বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু ৯ জানুয়ারি
টঙ্গীর তুরাগতীরে আগামী ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ১১ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই পর্বের সমাপ্তি এবং চার দিন বিরতি দিয়ে ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। ১৮ জানুয়ারি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে বিশ্ব ইজতেমার। এরই মধ্যে বিশ্ব ইজতেমায় নিরাপত্তাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এতে অংশ নেন। প্রতিবছরের মতো এবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও কলকারখানার শ্রমিক-মালিকসহ বিভিন্ন পেশার মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করেছেন। ময়দানে মুসল্লিদের কাতারবদ্ধ হওয়ার জন্য পুরো মাঠে দাগ কাটা সম্পন্ন হয়েছে। জেলাওয়ারি মুসল্লিদের স্থানও (খিত্তা) নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রথম পর্বের জন্য পুরো ময়দানকে ৪০টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্থানীয় সাংসদ জাহিদ আহসান রাসেল ইজতেমার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন। এছাড়া গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশীদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা দায়িত্ব পালন করছেন।
ইজতেমার মাঠের প্রস্তুতির তদারকির দায়িত্বে থাকা তাবলিগের এক মুরব্বি জানান, সব কাজ করা হচ্ছে মোশাআরার (পরামর্শ) মাধ্যমে। বিদ্যুৎ, পানি, প্যান্ডেল তৈরি, গ্যাস সরবরাহ প্রতিটি কাজই সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসন এ বছর ইজতেমার বিভিন্ন নির্মাণ কাজের জন্য এক হাজার বান্ডেল টিন সরবরাহ করেছে। মুসল্লিদের তুরাগ পারাপারে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড নদীর ৯টি স্থানে ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের টঙ্গী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ইজতেমা মাঠে স্থাপিত ১১টি উৎপাদন নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন তিন কোটি লিটারেরও বেশি বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত ও সরবরাহের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওজু-গোসলের হাউস ও টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় স্থানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডেসকো কর্তৃপক্ষ জানায়, ইজতেমা এলাকায় সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রিড ও টঙ্গী নিউ গ্রিডকে মূল ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যাতে যে কোনো একটি গ্রিড অকেজো হলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়। ইজতেমা এলাকায় চারটি স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর এবং পাঁচটি ট্রলি-মাউন্টেড ট্রান্সফরমারও সংরক্ষণ করা হবে।
টঙ্গীর ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, ইজতেমাস্থলে তাদেরও একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি খিত্তায় ফায়ার ডিস্টিংগুইসারসহ ফায়ারম্যান ও বিদেশি মেহমানখানা এলাকায় তিনটি পানিবাহী গাড়ি, তিন সদস্যের ডুবুরি ইউনিট, একটি স্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট এবং পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন জানান, মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে টঙ্গী হাসপাতাল মাঠসহ ছয়টি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। রোগীদের হাসপাতালে নিতে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে। আশপাশের খাবার দোকান ও ইজতেমাস্থলে বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিতে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
বিআরটিসির এক কর্মকর্তা জানান, মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য সাতটি স্টেশন থেকে ৩০০টি বাস চলাচল করবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশি মেহমানদের যাতায়াতের জন্য পাঁচটি এসি বাসও থাকবে।