উন্নয়ন বাজেটে বৈদেশিক ঋণ ৭২ হাজার কোটি টাকা
দুই লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। যা গত বছরের তুলনায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। গুরুত্ব কমছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, পরিবহন, ধর্ম ও কৃষিতে। তবে বরাদ্দ বাড়ছে পরিবেশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে। উন্নয়ন বাজেটে বৈদেশিক ঋণ ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারি অর্থ ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।
উন্নয়ন বাজেটে কাটছাঁটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোতে। বড় কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পে। এখানে বরাদ্দ ৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০১ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৯১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ১২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় প্রধান উপদেষ্টা সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেবেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) তুলনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে বরাদ্দের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে কিছু খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও, বেশ কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বড় আকারের কাটছাঁট করা হয়েছে।
এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের, বরাদ্দ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ শতাংশ। এই দুই খাতেই মূলত বরাদ্দ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ৭৭ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণে। ৭৩ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হ্রাস পেয়েছে ৫৫ শতাংশ। এছাড়া বিদ্যুতে ২৭ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ২৯ শতাংশ, নৌ-পরিবহনে ৩৬ শতাংশ, রেলপথ ও কৃষিতে ৩৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ এলিভেটেড সড়ক প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৯৫ শতাংশের বেশি। মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কের ওপর মেঘনা-ধনাগোদা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ হ্রাস পাওয়ায় উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা। র্যাপিড বাস ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পেও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪২৫ কোটি টাকা থেকে ১৬৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর প্রকল্পে বরাদ্দ প্রায় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৪১ শতাংশের বেশি। নগর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধমূলক সেবা প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও ৮০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এমওএস/এমএমকে