শেষ সময়ে আমলাদের বিরুদ্ধে উপদেষ্টারা সরব কেন?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রহর গুনছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের শেষ সময়ে এসে উপদেষ্টারা আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে একের পর এক বক্তব্য দিচ্ছেন, বিষোদগার করছেন। এসব বক্তব্য গত দেড় বছর আমলাদের আমলাতন্ত্রের পরিচালক হিসেবে কাজ করে ঠিকঠাক সংস্কার করতে না পারার দায় এড়ানো কি না- তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
উপদেষ্টারা বলছেন, আমলারা একটি বৃত্তে বন্দি হয়ে গেছেন। তারা আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। আমলাতন্ত্র একটি জগদ্দল পাথরের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো পরিবর্তন বা সংস্কার আনতে দিচ্ছে না। মানুষের ভোগান্তি লাঘবের ক্ষেত্রে আমলারা উদাসীন, তাদের দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে। তারা তাদের নিজেদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পড়ে আছেন।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান (সড়ক পরিবহন ও সেতু; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়), উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়), উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়), উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের (অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক মন্ত্রণালয়) বক্তব্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
ওনারা (উপদেষ্টারা) যে ভুল বলেছেন তা নয়। বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের মান নিচে নেমেছে, এটাতে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ মুহূর্তে তাদের এভাবে বলাটাকে আমি নৈতিক মনে করি না। কারণ ওনারা ছিলেন আমলাতন্ত্রের পরিচালক। তারা আমলাতন্ত্র চালাবেন। এই দেড় বছরে তাদের অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা করেননি। তারাও জগদ্দল পাথরের সঙ্গে গা ভাসিয়েছেন।-সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলারা বলছেন, আমলাতন্ত্রের মান তলানিতে ঠেকেছে এটা ঠিক। উপদেষ্টারা আমলাদের চালিয়েছেন। সব ক্ষমতা তাদের হাতে ছিল। শেষ সময়ে এসে উপদেষ্টাদের এমন বক্তব্য অনৈতিক। এটি নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার একটি চেষ্টা। কারণ যে প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকারের জায়গা থেকে এ সরকার গঠন করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। প্রশাসনসহ যেসব খাত সংস্কার হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো মোটামুটি আগের মতোই রয়ে গেছে।
প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ সচল রাখতে আমলাদের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যাবে না। উপদেষ্টাদের নেতৃত্বে আমলারা কাজ করছেন। তাই সংস্কার না হওয়ার জন্য আমলাদের এককভাবে দোষারোপ করা সঠিক নয়। উপদেষ্টাদের এ ধরনের বক্তব্য একটা প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার অবমূল্যায়ন।
আরও পড়ুন
কে হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, কার পক্ষে কত শতাংশ জনমত
আমলারা তো বঞ্চিত নন, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা কেন?
আমলারা রাজনীতি ও ব্যবসায় জড়িয়ে যাচ্ছেন: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
কিছু ব্যবসায়ী ও আমলা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাধা দিচ্ছে: ফাওজুল কবির
উপদেষ্টাদের এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
আমলাদের বিরুদ্ধে উপদেষ্টাদের যত বক্তব্য
গত ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তরগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কর্মকর্তাদের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমলাতন্ত্র একটি জগদ্দল পাথরের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা জনগণের বুকে চেপে বসে আছে। কিছুই করা যায় না এখানে। কোনো রকম মানবিক দায়িত্ববোধ আমাদের এই আমলাতন্ত্রে নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে একজন বলেছিল যে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে যে বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে—এই বিমানটি মাইলস্টোনে না পড়ে সচিবালয়ের ওপরে পড়া উচিত ছিল। মানুষ এত ক্ষুব্ধ। শুধু সচিবালয় নয়, সরকারি প্রতিটি দপ্তরের ওপর জনগণ অনেক ক্ষুব্ধ।’
