রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের নামাজ ‘স্মরণীয় হয়ে থাকবে’
সাভার থেকে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে এসেছেন শওকত মোল্লা। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কলেজপড়ুয়া ছেলে আহনাফ হোসেনকে। বাপ-ছেলে এবারই প্রথম জাতীয় ঈদগাহে এসেছেন নামাজ পড়তে।
জানতে চাইলে শওকত মোল্লা বলেন, আজকে নামাজ পড়ে বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করলাম। পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য দোয়া করলাম, আমরা যেন সবাই ভালো থাকি। আজ এখানে এসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নামাজ আদায় করলাম। খুব ভালো লাগলো।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ঈদের নামাজ শেষে এভাবেই অনুভূতি জানাচ্ছিলেন শওকত মোল্লা। এর আগে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়।
সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঈদের নামাজ আদায় করলেন।
এদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ৫ মিনিট পর আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মুসল্লিরা।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে জাতীয় ঈদগাহে এসেছেন আনারুল ইসলাম। গত ২০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এবার ঈদ জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন তিনি।
আনারুল ইসলাম বলেন, দেশের সর্বোচ্চ দুই ব্যক্তি একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়লেন, এটা সচরাচর আমাদের দেশে দেখা যায় না। আজ আমাদের মধ্যে একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে। আমাদের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আজকের এই মুহূর্তটি আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এর আগে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে থেকেই দীর্ঘ লাইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা।
মেঘলা আকাশ ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের ঢল নামে। এদিন ভোর থেকেই রাজধানীর নানান প্রান্ত থেকে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। ঈদের জামাত শুরুর অনেক আগেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
ঈদ জামাতে নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। উত্তরা থেকে প্রথমবারের মতো নামাজ পড়তে এসেছেন নাদিরা রাহমান।
কথা হলে তিনি বলেন, নারীদের জন্য নামাজের খুব সুন্দর একটা পরিবেশ ছিল। আমরা সবাই খুব ভালোভাবে নামাজ পড়তে পেরেছি। আর বড় কথা হলো- একই কাতারে আমাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নামাজ পড়েছেন। এটা আমাদের জন্য খুব এক্সাইটিং ব্যাপার ছিল।
এমওএস/এমকেআর