৪৮ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ পাবেন আরও ৩৬০০ যুব-যুবতী
দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন মাস মেয়াদি পঞ্চম প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ধাপেও ৩ হাজার ৬০০ জন যুব-যুবতী কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ পাবেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন। উপদেষ্টা এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
এতে দেশের ৪৮টি জেলার প্রশিক্ষণার্থীরাও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। দেশের ৮টি বিভাগের ৪৮ জেলায় একযোগে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে চারটি ব্যাচে যুব ও যুবতীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে ৩ হাজার ৬০০ জন করে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এ সময় পূর্ববর্তী ব্যাচের সফল ২-৩ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং নতুন ব্যাচের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৪৮টি জেলার প্রতিটি জেলায় ৩টি ব্যাচে ৭৫ জন করে মোট ৩ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩৫ বছর এবং ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পাস হতে হবে।
সরকারি অর্থায়নে জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় মোট ২৮ হাজার ৮০০ জন যুব ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশের ৪৮টি জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের মোট ৪৮টি জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চারটি কোয়ার্টারে মোট ১০ হাজার ৮০০ জন যুব ও যুব নারী সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ৬৭৩২ জন প্রশিক্ষণার্থী দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব প্রশিক্ষণার্থী এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৬ মার্কিন ডলার আয় করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ২ লাখ টাকার সমপরিমাণ। এই আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশিক্ষণ কোর্সে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল ট্রেনিং, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের আয় বৃদ্ধি এবং যারা এখনো আয় করতে পারেননি তাদের আয়মুখী করতে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের উদ্যোগে প্রকল্পভুক্ত সব জেলায় বিনামূল্যে নিয়মিত ভার্চুয়াল মেন্টরিং ও পোস্ট-ট্রেনিং সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চম ব্যাচে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেন প্রায় ৮৫ হাজার ২২৯ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪১ হাজার ৫৮১ জন যোগ্য প্রার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ৩৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। তারা প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে মোট ৬০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ চলাকালে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাস্তার ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র দেওয়া হচ্ছে।
আরএমএম/এএমএ/জেআইএম