চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারায় দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৬ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুদক কার্যালয়ের সামনে দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজের নেতারা অভিযোগ জানান/ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং, লালদিয়া ও পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’ নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনের নেতারা রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজের মুখপাত্র মো. আল আমিন হোসেন ও সহ-মুখপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও সাবেক নৌ উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনের নামেও অভিযোগ করেন।

সংগঠনটির অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তির মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং এখনো সে তৎপরতা চলছে। এর আগে প্রতিবাদের মুখে উদ্যোগটি স্থগিত হলেও বর্তমানে আবারও একই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে।

সংগঠনটি জানায়, গত ১৭ নভেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল ইজারার ৪৮ বছর মেয়াদের কনসেশন চুক্তি এবং একই দিনে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল ইজারায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ এসএ কোম্পানির সঙ্গে ২২ বছরের কনসেশন চুক্তি সই করা হয়। তাদের দাবি, চুক্তিগুলো অস্বাভাবিক দ্রুততায় সম্পন্ন এবং ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা গোপন শর্তের আওতায় করা হয়েছে।

নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হলে সংশ্লিষ্টরা ৬০০ কোটি টাকা কমিশন পেতে পারেন- এমন অভিযোগ দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজের। সংগঠনের মুখপাত্র মো. আল আমিন হোসেন বলেন, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান না করে নির্দিষ্ট বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ায় কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, নিউমুরিং টার্মিনালের ইজারা প্রক্রিয়া এবং লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের কনসেশন চুক্তি তদন্ত করে কমিশন বা ঘুষ লেনদেন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হোক। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্টদের দেশি-বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা এবং প্রমাণ নষ্ট বা বিদেশে পলায়ন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এসএম/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।