আমলাতন্ত্রের কাজের ধরনের সমালোচনা করে সাবেক এই সচিব বলেন, ‘সবাই অফিসে আসেন, যান, গাড়িতে চড়েন। কিন্তু মানুষের জীবনের যে দৈনন্দিন সমস্যা, সেই বিষয়ে তাদের কোনো ইয়ে… নেই। তারা শুধু চিঠি চালাচালি করেন। এই রুম থেকে ওই রুমে চিঠি যায়। সভা হয়, সমিতি হয়, লাঞ্চ হয়, স্ন্যাকস হয়, কিন্তু কাজের কাজটা কিছুই হয় না। যত কিছুই করার চেষ্টা করেছি, সবকিছুই আটকে আছে।’
বর্তমান প্রশাসন স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন। যারা শীর্ষ পদগুলোতে আছেন তারা কেউই তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দেখাতে পারেননি। সংস্কার করতে হলে শক্তিশালী প্রশাসন লাগে। শক্তিশালী প্রশাসন ছাড়া কখনো কোনো দেশ সংস্কার করতে পারেনি। তাহলে কীভাবে সংস্কার হবে!-জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া
সড়কের নীতিমালা না হওয়ার কথা জানিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘সড়কের নীতিমালা আমি নিজে বসে ব্ল্যাকবোর্ডে দেখিয়ে সবকিছু বলে দিয়েছি যে এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। কিন্তু এখনো হচ্ছে না। কারণ তারা (আমলা) এর পরিবর্তন চান না। তারা চান তাদের সুযোগ-সুবিধা, পে-স্কেল বাড়াতে হবে, তাদের দুর্নীতির সুযোগ বাড়াতে হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ গোল্লায় যাক, এটা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’
পরিবেশ দূষণ, শব্দদূষণ, বায়ু, নগরীর দূষণ—সবকিছুতে পেছনের দিক থেকে প্রথম হচ্ছি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে আমাদের আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্রই আমাদের পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভাগ্য উন্নয়নে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
গত ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারে থাকা ঠিক নয়। কারণ, তার মন একটা কাঠামোর মধ্যে ফিক্সড হয়ে গেছে। এর থেকে সে বেরোতে পারে না। নতুন লোক যারা বাইরে থেকে দেখছে, তাদের নিয়ে আসতে হবে।’
গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমলারা মনে করেন অফিসার হওয়াটাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, কিন্তু অফিসার হওয়ার পর যে দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধ থাকার কথা, সেই চেতনার অভাব রয়েছে।'
আমলাতন্ত্রের স্থবিরতার বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এটা কেন আমি জানি না। এটা ব্যক্তি হিসেবে ওনাদের দোষ, নাকি আমাদের সিস্টেমের দোষ; আমি জানি না। আমি চিৎকার-চেঁচামেচি করতাম... উল্টা আমি বকা খেতাম। এমনও হয়েছে যে আমার চোখে পানি চলে আসতো যে আপনি এটা কেন করলেন না? এতদিন যাবত ফাইলে সই কেন করলেন না?’
আমলাদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার বিষয়গুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এমন স্থবির আমলাতন্ত্র নিয়ে দেশ কীভাবে এগোবে, সরকারে কাজ করার পর এই দুশ্চিন্তা আমার সব সময় থাকবে।'
আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের পুরো অফিসটাই যেন হোয়াটসঅ্যাপে। তিনি হোয়াটসঅ্যাপেই কারেকশন করেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে কাজ হয়ে যায়। অথচ ২৯-৩০ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তারা হোয়াটসঅ্যাপে অফিসিয়াল যোগাযোগ বা ডকুমেন্টস পাঠাতে অভ্যস্ত নন। তারা ফাইল ছাড়া বোঝেন না।’
একই অনুষ্ঠানে পরিবেশ, জলবায়ু ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বর্তমানে অতিমাত্রায় দলীয়করণের কারণে আমলাতন্ত্র তার সৃজনশীলতা হারিয়েছে।’
সবশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভাবছিলাম যে সংস্কারটা করে যাবো। কিন্তু সংস্কার করতে হলে সবার সহযোগিতা লাগে। প্রক্রিয়াটা ঠিকমতো লাগে। আমি ভেতরে থেকে দেখেছি, প্রক্রিয়ায় এত গলদ, চিন্তাও করতে পারবেন না। তবু তো আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ে দ্রুত সমাধান দিয়েছি। সরকারি চাকরি করার অভিজ্ঞতা থাকায় আমি জানি যে কীভাবে কী করতে হয়। অন্যরা তা পারছেন না। অনেক উপদেষ্টার অনেক হতাশা আছে।’
সংস্কার না হওয়ার পেছনে সমস্যা কি আমলাতান্ত্রিক- এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমলাতন্ত্র অবশ্যই একটা অংশ।’
