‘এত লোডশেডিং শেষ কবে হয়েছে ভুলে গিয়েছি’
দেশে বিদ্যুৎ সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। বিপরীতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ জনপদে। শহরের তুলনায় গ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানকার জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গ্রামের মানুষেরা বলছেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের। তারা ঠিক মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে দেশে এত লোডশেডিং হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের আশ্রয় নিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোকে। উৎপাদন কমে যাওয়াকে এ সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কৃষিকাজ, ছোট ব্যবসা ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত গত কিছুদিনের ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রামের মানুষদের কষ্ট অনেক বেড়ে গেছে।
গ্রামীণ কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিক নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাম ও শহরে বৈষম্য কমাতে রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে, এখন যে কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে, এটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কমে যাবে। সরকারও স্বীকার করছে, প্রচণ্ড গরমের দিনগুলোতে অনেককেই অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে নাজেহাল হচ্ছে। তবে এ সমস্যাকে বিগত সরকারের ‘অব্যবস্থাপনার দায়’ হিসেবেও দাবি করছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে শহর-গ্রাম উভয় এলাকায়ই সমন্বিতভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। যদিও বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব শহরের তুলনায় অনেক বেশি।

জ্বালানি সংকট, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছর গ্রীষ্মে গরমের মাত্রা বাড়তে পারে। গত ২২ এপ্রিল বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় উত্তরের জেলা রাজশাহীতে—৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আরও পড়ুন
জ্বালানি সংকটে পথ দেখাচ্ছে চীন, তিব্বতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপ্লব
আদানির এক ইউনিট বন্ধ, সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং
তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকি কখন বিদ্যুৎ আসে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সংকট দেখা দেয় বিশ্বজুড়ে। কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের অভাবে বাংলাদেশে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এসময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
বিদ্যুৎ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছি। লোডশেডিং অনেক বেড়ে গেছে। একদিকে পাম্পে গিয়ে তেল পাই না, অন্যদিকে বাসায় এসে বিদ্যুৎ পাই না। আমরা সাধারণ জনগণ কোথায় যাবো?—আনিস আহমেদ
গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার এই সময়ে ভারতীয় কোম্পানি আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে গত ২১ এপ্রিল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহও নেমে যায় অর্ধেকে। ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বাড়ে।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে সেখানে।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত কিছুদিন ধরে গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল আদানির কেন্দ্রটি। একটি ইউনিট বন্ধের পর উৎপাদন কমে ৭৫০ থেকে ৭৭০ মেগাওয়াটে নেমে গেছে। পিডিবি সূত্রে জানা গিয়েছিল, ইউনিটটি চালু হতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
শুধু আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়াই নয়, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মিত ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও বন্ধ। এছাড়া চট্টগ্রামের বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন করছে অর্ধেক।
বিদ্যুৎশক্তি সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ মালিকানাধীন মিলে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৬টি। যেখানে বেসরকারি ৬৯টি, সরকারি ৬৪টি এবং যৌথ মালিকানাধীন কেন্দ্র রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে গ্যাস স্বল্পতায় ১৩টি, জ্বালানি তেল না থাকায় ৯টি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।
অন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১৭টি সৌর, যেগুলো থেকে রাতে বিদ্যুৎ মেলে না। ব্যয় বেশি হওয়ায় বন্ধ রয়েছে ডিজেলচালিত ৫টি কেন্দ্র। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এখন ১২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে সেখানে উৎপাদন হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
তথ্য বলছে, গরমের সঙ্গে এখন বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। তবে এসময়ে সব মিলিয়ে উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। যে কারণে ঘাটতি পুষিয়ে নিতে নিয়মিত লোডশেডিং করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এদিকে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেও তা কত দ্রুত কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সংশয় রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ময়মনসিংহের বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘এত লোডশেডিং শেষ কবে হয়েছে ভুলে গিয়েছি। গরমে অতিষ্ঠ। দিনে-রাত মিলিয়ে কোনো সময়ই ঠিকঠাক বিদ্যুৎ পাচ্ছি না৷ শিশু আর বৃদ্ধদের কষ্ট বেশি হচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ আসে আর কখন যায় বলা মুশকিল।’
আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা আছে। তবে একেবারেই থাকবে না এটি বলা যাবে না। সিচুয়েশন-ওয়েদার এগুলোর ওপর ডিপেন্ড করবে।—মো. জহুরুল ইসলাম
খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা আনিস আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছি। লোডশেডিং অনেক বেড়ে গেছে৷ একদিকে পাম্পে গিয়ে তেল পাই না, অন্যদিকে বাসায় এসে বিদ্যুৎ পাই না। আমরা সাধারণ জনগণ কোথায় যাবো? সরকার কি এসব সমস্যার সমাধান করবে না?’
