গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব করেছে সরকারি দল, দাবি জামায়াতের
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য ক্ষমতাসীন তথা সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদের বিশেষ কমিটিতে প্রস্তাব করা হয়েছে, এমন দাবি করেছে সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াত।
বিরোধী দলীয় হুইপ ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বিএনপির আপত্তির কারণে বুধবার অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। আগামী রোববার অনুষ্ঠিত তৃতীয় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের মুলতবি বৈঠক শেষে সংসদ গেটে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
রফিকুল ইসলাম খান জানান, বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে প্রায় ১১৫টি সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছে সরকারি দল ও বিরোধী দল। গণভোট, দুদক কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশসহ ১৮টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনো একমত হওয়া যায়নি।
জামায়াতের দাবি, সার্চ কমিটি বাতিল করে দুদক ও পুলিশ প্রশাসনে সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ‘জুলাই বিপ্লবের’ চেতনার পরিপন্থি।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট বিল রহিত করার যে প্রস্তাব সরকার এনেছে, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করেছি। গণভোট অস্বীকার করলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাই আর থাকে না।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগে এতদিন একটি সিস্টেম বা সার্চ কমিটি ছিল। কিন্তু এখনকার প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে সেই সার্চ কমিটি বাদ দিয়ে সরকার যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নিতে চাচ্ছে। একইভাবে পুলিশ কমিশনার এবং আইজিপি নিয়োগেও পেশাদারত্বের চেয়ে সরকারের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা বলেছি, এটি জুলাই চেতনার পরিপন্থি এবং আমরা এতে একমত হইনি।
সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, টু-থার্ড মেজরিটির দোহাই দিয়ে অতীতের সরকার অনেক কিছু করেছে। কিন্তু অহংকার কোনো জাতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। জনগণের স্বার্থ পরিপন্থি কোনো বিষয়ে আমরা একমত হবো না। যে সংস্কার ও বিচারের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার এসেছিল—গুম কমিশন বা মানবাধিকার কমিশনের মতো সেই অর্জনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি জানান, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যায়নি, সেগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ আবারও আলোচনা হবে। এরপর ২ অক্টোবর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোনো আইন বেআইনি কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবে। কিন্তু সচল কোনো আইন বা অধ্যাদেশকে একতরফা বাতিল করার প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করিনি।
এমওএস/এমকেআর