ট্যাংকি ফুল করার হিড়িক, পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৬ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় ঢাকায় তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে/ছবি-মো. নাহিদ হাসান

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলচালকরা ফুল ট্যাংকি করে রাখছেন, ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিলিং স্টেশন (তেল পাম্প) বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এতে অনেকেই গাড়ির তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

নীলক্ষেত-নিউমার্কেটের সবকটি তেলের পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। নীলক্ষেত মোড়ের পথের ‌‘বন্ধু ফিলিং স্টেশনে’র স্টাফ মিলন বলেন, বিকেল থেকেই চাহিদা বেশি ছিল, যা তেল ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। গাড়ি না এলে আর তেল দিতে পারবো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের উল্টো পাশের পাম্পের বিক্রেতা বলেন, পাম্পে তেল নেই। রাত ৯টার পর গাড়ি আসার কথা। গাড়ি এলে তারপর তেল সাপ্লাই দিতে পারবো। এখন তেল নাই তাই বন্ধ রাখছি।

jagonews24

৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না শেওড়াপাড়ার মেসার্স সোবহান ফিলিং স্টেশন। এই পাম্পটিতে মোটরসাইকেল যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। সাধারণত এই পাম্পটি ফাঁকা থাকে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই পাম্পটিতে ভিড়। রাতে মোটরসাইকেলচালকদের বেশি ভিড় দেখা গেছে।

এই পাম্পের কর্মচারী মজিবুর জাগো নিউজকে বলেন, আজ ভিড় বেশি। আশপাশের অনেক পাম্পে তেল নেই। মালিকপক্ষ বলেছে ৫০০ টাকার বেশি তেল কোনো মোটরসাইকেলকে না দিতে। আমরা তাই ৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছি না। রোববার থেকে তেলের সংকট দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

গাড়ির তেল নিতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। মোস্তফা আহমেদ নামের একজন বলেন, তেল নিতে আসছিলাম। এসে দেখি পাম্প বন্ধ। পাম্পের লোক বলছে তেল নেই। সরকার বলছে আসছে, এরা বলছে নেই। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দিয়ে ভরসা নেই। হতে পারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

নীলক্ষেত মোড়ে রাসেল মিয়া বলেন, তেল নেবো কিন্তু পাম্প বন্ধ। বলছে তেল নেই। যুদ্ধের কারণে সংকট হলে এখনই তো আর তেল শেষ হয়ে যায়নি। জানি না দাম বাড়ানোর জন্য পাম্প বন্ধ রাখছে কি না।

এদিকে মার্চ মাসে দেওয়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের, পেট্রোল প্রায় ১৫–১৭ দিনের, অকটেন প্রায় ২৮ দিনের, ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের, জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত আছে।

সরকারি তথ্যের হিসাবে এখনই জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। তবে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এনএস/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।