পহেলা বৈশাখে বেচাকেনায় হাসি ফুটেছে হকারদের মুখে
‘সকাল থেকে চার হাজার টাকার চরকি বিক্রি করেছি। এখন আছে ৬০টা, আশা করছি ১৫- ২০ মিনিটেই বিক্রি হয়ে যাবে।’ কথাগুলো বলছিলেন বিক্রেতা শফি উদ্দিনের।
তিনি প্রতি পহেলা বৈশাখে চরকি বিক্রি করেন। বড় চরকি প্রতিটি ১০০ টাকা, আর ছোট চরকি প্রতিটি ২০ টাকা। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ টেনিস কমপ্লেক্স সংলগ্ন রমনা পার্কের গেটে কথা হয় এই বিক্রেতার সঙ্গে।
এই বিক্রেতার মতোই আরও অনেকেই পার্কের ভেতরে ও বাইরে নানান পণ্যের সমাহার নিয়ে বসেছেন। প্লাস্টিকের ঢোল, প্লাস্টিকের বাঁশি, খেলনা ছিল। ডুগডুগি, টম টন গাড়ি, কাঠের গাড়ি, মাটির তৈজসপত্র, পুতুল, বেলুনসহ হরেক রকমের খেলনা ও ঘর সাজানোর পণ্য বিক্রি করেছেন হকাররা।

পার্কের ভেতরে গ্যাস বেলুন বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন জানান, গ্যাস বেলুন কিনছে শিশুরা। আর বড়রা গ্যাস বেলুনগুলো নিয়ে ছবি তুলছেন। কেবল ছবি তুলতে দিয়েই সাড়ে ৩ শত টাকা আয় হয়েছে। এছাড়া গ্যাস বেলুন ও বিক্রি হচ্ছে ভালো।
পার্কের ভেতরে কাগজের চরকি বিক্রি করছিলেন আরেকজন। তিনি ছোট চরকি প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। জানালেন, সকাল থেকে বিক্রি ভালো। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রি করে কেরানীগঞ্জ চলে যাবেন।
টেনিস কমপ্লেক্সের সামনে তালের আঁশের দিয়ে তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করছিলেন হামিদ আলী। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে বেচাকেনা করার জন্য বগুড়া থেকে এসেছি। কাল ও এই এলাকায় বেচাকেনা করবো। গত কয়েকবছরের তুলনায় এবারের বিক্রি ভালো।

তার পাশের আরেক লোক মাটির খেলনা টমটম, কাঠের গাড়ি বিক্রি করছিলেন। তিনিও এসেছেন বগুড়া থেকে। জানালেন বিকেলের পর আরও বিক্রি বাড়বে। সব খরচ বাদ দিয়ে ৫-৬ হাজার টাকা থাকবে।
বারডেম হাসপাতালের গেটে ছোট ঢোল, একতারা, ডুগডুগি কিনতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র তুর্যকে।

তিনি বলেন, ছোট ছোট ঢোল ৭০০-৮০০ টাকা চাইছে। ডুগডুগির দাম বেশি বলছে। আমরা অনেক পিস কিনবো, তাই দরদাম করে কমাতে চাইছি।
শাহবাগ মোড়ে কয়েকজন মাটির তৈজসপত্র বিক্রেতা জানান, ছোট পুতুল, প্লেট, বাটি বিক্রি ভালো হচ্ছে। কিন্তু বড় পাতিল বা পুতুলের বিক্রি নেই।
এসএম/এমআরএম