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ-সাবেক আমলারা যেভাবে দেখছেন
উপদেষ্টাদের বক্তব্যের বিষয়ে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওনারা (উপদেষ্টারা) যে ভুল বলেছেন তা নয়। বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের মান নিচে নেমেছে, এটাতে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ মুহূর্তে তাদের এভাবে বলাটাকে আমি নৈতিক মনে করি না। কারণ ওনারা ছিলেন আমলাতন্ত্রের পরিচালক। তারা আমলাতন্ত্রকে চালাবেন। এই দেড় বছরে তাদের অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা করেননি। তারাও জগদ্দল পাথরের সঙ্গে গা ভাসিয়েছেন। ডানে-বামে আমলাদের নিয়ে চলেছেন, আমলাদের বুকে টেনে নিয়েছেন। আমলাদের কুপরামর্শ শুনেছেন। টিম বিল্ডিং করার চেষ্টা করেননি।’
তারা এখন নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য এ ধরনের কথাবার্তা বলছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এ সময়ে এভাবে বলাটা অনৈতিক, তবে আমলাতন্ত্রের মান যে তলানিতে নেমেছে, এটা নিয়ে আমাদের ভিন্নমত নেই।’
‘ওনারা আমলাতন্ত্রের একটি গ্রুপের খপ্পরে পড়েছিলেন, শেখ হাসিনাও এ খপ্পরে পড়েছিলেন। ওনারা সংস্কারের উদ্যোগ নেননি। ভালো কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করেননি। ভালো কর্মকর্তা কি নেই? ওনারা কি খুঁজে বের করে কাজে লাগিয়েছেন?’ প্রশ্ন রাখেন সাবেক এ আমলা।
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের হাতে তো রাষ্ট্রের স্টিয়ারিং ছিল। এখন তো কোনো রাজনৈতিক সরকারের চাপও ছিল না। তবে কেন সংস্কার আনতে পারেননি?’
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন। যারা শীর্ষ পদগুলোতে আছেন তারা কেউই তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দেখাতে পারেননি। সংস্কার করতে হলে শক্তিশালী প্রশাসন লাগে। শক্তিশালী প্রশাসন ছাড়া কখনো কোনো দেশে সংস্কার করতে পারেনি। তাহলে কীভাবে সংস্কার হবে!’
আমলারা যা বলছেন
উপদেষ্টাদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো. বাবুল মিঞা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মিটিং ডেকেছি। মিটিংয়ের পর এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবো।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমলাতন্ত্র সাংবিধানিক ও বৈশ্বিক স্বীকৃত একটি ব্যবস্থা। আমলাতন্ত্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না। এটি সমগ্র জনপ্রশাসন ও কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্ব করে। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়। আমাদের দেশে প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তি যে কাজ করার কথা, তা না করে অন্য ধরনের কাজ করেছে। কেউ যদি অনিয়ম করে, শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটায়, অদক্ষতার পরিচয় দেয় সেটার প্রতিকারও আমলাতন্ত্রের মধ্যেই আছে। তবে এ ধরনের বক্তব্য একটা সিস্টেমকে অবমূল্যান করে বলে আমরা মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর এ আমলাতন্ত্রও কিন্তু সবার সঙ্গে মিলে দেশটাকে সচল রেখেছে। কোনো কিছু বন্ধ হয়ে গেছে, এমন হয়নি। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান ছিল।’
একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘যে বক্তব্য এসেছে সেগুলো উপদেষ্টা পরিষদের বক্তব্য নয়, এগুলো কয়েকজন উপদেষ্টা তাদের মতো করে বলেছেন। তাদের নিজস্ব মতামত তারা রাখতেই পারেন।’
আরেকজন কর্মকর্তা নাম পদবি প্রকাশ না করে বলেন, ‘সংস্কার কোনো নির্দিষ্ট সময়ের বিষয় নয়, এটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা তো সংস্কারের মধ্য দিয়েই যাচ্ছি। রাষ্ট্রের যে জায়গাগুলোতে আমাদের যে ভূমিকা রাখার দরকার ছিল, আমি নাগরিক হিসেবে মনে করি সে জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্ব একটি বিশাল ভূমিকা রাখে। তাই সংস্কার না হওয়ার পেছনে আমলাতন্ত্রকে এককভাবে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।’
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সরকারের প্রথম দিকে আলী ইমাম মজুমদারকে প্রশাসন দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা করা হয়। এরপর প্রশাসন চালানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকায় ছিলেন ফাওজুল কবির খান ও উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আরএমএম/এএসএ