রফিকুল ইসলাম খান

জুলাই চেতনা বাস্তবায়নে সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে, আমরা করবো

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২৬
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান/ছবি সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। জুলাই চেতনাকে সমুন্নত রেখে সংবিধানের পরিবর্তনের দরকার হলে, পরিবর্তন হবে। তাই জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের কোনো ধারা পরিবর্তনের বিষয়ে কেউ দ্বিমত করবে ন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে, কোনো কোনো অধ্যাদেশের ব্যাপারে আমরা একমত হয়ে গেছি, আর কিছু বিষয় নিয়ে পরবর্তী মিটিংয়ে আলোচনা হবে।

চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করার অধ্যাদেশ সুপারিশের বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে বলে জানান রফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, আমাদের আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা শুরু থেকেই বলে আসছেন- আমরা শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করবো না। দেশের ও জনগণের স্বার্থে যে কোনো বিষয়ে সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা করবো। তবে দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে বা ইসলামের বিরুদ্ধে যাবে- এমন যে কোনো বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেবো। এখানেও একই ভূমিকা রাখতেছি।

জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, অধ্যাদেশে যেসব বিষয় এসেছে, তাতে আমরা একমত। বৈঠকে আলোচনা হওয়া বেশিরভাগ অধ্যাদেশ সুপারিশ আকারে সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, প্রথম দিনের বৈঠকে ২৭ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ছাড়া বাকি সব অধ্যাদেশের অধিকাংশ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে কমিটি।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-২০২৬ ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম খান।

বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে সাংবিধানিক বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমরা সবসময় দেশের জন্য যেটা দরকার, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জরুরি বিষয়গুলো অবশ্যই বলবো। সেটা বললেও বলবো, না বললেও বলবো।

সংবিধান ও জুলাই আকাঙ্ক্ষার মধ্যে কোনটি প্রাধান্য পাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে অবশ্যই প্রাধান্য দেবো। কারণ জুলাই বিপ্লব না হলে আমরা সংসদ সদস্য হতে পারতাম না, আজ সংসদ ভবনে আসতে পারতাম না। এটাকে আমরা অবশ্যই প্রায়োরিটি দেবো।

তিনি বলেন, সংবিধান তো মানুষের জন্য। সংবিধান তো কোরআন বা ওহি নয়। সংবিধান তো সবসময় পরিবর্তন হয়েছে। জুলাই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তো সংবিধানের সঙ্গে বেশি বিরোধ বাধার কথা না। সংবিধান তো মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ না। জুলাই চেতনাকে সমুন্নত রেখে সংবিধানের পরিবর্তনের দরকার হলে, পরিবর্তন হবে। দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে পরিবর্তন হতেই পারে। জুলাই চেতনাকে বাস্তবায়নে সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে, আমরা করবো। এখানে তো কারও দ্বিমত থাকার কথা না।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের ফ্যাসিবাদ সরকারের সাধারণ সম্পাদক সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় অনেক কিছু করেছেন। উনি বলতেন সংবিধানের বাইরে এক চুল নড়বেন না।

এমওএস/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।