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, ২৭ এপ্রিল ডে পিকে (দুপুর ১২টা) বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৯৫৬ মেগাওয়াট; ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা পিকে (রাত ৯টা) উৎপাদন ১১ হাজার ১৬২ মেগাওয়াট, ডে পিকে ১৩ হাজার ৭৪৫ মেগাওয়াট; ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা পিকে উৎপাদন ১৪ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট, ডে পিকে ১২ হাজার ৭৭০ মেগাওয়াট; ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা পিকে উৎপাদন ১৪ হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট, ডে পিকে ১২ হাজার ৯৪৯ মেগাওয়াট; ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা পিকে উৎপাদন ১৪ হাজার ৭২৬ মেগাওয়াট আর ডে পিকে উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ১৯০ মেগাওয়াট৷
আরও পড়ুন
ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত
তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
ঢাকায় ১-২ ঘণ্টা হলেও গ্রামে এখন ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং
এর আগে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ তাদের ওয়েবসাইটে উৎপাদন ও চাহিদার তথ্যের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের তথ্যও প্রকাশ করতো। তবে এখন আর সেই তথ্য প্রকাশ করছে না প্রতিষ্ঠানটি৷ গতকাল (রোববার) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তথ্য বলছে, গত ২৫ এপ্রিল (শনিবার) গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং ছিল সারাদেশে। আর চাহিদা ছিল ১৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।
গ্রিডভিত্তিক বর্তমান সক্ষমতা
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এপ্রিলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে সরকারি ৬৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৯১১ মেগাওয়াট। বেসরকারি ৬৯টি কেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার ৮৪২ মেগাওয়াট আর যৌথ মালিকানার তিনটি কেন্দ্রের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮২৪ মেগাওয়াট। পাশাপাশ বিদ্যুৎ আমদানি সক্ষমতা রয়েছে ২ হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুদিন আগেও এসএস পাওয়ার তাদের একটি ইউনিট চালু করেছে, সেখান থেকে ৬০০ মেগাওয়াট যুক্ত হয়েছে। আশা করছি, আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে আদানির একটি ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সেটা হলে আরও ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবো। দু-একদিনের মধ্যে আশা করছি ১৩০০ মেগাওয়াট যুক্ত হবে। আরএনপিএলও কিছু উৎপাদন বাড়াবে। তারা হয়তো ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়াতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা আছে। তবে একেবারেই থাকবে না এটি বলা যাবে না। সিচুয়েশন-ওয়েদার এগুলোর ওপর ডিপেন্ড করবে।’

আদানির ইউনিট চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা বলছে আজ করবো, কাল করবো। ওরা মেনটেনেন্সের জন্য যে টাইম শিডিউল নিয়েছিল সেটি শেষ হয়ে গেছে। হয়তো কাজ করছে। আমরা তো ফিজিক্যালি এখান থেকে দেখতে পাচ্ছি না।’
আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা আমরা সৌরবিদ্যুতে এগোতে পারিনি। পাকিস্তান বা অন্যরা সোলারে যা করে ফেলেছে তা রূপকথার মতো। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।—ড. ইজাজ হোসেন
জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘লোডশেডিং থেকে মুক্ত থাকার জন্য আমাদের যেসব পরিকল্পনা অনেক আগেই করার দরকার ছিল সেগুলো করা হয়নি। আমরা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে আছি। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার করলে আমরা লোডশেডিং থেকে মুক্ত থাকতে পারি। কিন্তু ভর্তুকিটা দেবে কে?’
‘ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিটে উৎপাদন খরচ ২৫-৩০ টাকার মতো। অলরেডি বিদ্যুৎখাতে আমাদের ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা। ৬ থেকে ৮ হাজার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কমপ্লিটলি বসে আছে। গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলো চালাতে পারছি না।’
সংকট উত্তরণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের শর্ট টাইম কোনো পলিসি নেই। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। কাজগুলো এখন আমরা শুরু করলে সামনের বছর বা তার পরের বছর কিছু কিছু বেনিফিট পাবো।’
‘সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো আমরা সৌরবিদ্যুৎ খাতে এগোতে পারিনি। পাকিস্তান বা অন্যরা সোলারে যা করেছে তা রূপকথার মতো। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে’—যোগ করেন এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।
এনএস/এমকেআর