ইসিতে আপিল করে ভোটের মাঠে ফিরলেন ৪ শতাধিক প্রার্থী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪১ এএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন/ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জানানো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন চার শতাধিক প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিলের ওপর রোববার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত টানা ৯ দিনের শুনানিতে এসব প্রার্থী ভোটের মাঠে ফিরে আসার সুযোগ পেলেন। যা মোট আপিলকারীর ৬৫ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও প্রতিপক্ষের আপিলের জেরে বিএনপির চারজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে ইসি। তারা হলেন কুমিল্লা-৪ আসনের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, কুমিল্লা-১০ আসনের আব্দুল গফুর ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর ও যশোর-৪ আসনের তালহা শাহরিয়ার (টিএস) আইয়ুব।

শেষ দিনের শুনানি
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন অডিটরিয়ামে নবম ও শেষ দিনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, শেষ দিনে ৬৩টি আবেদনের শুনানি নেওয়া হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ২১টি ও মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে দুটি আপিল মঞ্জুর হয়। নামঞ্জুর করা হয় ৩৫টি আপিল। যার মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ১৮টি, গ্রহণের বিরুদ্ধে ১৬টি ও বাতিলাদেশ বহাল রাখা-সংক্রান্ত একটি আপিল নামঞ্জুর হয়। এছাড়া শুনানিকালে তিনটি আপিল আবেদন প্রত্যাহার ও কমিশন দুটি আবেদন অপেক্ষমাণ রেখেছে। শুনানিতে একজন আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন।

কোন দিন কতজন সফল
ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনে ৫১, দ্বিতীয় দিনে ৫৮, তৃতীয় দিনে ৪১, চতুর্থ দিনে ৪৪, পঞ্চম দিনে ৭৩, ষষ্ঠ দিনে ৩৩, সপ্তম দিনে ৬০, অষ্টম দিনে ৪৪ ও শেষ দিনে ২১ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব
নবম দিনের শুনানিতে বেশির ভাগ ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু নিষ্পত্তি করা হয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ২৩টি আপিল শুনানি করে দুজনের মনোনয়ন বাতিল, একজনের বিষয়টি স্থগিত ও ২০ জনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ করে দিয়েছে কমিশন।

শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভূইঞার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। আর কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদের তুরস্কের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য তার প্রার্থিতা নিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে কমিশন সূত্র জানায়, তার প্রার্থিতা বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

বাধা নেই যাদের
দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়টি সমাধান হওয়ায় এখন যাদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই তারা হলেন- জামায়াতের ঢাকা-১ আসনের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির এ কে এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীর-৪ আসনে বিএনপির মনিরুজ্জামান, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির শামা ওবায়েদ, সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির তাহির রায়হান, মৌলভীবাজার-২ আসনে বিএনপির শওকতুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র সুজাত মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জামায়াতের জুনায়েদ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপির কবির আহমেদ ভূঁইয়া ও ফেনী-৩ আসনে বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

পাশাপাশি নোয়াখালী-১ আসনে স্বতন্ত্র জহিরুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মো. মঞ্জুম আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জাপার খোরশেদ আলম, নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিশের আজাদুল হক, যশোর-২ আসনে জামায়াতের মোসলেম উদ্দীন ফরিদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামাতের এ কে ফজলুল হক, শেরপুর-২ আসনে বিএনপির ফাহিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমজাদ হোসেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের মাহবুব আলম সালেহ, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির আফরোজা খানম রিতা ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

এছাড়া, ঋণখেলাপির অভিযোগে রোববার চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

কোনো পক্ষপাত করিনি
প্রার্থিতা বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে ইসি কোনো পক্ষপাত করেনি বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সেই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছেন- সবার অংশগ্রহণে সুন্দর নির্বাচন হোক।

টানা ৯ দিনের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো অনেকেই আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টি আমরা কীভাবে ছেড়ে দিয়েছি, আপনারা দেখেছেন। কারণ আমরা চাই এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক। আমরা চাই যে সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন হোক। আপনারা সহযোগিতা না করলে কিন্তু তা হবে না।’

নাসির উদ্দিন নিশ্চয়তা দিয়ে জানান, তার তরফ থেকে এবং তার দলের তরফ থেকে কোনো পক্ষপাতিত্ব করে কোনো সিদ্ধান্ত তারা দেননি।

ইসির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আমি আশা করবো, ভবিষ্যতেও আপনাদের কাছ থেকে এ ধরনের সহযোগিতা পাবো।’

এসময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি, শুধু আইন তাদের অনুমতি দিয়েছে বিধায়।’

এমওএস/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।