয়েই বাঁচতে চাই।
পশুপাখি, গাছপালা মানুষের জীবনের সাথে জড়িত। আমরা অনেকেই জীব জগৎকে ভালোবাসতে শিখিনি। একজন মানুষের প্রতি নৃশংস আচরণ করলে, তার যে কষ্ট হয়, পশুপাখির ক্ষেত্রেও তাই হয়। শুধু তারা ভাষাহীন বলে নূ্যনতম প্রতিবাদটাও করতে পারেনা কিন্তু এদের কাউকে বাঁচালে তারা কৃতজ্ঞতা জানাতে পারে।
যেমনটা জানিয়েছিল বুদবুদ। ছোট্ট এই বাচ্চাটাকে পাওয়া গিয়েছিল গুলশানে পথের ধারে। সে ইলেকট্রিক শক খেয়েছিল। যদিও তখনি ওকে জ্যাকেটে মুড়ে ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়েছিল কিন্তু সে বাঁচেনি। বুদবুদ বাচ্চাটা এতটাই আহত হয়েছিল যে অনেক চেষ্টা করেও শেষপর্যন্ত ও চলে যায়। কিন্তু যাওয়ার আগে ওর চাহনি দিয়ে ভালোবাসা জানিয়ে গেছে।
১০ মার্চ, ২০২৬
লেখক : যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক।
এইচআর/এমএস