সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র হলেও আমাদের সংস্কৃতি স্বকীয়তা হারাবে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪২ পিএম, ০৫ মে ২০২৬
পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন/ছবি: জাগো নিউজ

দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি ধ্বংসে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যতোই ষড়যন্ত্র হোক না কেন আমরা আমাদের স্বকীয়তা ধরে রাখতে পারবো বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘... আপনাদের (সংস্কৃতিকর্মী ও চলচ্চিত্র অভিনেতা) এই প্রচেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে— নিজের ধারায় এটি হারাবে না। এটি তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে। এবং যত চেষ্টাই ভেতর বা বাহির থেকে হোক না কেন আমরা আমাদের স্বকীয়তা ধরে রাখতে পারবো।’

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গ্লোবাল ব্র্যান্ডস-ট্রাব বিজনেস সিএসআর অ্যান্ড কালচারাল অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমাদের সাংস্কৃতিক যে ধারাবাহিকতা—এটাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য। অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থান, সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি এমন এক বিষয়, যার আবেদন কখনো ফুরিয়ে যায় না। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে গানগুলো মানুষের মনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, আজও সেগুলোর আবেদন অটুট রয়েছে। এত বছর পরও সেই শক্তি, সেই আবেগ একটুও কমে যায়নি—এটা সত্যিই বিস্ময়কর। অনেক কিছুই সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়, আমরা ভুলে যাই; কিন্তু কিছু কিছু সৃষ্টি শাশ্বত হয়ে থাকে।

ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের এই শাশ্বত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যারা ধারণ করে রেখেছেন, তারা আজও নতুন প্রজন্ম—যাকে আমরা জেনারেশন জেড বলি—তাদের কাছেও প্রাসঙ্গিক। সিনেমা, গান, সুর—এসবের মধ্য দিয়ে তারা এখনো আমাদের সমাজকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। আমার বিশ্বাস, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও আমরা পথ হারাবো না।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ছোটবেলায় আমি ‘সুজন সখী’ সিনেমাটি ১৭ বার দেখেছি! বিশেষ করে কিছু চরিত্রের হাসি দেখার জন্যই বারবার সিনেমা হলে যেতাম। আজও সেই অনুভূতি আমার কাছে অমলিন। একইভাবে যাত্রাগানও আমি নিয়মিত উপভোগ করতাম, বিশেষ করে ১৯৮৫ সালের আগ পর্যন্ত। যাত্রাপালায় ‘বিবেক’ নামে যে চরিত্র বা গানের অংশ থাকে, সেটি অত্যন্ত শিক্ষণীয়। কীর্তনের মধ্যেও রয়েছে তর্ক-বিতর্ক, জীবনবোধের নানা দিক। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গম্ভীরায় যেমন সামাজিক ও শিক্ষণীয় বিষয় উঠে আসে, তেমনি বিবেকের গানেও থাকে গভীর তাৎপর্য। এসব আমাদের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, নতুনধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. সাদী-উজ-জামান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, ট্রাব সভাপতি সালাম মাহমুদ, সহ-সভাপতি সুজন দে, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ রহমান, উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সার্ক চলচ্চিত্র সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রেদুয়ান খন্দকার। অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচটি/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।