ডয়েচে ভেলেকে তারেক রহমান
উচ্চশিক্ষা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলে নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে যাবে নারীরা
ছবি: ডয়েচে ভেলের ভিডিও থেকে সংগৃহীত
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনের আগে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন, ভারত ও চীনের সঙ্গে সর্ম্পক এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে নির্বাচন কেমন হবে এমন প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করছি, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, দেশের মানুষ আশা করছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, আমরা আশাবাদী।
১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন, আপনার দল ও দেশের মানুষের কাছে যেতে চ্যালেঞ্জ কোনটা ছিল? এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, দেশের মাটিতে এসে মানুষের চোখেমুখে প্রত্যাশার ছাপ দেখেছি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা ছিল আসার ৫ দিন পর আম্মা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) মারা গেলেন। সুতরাং পরিবারের সঙ্গে বসে কষ্ট ভাগ করবো, এমনটাও হয়নি কারণ নির্বাচনের ডামাডোল, এই পরিস্থিতিটা সামলে নিয়ে এগিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে, তবে তা সফল করতে সক্ষম হয়েছি।
তরুণদের জন্য আপনরা কী করবেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনি মেনিফেস্টোতে আমরা এরইমধ্যে উল্লেখ করেছি তরুণদের জন্য কি কি উদ্যোগ গ্রহণ করবো। এখানে বয়স্ক যারা আছেন, ৪০ লক্ষ্য প্রতিবন্ধি আছেন, সাড়ে ৪ কোটির মতো তরুণ আছে, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের ফেলে রেখে তো সামনে আগানো যাবে না। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আমাদের কর্মসূচি আছে। কারণ সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, এ ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তবে দেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি যেটা সেখানে আমাদের দূরত্ব হওয়াটা স্বাভাবিক। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে চেষ্টা করা হবে ভালো সম্পর্কের, তবে সবার আগে দেশের স্বার্থ। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তিনি বলেন, গ্লোবাল ভিলেজে আমরা একা বাস করতে পারবো না। দেশের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যেন জন্য বাইরে যাবে, কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে যাবে, সুতরাং সবকিছু ঠিক রেখে, আমার দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হবে।
জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কনফিডেন্ট, আমরা দেশের মানুষের রায় পেয়ে সরকার গঠন করবো। অবশ্যই বিরোধী দল থাকতে হবে সংসদে। সবাই এক সরকারে আসলে কেমন করে হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান খালেদা জিয়ার শিক্ষা কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে। উচ্চশিক্ষা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলে মানসিকভাবে কনফিডেন্ট ফিল করবে তারা। তখন তারা নিজেরাই নিজেদের যোগ্য করে তুলবে। যদি কেউ নারীদের শুধু রাজনৈতিকভাবে কিছু জায়গায় অ্যাপায়ন করে সেটা তাদের ব্যাপার। নারীরা মানসিকভাবে কনফিডেন্ট হলে নিজ যোগ্যতায় যে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে তারা সেটা স্থানীয় হোক বা জাতীয়।
নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীদের ভয়-ভীতি দেখানো আমাদের দ্বারা নয়, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও কারও বক্তব্য থেকে বা বুলিংয়ের কারণে এটা হয়েছে। তাদের নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, নতুন শিল্পায়নের সুযোগ করে দিতে হবে, কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। নারীদের যতবেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় তা করা হবে।
এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটাতো পুরো রাজনীতি। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আবার মানুষ যাকে গ্রহণ করবে না তাকে কেউ ধরে রাখতে পারবে না, যেমন ৫ আগস্ট।
নির্বাচনে দলের ঋণখেলাপি প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৬ বছরে আমাদের লোকদের গুম-খুন, নির্যাতনের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের ইচ্ছা করেই ঋণখেলাপি করা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য করদেত দেওয়া হয়নি।
জুলাই আন্দোলনে যারা ভুক্তভোগী তাদের পরিবার ও স্বজনরা বিচার পাবে কি না ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের চারশোর বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছে, ১৬ বছরে বহু নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, এমনকি সাধারণ মানুষও যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় তারাও গুম-খুনের শিকার হয়েছে। নিশ্চয়ই দেশের আইন অনুযায়ী বিচার সুনিশ্চিত করা হবে।
এসএনআর/এএসএম