অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার নিয়ে বই প্রকাশ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:২৮ এএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার নিয়ে বই প্রকাশ/ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া প্রধান প্রধান সংস্কার উদ্যোগগুলো তুলে ধরে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

বইটিতে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশ গভীর অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক সংকট নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করে। ওই প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে।’

‘গত ১৮ মাসে সরকার প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন আইন ও সংশোধিত আইন মিলিয়ে) প্রণয়ন করেছে এবং ৬০০টির বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পুনর্গঠনের তাগিদকে প্রতিফলিত করে। এসব পদক্ষেপের প্রায় ৮৪ শতাংশ এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা কেবল বক্তব্যনির্ভর বা বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, বরং বাস্তব ও দৃশ্যমান সংস্কারের প্রমাণ।’

‘অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পারস্পরিক শুল্কহার কমানো হয়েছে এবং চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার হয়েছে।’

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।’

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারের অংশ হিসেবে ১ হাজার ২০০-এর বেশি কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হন এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু হয়। র‍্যাব পুনর্গঠন করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ রাখা হয়েছে।’

‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক আওতায় আনা হয়েছে এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং বন্ধ থাকা গণমাধ্যম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

অন্তর্বর্তী সরকার সাত মাসব্যাপী জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করে, যা সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে গণভোটের অপেক্ষায় রয়েছে।

বইটিতে বলা হয়েছে, সংস্কার প্রক্রিয়া এখনো চলমান হলেও বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হয়েছে।

এমইউ/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।