বসন্ত উৎসবে অপরূপ শিমুল বাগান
প্রকৃতি সেজেছে উৎসবের রঙে, ছবি: জাগো নিউজ
নদীর ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে মায়াবী যাদুকাটা নদী। তারই পাশে দেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান। যে বাগানের গাছের ডালে ডালে ফুটে আছে লাল শিমুল ফুল। যার সৌন্দর্য দেখতে বসন্তের প্রথমদিনে বসন্ত উৎসবে আনন্দে মেতে উঠেছেন হাজারো দর্শনার্থী।
শিমুল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের ডালজুড়ে ফুটে থাকা রক্তিম শিমুল যেন আকাশের সঙ্গে নীরব কথোপকথনে মগ্ন। শিমুল ফুল ফুটে আছে। লাল আভায় প্রকৃতি সেজেছে উৎসবের রঙে। সেই সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পাশে থাকা মেঘালয় পাহাড় ও যাদুকাটা নদী। যার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়েছেন দর্শনার্থীরা।

বসন্তের প্রথমদিনে শিমুল বাগানে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে চলছে বসন্ত উৎসব। শাহ আব্দুল করিম, হাছন রাজার গান পরিবেশন ও নৃত্যের মাধ্যমে উৎসবে মেতেছেন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা। উৎসব উপভোগ করতে সেখানে আসা তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সবাই সেলফি তুলছেন। ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাগানের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ২০০০ সালে যাদুকাটা নদীর তীরে মানিগাঁওয়ে ১০০ বিঘা জমির ওপর তিন হাজার শিমুল গাছ লাগান বাধাঘাট ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাগানটি শুধু দেশের নয়, এশিয়ারও বৃহত্তম শিমুল বাগান হিসেবে পরিচিতি পায়। যে বাগানকে ঘিরে এরই মধ্যে চাঙা হয়েছে তাহিরপুরের প্রান্তিক এলাকার অর্থনীতি।

শিমুল বাগানে আসা পর্যটক আলী হায়দার বলছেন, ‘অসাধারণ জায়গা এটি। তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যস্থার উন্নয়ন ও যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে পর্যটকের সংখ্যা যেমন বাড়বে; তেমনই ভোগান্তিও কমবে।’
পর্যটক হাজেরা চৌধুরী বলেন, ‘শিমুল বাগানে এসে অসাধারণ একটি দিন কাটালাম। আনন্দে আর উল্লাসে।’ জ্যোতি তালুকদার বলেন, ‘আমি প্রতি বছর শিমুল ফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসি। আমার অনেক ভালো লাগে ফুলগুলো।’ রুপা হায়দার বলেন, ‘বসন্তের প্রথমদিন গান, নৃত্য, ছবি তোলা এককথায় অসাধারণ।’

বাগান মালিক রাকাব উদ্দিন জানালেন, ‘দলবেঁধে বসন্তের প্রথমদিনে উৎসব উপভোগ ও ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হাজারো পর্যটক আসেন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে।’
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মঞ্জরুল হক চৌধুরী পাবেল বলেন, ‘শিমুল বাগানে উৎসবটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা প্রতি বছর উৎসবটি শিমুল বাগানে করার চেষ্টা করি। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর দর্শনার্থী বেশি।’
এলএএইচ/এসইউ