বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজনীতি করার সুযোগ নেই আ’লীগের: সংসদে পার্থ
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য (এমপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, অনেকে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে কথা বলে। জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। জুলাইকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। এ বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আন্দালিভ রহমান। এদিকে তার বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। আন্দালিভ রহমান বলেন, বিদ্যুতের সংকট নিয়ে কথা বলার সময় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অমিত সাহেব বলেছিলেন ‘ফ্যাসিস্টের অব্যবস্থাপনা’।
এটা খুবই নমনীয় এবং দুর্বল শব্দ। আওয়ামী লীগের আমলে বিদ্যুৎ সেক্টরে কোনো অব্যবস্থাপনা হয়নি, হয়েছিল লাগামহীন দুর্নীতি ও চুরি হয়েছিল বিদ্যুৎ খাতে। আর্টিফিশিয়াল ক্রাইসিস সৃষ্টি করা হয়েছিল। গ্যাস উত্তোলন করা হয়নি ব্যাপেক্স দিয়ে। ফেয়ার করা হয়েছিল তৌফিক সাহেবকে দিয়ে, যা ছিল সম্পূর্ণ ব্লাফ। কুইক রেন্টাল দিয়ে কুইক ডিস্ট্রয় করা হয়েছিল দেশকে। সেই বোঝা দেশ বহন করছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অত্যাচারের কথা গত ১৭ বছরে তরুণ সমাজের কাছে কানেক্ট করা যায়নি বলেই এখন তারা ৩৬ জুলাইয়ের কথা বলে। এটা তাদের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন তিনি। পার্থ বলেন, আমরা তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারি না। কানেক্ট করতে পারলে তারা উপলব্ধি করতে পারতো আমরা গত ১৭ বছরে কতো ছোট ৩৬ জুলাই করেছিলাম। খালেদা জিয়ার বিচারের রায় গণভবনের বারান্দায় লেখা হয়েছিল বলে দাবি করেন পার্থ।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রায়ও হয়তো গণভবনের কোনো করিডর থেকে লেখা হয়েছিল। বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা হয়েছিল। আমলাতন্ত্র.. তিতাসে নাকি কেজি ধরে টাকা খেত। ওয়াসার এমডিকে সরানোর জন্য হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। বিসিএস পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের পেছনে জাতির জনক লেখা না হলে পরীক্ষায় পাশ করা হয় নাই। এরপর ডিএনএ টেস্ট করে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বিসিএসে নিয়োগ হয়েছিল। গণমাধ্যমের মালিকেরা রাতে ঘুমাতে পারতো না বলে দাবি করেন আন্দালিভ রহমান।
পার্থ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা একটা স্ট্যাটাস লিখে ১০ বার ডিলিট করতাম। এই বুঝি আইসিটি অ্যাক্টে আমাদের ধরলো কিনা? বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এও শুনেছি তারা মা, আম্মু বলে সম্বোধন করেছে। কবিতা বলেছে তুমি আমার প্রথম, তুমি আমার দ্বিতীয়।
বিরোধীদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা এখানে বসে এতো সুন্দর কথা বলেন। অর্ধেকতো (সরকারি দলের সংসদ সদস্য) ওনার ভক্ত হয়ে গেছে। উনি এতো সুন্দর করে বলেন, কেন না, আসুন না, কেন আমরা এটা করতে পারি না।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পড়ছি মুসিবতে। সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো! তাই আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষা ও গণঅভ্যুত্থানকে পদদলিত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো আরেকটি জুলাইকে স্বাগত জানানো, ফ্যাসিবাদের নতুন ধারার সূচনা করা।
একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাই ঐকবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবেন—এমন আশা ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদে ও সংসদের বাইরে সে পরিবেশ ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, একজন ঋণখেলাপী দলীয় লোককে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে বসানো হয়েছে। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য অশনীসংকেত।
এমওএস/এমএমকে