দায়মুক্তি নিলেন শামীম ওসমান
শঙ্কা ছিল, ছিল উৎকণ্ঠা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে। অার সব শঙ্কার কেন্দ্রে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ অাসনের সাংসদ শামীম ওসমান। দলের মধ্যেও দ্বিধা ও অবিশ্বাস ছিল। আর অবিশ্বাস দূর করতে শামীম ওসমান নিলেন ভিন্ন কৌশল।
দলের প্রতীক নৌকায় সিল মারলেন প্রকাশ্যে। সেই সিল মারা ব্যালট হাতে নিয়ে উঁচিয়ে ধরলেন জনতার উদ্দেশ্যে। সাংবাদিকরাও এমন দৃশ্য লুফে নিলেন। মুহূর্তেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কথা রেখেছেন শামীম ওসমান। এ যেন দায়মুক্তির কৌশল।
সাংসদ শামীম ওসমান এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ অাইভীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব বহু অাগ থেকেই। শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপেও দ্বন্দ্বের নিরসন হয়নি। বুধবার জাগো নিউজের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে শামীম ওসমান নিজেও দ্বন্দ্বের বিষয়টি ঈশারা ইঙ্গিতে বলেছিলেন।
রাজনীতির মাঠের এমন দ্বন্দ্ব থেকেই এবারের নির্বাচন নিয়ে অধিকতর শঙ্কার বিষয়টি সামনে অাসে। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সব কেন্দ্রেই সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন ভোটাররা। কঠোর নিরাপত্তায় সবই ছিল প্রশাসেনর নিয়ন্ত্রণে। অপ্রীতিকর ঘটনার কোনো খবর ছিল না শামীম ওসমান নিয়ন্ত্রিত সিদ্ধিরগঞ্জেও।
আর দুপুরে ভোট দিতে গিয়ে শামীম ওসমান নিজেই যেন হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন। নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমির কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে তা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। এ যেন সমালোচনাকারীদের জবাবের অভিনব কৌশল।
তবে এমন কৌশলকে লোক দেখানো বলেও মত দেন কেউ কেউ। হয়তো পেছনে ভিন্ন কথা থাকতে পারে।
ভোট দিতে এসে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ভোট দেয়ার মালিক আল্লাহ, আমি এটাও বিশ্বাস করি জনগণ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে। আমি আশাবাদী নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।’
তিনি বলেন, ‘সকল প্রকার উসকানি উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান করতে হয়, জনগণের অধিকার আদায় করতে হয়।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভোটারের উপস্থিতি অনেক ভালো। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫০ ভাগ ভোটার তাদের ভোট দিয়ে ফেলেছেন। নির্বাচনী বিধির কারণে আমি কোথাও যেতে পারিনি, সরাসরি আমার ভোট কেন্দ্রে এসেছি। এখান থেকে আবার আমার জায়গায় ফিরে যাবো।’
এএসএস/এএস/এসএইচএস/এমএস