টিএসসিতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণ গাজীপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসা সেই আলোচিত তরুণের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ওই তরুণের নাম মো. রাকিব। তিনি গাজীপুরের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাইরাল তরুণ মো. রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুর বাজার এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সফিপুরের ইউনিক টাওয়ারের ছাদে সাব্বিরকে কুপিয়ে ও ছাদ থেকে ফেলে হত্যা মামলা প্রধান আসামি তিনি। একই মামলায় তার যমজ ভাই মো. সাকিবও আসামি।
ওই ঘটনায় নিহত সাব্বিরের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছিলেন। মামলার পর থেকে তারা পলাতক থাকলেও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাদের দেখা যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, টিএসসি প্রাঙ্গণে এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে যাচ্ছেন রাকিব। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হত্যা মামলার আসামি হয়েও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাকিব, সাকিব ও সাব্বির একসঙ্গে একটি জিমে যান। সেখান থেকে তারা দুই ভাই রাকিব ও সাকিবদের বাসা ইউনিক টাওয়ারের ছাদে ওঠেন। সঙ্গে ছিল স্থানীয় দুই কিশোর। পরে দুই কিশোরকে মুড়ি কিনতে দোকানে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর ওই দুই কিশোর ফিরে আসেন এবং ভবনের নিচে রক্তমাখা অবস্থায় সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা ছাদে গিয়ে সাব্বিরের কাটা নখ ও রক্তমাখা অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখেন। ততক্ষণে রাকিব ও সাকিব তাকে কুপিয়ে ও ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার পর পালিয়ে যায়। পরে ওই ঘটনায় সাব্বিরের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই ঘটনার পর থেকে তারা দুই ভাই এলাকা ছাড়া। তবে প্রায়ই তাদের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়।
নিহত সাব্বিরের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির বলেন, কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি দায়ের করা হলেও অজ্ঞাত কারণে পরে মামলাটি চলে যায় গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। পরে আমরা জানতে পারি, গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে আনুমানিক ৫-৬ মাস আগে চার্জশিট দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়নি।
তিনি বলেন, আসামিদের বিভিন্ন সময় দেখা যায়। এসব তথ্য আমরা পুলিশকে জানালেও তারা তাদের গ্রেফতার করতে কোনো তৎপরতাই দেখাচ্ছেন না। এর আগে ডাকসুর নির্বাচনের সময় রাকিবকে ক্যাম্পাসে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় দেখা গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি জায়গায় তাকে দেখা গেছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, মামলাটি তদন্ত করেছে ডিবি পুলিশ, তাই তাকে গ্রেফতার করার দায়িত্বও তাদের। আদালত থেকে যদি ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়, তবে তাকে গ্রেফতারের দায়িত্ব আমাদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসমত উল্লাহ বলেন, দেশের নানান পরিস্থিতিতে তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হয়নি। তবে এখন আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হবে।
মো.আমিনুল ইসলাম/কেএইচকে/জেআইএম