প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীরা যেসব সুবিধা পান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এরপর নতুন নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স (রেমুনারেশেন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ১৯৭৫’ এবং মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ‘দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ১৯৭৫’ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে আইনটি দুটি সংশোধন হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী যেসব সুবিধা পান
আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেতন, বাসস্থান, ভ্রমণ, চিকিৎসা, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুবিধার একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আইনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধার আইনি ভিত্তি রয়েছে।

বেতন, ভাতা ও আর্থিক সুবিধা
প্রধানমন্ত্রী মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতন পান। সফরকালে দৈনিক ভাতা নির্ধারিত আছে ৩ হাজার টাকা। রাষ্ট্রীয় অতিথি আপ্যায়ন ও বিনোদন সংক্রান্ত সব ব্যয় সরকার বহন করে। পাশাপাশি বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা একটি বিশেষ বিবেচনাধীন তহবিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ থাকে, যা নির্ধারিত নিয়মে ব্যয় করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি সরকারি বাসভবন থাকে, যা সরকারের খরচে সজ্জিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ সব ইউটিলিটি বিল সরকার বহন করে। সরকারি বাসভবনে না থেকে নিজ বাড়িতে থাকলে মাসিক ১ লাখ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে বাড়ির আসবাব, সাজসজ্জা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও সরকার বহন করে এবং বছরে বাড়িভাড়ার তিন মাসের সমপরিমাণ অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা দেওয়া হয়। দায়িত্ব ছাড়ার পর এক মাস বিনা খরচে সরকারি বাসভবনে থাকার সুযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন
জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো: তারেক রহমান
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা ঘিরে আলোচনায় যারা
নতুন সরকারের কাছে শান্তি ও স্বস্তি চায় সাধারণ মানুষ
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
দায়িত্ব গ্রহণ ও ছাড়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর নিজের ও পরিবারের যাতায়াত ব্যয় সরকার বহন করে। ঘরের আসবাবপত্র পরিবহন (সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ কেজি) এবং ব্যক্তিগত গাড়ি পরিবহনের খরচও সরকারি অর্থে হয়। দেশের ভেতরে ভ্রমণে প্রধানমন্ত্রী ভিআইপি মর্যাদা পান—রেল, নৌ, সড়ক ও আকাশপথে সরকারি খরচে যাতায়াত, পরিবার ও সহকারীসহ ভ্রমণ এবং প্রয়োজনে সরকারি উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভাতা ও সুবিধা প্রযোজ্য।
প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার দেশের যেকোনো উপযুক্ত হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পান। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার ব্যয়ও সরকার বহন করে। আকাশপথে ভ্রমণের জন্য বছরে ২৫ লাখ টাকার বিমা কাভার রয়েছে। নিজের ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য সরকারি খরচে যেকোনো পরিবহন ব্যবহারের অধিকার আছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালি কর্মচারী নিয়োগের সুবিধাও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীরা যেসব সুবিধা পান
একজন মন্ত্রী মাসে বেতন পান এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রীরা প্রতি মাসে বেতন পান ৯২ হাজার টাকা। একজন উপমন্ত্রী বেতন পান ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী কাউকেই তাদের বেতনের জন্য কোনো কর দিতে হয় না।
এছাড়া একজন মন্ত্রীর দৈনিক ভাতা দুই হাজার টাকা, নিয়ামক ভাতা মাসিক ১০ হাজার টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল ১০ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।
সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি থাকে। ঢাকার বাইরে অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি পাবেন, যার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ সরকারি বাসভবনের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করবে। সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৮০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ ও সব ধরনের সেবা খাতের বিল পাবেন একজন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন
আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন: তারেক রহমান
কবে গঠিত হবে নতুন সরকার?
মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাবেন এক হাজার মানুষ
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ মঙ্গলবার বিকেলে
সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়াও একজন মন্ত্রী বাসস্থান থেকে অফিস বা অফিস থেকে বাসস্থানে যাতায়াতের খরচ পাবেন। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ খরচও তিনি পাবেন। এছাড়া অন্তত দুইজন গৃহকর্মীর ভ্রমণের খরচ পাবেন।
উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং ক্যাডারের বাইরে থেকে আরেকজন সহকারী একান্ত সচিব পাবেন। জাতীয় বেতন স্কেলে দশম গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তা থাকবে। আরও পাবেন একজন জমাদার ও একজন আর্দালি, দুইজন এমএলএসএস, একজন পাচক বা পিয়ন।
প্রতিমন্ত্রীদের দৈনিক ভাতা দেড় হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রীর নিয়ামক ভাতা ৭ হাজার ৫০০ টাকা। স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে ৭ লাখ টাকা। মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা পান একজন প্রতিমন্ত্রী।
তারাও গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ সরকারি ভবন পান। এর যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করে। সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৭০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ সব ধরনের সেবা খাতের বিল ও বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ পেয়ে থাকেন।

প্রতিমন্ত্রীরা উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং ক্যাডারের বাইরে থেকে আরেকজন সহকারী একান্ত সচিব পাবেন। জাতীয় বেতন স্কেলে দশম গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তাও পান তিনি। আরও পাবেন একজন জমাদার ও একজন আর্দালি, দুইজন এমএলএসএস, একজন পাচক বা পিয়ন।
উপমন্ত্রীর দৈনিক ভাতা দেড় হাজার টাকা। নিয়ামক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা। স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে ৫ লাখ টাকা। উপমন্ত্রীও মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা পান।
উপমন্ত্রীও সরকারি বাসা পেয়ে থাকেন। সরকারি বাড়িতে না থাকলে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৭০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ ও সব ধরনের সেবা খাতের বিল তিনি পান।
এছাড়া একজন উপমন্ত্রী সহকারী সচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব এবং ক্যাডারের বাইরে থেকে আরেকজন সহকারী একান্ত সচিব পান। এছাড়া একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার ও একজন আর্দালি, একজন এমএলএসএস, একজন পাচক বা পিয়ন পেয়ে থাকেন একজন উপমন্ত্রী।
আরএমএম/এমএমএআর