প্রধানমন্ত্রী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে চান: শামসুল হক
নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে চান বলে জানিয়েছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারি যে পরিবহন একটা বড় সমস্যা। এটাকে আমাদের সমাধান করতেই হবে। জনগণের জন্য জনবান্ধব একটা পরিবহন ব্যবস্থা দিতে হবে। উনি (প্রধানমন্ত্রী) যেহেতু ১৬ বছর লন্ডনে ছিলেন, গণপরিবহনটা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আমরা দুই ঘণ্টা এটা নিয়েই কথা বলেছি।
‘তিনি খুব আহত হন যখন জনগণের গণপরিবহনের এক্সেসটা দেখেন খুব সীমিত। পার্টিকুলারলি ফিমেল যারা আছে, তাদের প্রাইভেসি ইস্যু হচ্ছে, তারা ভালো কোনো গণপরিবহন পাচ্ছে না, সেফটি-সিকিউরিটি নেই। কী করা যায়, এই কী করার ভাবনা থেকেই উনি আমার সাথে কথা বলেন। বিশেষ করে গণপরিবহনের সর্বোৎকৃষ্ট যে মাধ্যম মেট্রো, এর বাইরেও আরও কিছু করা যায় কি না— যেটা উনি অলরেডি বলেছেন— মনোরেল যেহেতু সাশ্রয়ী মূল্যে খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।’
বুয়েটের দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক (এআরআই) পরিচালক শামসুল হক বলেন, ‘পূর্ব দিকের বাসাবো, গোরান, মাদারটেক, পুরানো টাউনে বিপুল জনগোষ্ঠী বাস করে। তারা কিন্তু ইভেন বাসও পায় না। মেট্রোগুলো সাধারণত প্রধান সড়কগুলোর ওপর দিয়ে গেছে। সো এটাকে যদি মেট্রোর বাইরে অন্য কোনো সংস্করণে আনা যায়— মেট্রো তো একটা না, আমরা একটা চিনেছি মেট্রো, কিন্তু ভারী মেট্রো। এটার যেমন দরকার আছে, ব্রডব্যান্ড কানেকশনের পাশাপাশি, কিন্তু লাইট রেলও দরকার আছে, মনোরেল দরকার আছে, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি দরকার আছে, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) দরকার আছে, এবং অর্ডিনারি বাস— সবকিছুই দরকার।’
‘কিন্তু, রেগুলেটেড হতে হবে। ঘিঞ্জি এলাকা যেখানে মেট্রো যাবে না, মেট্রোকে সাপ্লিমেন্ট করার জন্য আর কি করতে পারি, সেটার একটা স্টাডি করে উনাকে (প্রধানমন্ত্রী) একটা প্রস্তাব দেওয়া, যেন ওনারা এই বছর কাজ আরম্ভ করতে পারেন।’
শামসুল হক বলেন, উনার আগ্রহ দেখলাম গণপরিবহনটাকে সুশৃঙ্খখল করা। এটা করতে গিয়ে যা যা করতে হয় মেট্রো মেট্রোর জায়গায় হবে কিন্তু এটা যেন সমন্বিতভাবে অন্যান্য মেট্রো সংস্করণগুলো আছে সেগুলোর সঙ্গে যেন সমন্বিত হয়।
‘প্রাথমিকের মধ্যে থাকবে নারীদের জন্য আবেদন সৃষ্টিকারী এবং সিকিউর গণপরিবহন— বাস, নারীরাই চালাবে এবং সবচেয়ে বড় আগ্রহটা দেখলাম, খুব ভালো লেগেছে— তিনি ইলেকট্রিফিকেশন বাস দিয়েই আরম্ভ করতে চাচ্ছেন। উনিও চাচ্ছেন ১৮০ দিনের মধ্যে ইলেকট্রিক বাসভিত্তিক গণপরিবহন প্রথমেই, বিশেষ করে নারীদের জন্য, এইটা করার জন্য আগ্রহ তার।’
তিনি আরও বলেন, ‘উনি বলছেন, হ্যাঁ, আমাদের বাসগুলো অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল, বিশৃঙ্খল। এটাকে সুশৃঙ্খল করতে গেলে যা যা করণীয়, আরম্ভ করি না? আমরা পাইলটিং করে, জোন করে আরম্ভ করি। কম বিনিয়োগে বেশি মানুষকে কভারেজ দেওয়ার ব্যাপারে উনার আগ্রহ। আমি যখন বললাম— এটার জন্য উন্নয়ন যন্ত্রণাটা একটু কম হয়। আপনি স্টিলের যদি পিয়ার বানান, এইটাকে আপনি প্রিফ্যাব্রিকেটেড করে এখানে ইনস্টল করবেন— তাহলে এই ঘিঞ্জি এলাকায় উন্নয়নের পেইনটাও কম হবে। পুরো ঢাকার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় রেলভিত্তিক গণপরিবহনে যাওয়া যাবে। আর ঢাকাকে ডিসেন্ট্রালাইজ করার ব্যাপারেও কিন্তু উনার বড় একটা আগ্রহ দেখলাম— রেলভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে।’
‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলছেন, হোয়াই নট— চিটাগং থেকে এখানে এসে অফিস করব কেন হবে না? আমরা দ্রুতগতির ট্রেন বানাতে যা যা করা লাগে, সেইভাবে করতে পারলে ঢাকার ওপর চাপটা আপনা-আপনি কমে যাবে' বলেন বুয়েটের শিক্ষক শামসুল হক।’
আরএমএম/এমআরএম