মাতারবাড়ির বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আনতে বড় প্রকল্প


প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ২১ জুলাই ২০১৬

মহেশখালির মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক ১২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আলাদা দুটি প্রকল্প হতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্প দুটি হচ্ছে- ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন পাওয়ার গ্রিড স্টেনদেনিং এবং মাতারবাড়ী-মদুনাঘাট ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন শীর্ষক প্রকল্প।

প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাতারবাড়ি কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে চট্টগ্রামে আনা হবে। এরপরে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে এবং সবশেষে ঢাকার জাতীয় গ্রিডে এনে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার জন্য প্রথমে চট্টগ্রামের মদুনাঘাট পর্য়ন্ত সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। এজন্য ১ হাজার ৯১ কোটি ৮১ লাখ টাকার মাতারবাড়ী-মদুনাঘাট ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ৪ হাজার ৫৬৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন পাওয়ার গ্রিড স্ট্রেনদেনিং নামে অন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট থেকে চট্টগ্রামের মদুনাঘাট পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাতারবাড়ির ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঢাকার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এনে সারাদেশে সরবরাহ করা হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ঠাকুরগাঁও চিনিকলের পুরাতন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন এবং সুপার বিট থেকে চিনি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪১১ কোটি ১০ লাখ টাকা। ৭৯৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার উন্নয়ন (২য় পর্যায়) প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তারাইল-পাঁচুরিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ ১ম সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩২২ কোটি টাকা। ২৬৮ কোটি ১৭ লাখ টাকার পদ্মা নদীর ভাঙন হতে রাজশাহীর মহানগরীর অন্তর্ভু্ক্ত সোনাইকান্দি হতে বুলনপুর পর্যন্ত এলাকা রক্ষা প্রকল্প।

এছাড়া ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ ফেজ-৩ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ঢাকা মহানগরী এলাকার ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক পানি সরবরাহ সেবার মান উন্নয়ন এবং ঢাকা ওয়াসার ফাইন্যান্সিয়াল মডেলিং ও কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্প।

এমএ/এআরএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]