ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. তথ্যপ্রযুক্তি

স্মার্টফোনে ছবি-ভিডিও জমিয়ে রাখেন, ডিজিটাল যে ব্যাধিতে আক্রান্ত আপনি

তানজিদ শুভ্র | প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬

খুব সুন্দর একটা দৃশ্য দেখে পকেট থেকে স্মার্টফোনটা বের করলেন ছবি তোলার জন্য। স্ক্রিনে ট্যাপ করতেই ভেসে উঠল এক বিরক্তিকর বার্তা ‘স্টোরেজ ফুল’! এরপর আপনি গেলেন গ্যালারিতে। হাজার হাজার ছবি, শত শত স্ক্রিনশট, মেমোরি কার্ড কানায় কানায় পূর্ণ। কিন্তু ডিলিট করার জন্য যখনই একটা ছবি বা ফাইল নির্বাচন করতে গেলেন, মন বলে উঠলো ‘থাক না, যদি পরে কখনো কাজে লাগে!’ এই চেনা পরিস্থিতিটি শুধু আপনার একার নয়, বর্তমান সময়ে আমাদের সবার। আধুনিক এই ব্যাধির একটি সুন্দর নাম আছে, ‘ডিজিটাল হোডিং’ বা ডিজিটাল জঞ্জাল জমিয়ে রাখা।

আগেকার দিনে মানুষ পুরোনো খবরের কাগজ, ভাঙা ঘড়ি বা পুরোনো বাক্স জমিয়ে রাখত মায়ার বশে। এখন সেই জায়গা দখল করেছে আমাদের স্মার্টফোন আর ল্যাপটপ। অপ্রয়োজনীয় পিডিএফ, পড়া শেষে ফেলে রাখা ই-বুক, কোনো এক ফানি ভিডিও, হাজারটা মিম, আর পুরোনো চ্যাটের অসংখ্য স্ক্রিনশট সবকিছু আমরা সযত্নে জমিয়ে রাখি ক্লাউড স্টোরেজে বা হার্ডড্রাইভে।

এর পেছনে মূলত কাজ করে এক অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব। আমরা ভাবি, এই ডিজিটাল জিনিসগুলোর সঙ্গে আমাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এগুলো ডিলিট করা মানে যেন নিজের জীবনের একটি অংশ মুছে ফেলা। আবার অনেক সময় কাজ করে ‘হারানোর ভয়’। ‘এই টিউটোরিয়াল ভিডিওটা হয়তো একদিন কাজে লাগবে’-এমনটা ভেবে আমরা যা জমিয়ে রাখি, তা হয়তো জীবনে আর দ্বিতীয়বার খুলে দেখা হয় না।

দেখতে অদৃশ্য হলেও এই ডিজিটাল জঞ্জালের কিন্তু একটা বিশাল ভার আছে, যা আমাদের মনকে ভেতর থেকে ক্লান্ত করে। খেয়াল করে দেখবেন, ল্যাপটপের ডেস্কটপে যখন অসংখ্য ফোল্ডার এলোমেলো ছড়ানো থাকে বা ই-মেইলে যখন হাজার হাজার আনরিড মেসেজ জমে থাকে, তখন অবচেতনভাবেই আমাদের ভেতরে এক ধরনের চাপ বা অস্বস্তি তৈরি হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘কগনিটিভ ওভারলোড’। আমরা হয়তো সব সময় বুঝতে পারি না, কিন্তু এই অগোছালো ডিজিটাল জীবন আমাদের মনোযোগ ও কাজের গতি নষ্ট করছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত কিছু জমিয়ে রাখার পরও খুব দরকারী সময়ে আমরা কাঙ্ক্ষিত ফাইল বা পাসওয়ার্ডের স্ক্রিনশটটি কিছুতেই খুঁজে পাই না। হাজারো অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড়ে দরকারি জিনিসটাই হারিয়ে যায়।

এই ডিজিটাল দমবন্ধ করা অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কী? উত্তরটা সহজ ‘ডিজিটাল ডিক্লাটারিং’ বা ভার্চুয়াল জগতটাকে একটু গুছিয়ে নেওয়া। শুরুটা করতে পারেন খুব ছোট পরিসরে। প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে গ্যালারির অপ্রয়োজনীয় কিছু ছবি ও স্ক্রিনশট ডিলিট করার অভ্যাস করুন।

যে অ্যাপগুলো গত ছয় মাসে একবারও ব্যবহার করেননি, সেগুলো ফোন থেকে বিদায় করে দিন। ইনবক্সের ভিড় কমাতে অপ্রয়োজনীয় প্রমোশনাল মেইলগুলো আনসাবস্ক্রাইব করতে পারেন। পাশাপাশি একটা সহজ নিয়ম মেনে চলতে পারেন, যাকে বলা যায় ‘একের বদলে এক’ অর্থাৎ ফোনে নতুন কোনো ভারী ফাইল সেভ করলে পুরোনো একটি অপ্রয়োজনীয় জিনিস ডিলিট করে ফেলা।

সব স্মৃতি বা তথ্য ডিজিটাল বক্সে জমিয়ে রাখার মানে হলো বর্তমানের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে পুরোপুরি উপভোগ করতে না পারা। প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করার জন্য, একে স্মৃতির বোঝায় আটকে রাখার জন্য নয়।

অপ্রয়োজনীয় ফাইলের ভার কমিয়ে ফোন বা ল্যাপটপটাকে যেমন হালকা করা যায়, তেমনি ডিজিটাল জঞ্জাল সাফ করে নিজের মনটাকেও রাখা যায় ফুরফুরে ও চিন্তামুক্ত। মনে রাখবেন, ডিলিট বাটনে চাপ দেওয়া মানেই সুন্দর স্মৃতি মুছে ফেলা নয়, বরং নতুন কোনো চমৎকার মুহূর্তের জন্য একটু জায়গা তৈরি করে নেওয়া।

আরও পড়ুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল খবরের সত্যতা যাচাই করবে গুগল
এখন নোটপ্যাডেও পাবেন ইমেজ সাপোর্ট

কেএসকে

আরও পড়ুন