শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ ট্রাক মার্বেল ও গ্রানাইট আটক


প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৬

বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১০ ট্রাক মার্বেল ও গ্রানাইট স্লাবের একটি চালান আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা। আটককৃত পণ্যের দাম প্রায় সোয়া এক কোটি টাকা। এতে ৬৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপ-পরিচালক এইচ এম শরিফুল হাসান এ তথ্য জানান।

ঢাকা ও বেনাপোল কাস্টমসের শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমসের কর্মকর্তারা পণ্য চালানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্লেট স্টোনের পরিবর্তে মার্বেল ও গ্রানাইট স্লাব পেয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক গোলাম রসুল ও সহকারি রাজস্ব কর্মকতা আব্দুল মোতালিব।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মঈনুল খান জাগো নিউজকে জানান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের বি/ই নং ৬৭০২০, ভারতীয় ট্রাক থেকে বাংলাদেশি ট্রাকে খালাসের প্রাক্কালে চালানটি (১০ ট্রাক) বন্দরের ৩১ নং শেডে আটক করা হয়।

উপ-পরিচালক এইচ এম শরিফুল হাসান জানান, সোমবার যশোরের হোটেল জাবের প্যারাডাইস লিমিটেড নামের এক আমদানিকারক ভারতীয় ৬টি ট্রাকে স্লেট স্টোন ঘোষণা দিয়ে ১৩০ মেট্রিক টন মার্বেল ও গ্রানাইট স্টোন আমদানি করে। পরে সেগুলো বন্দরের ৩১নং ওপেন ইয়ার্ডে রাখা হয়।

পণ্যচালানটি ছাড় করানোর জন্য মঙ্গলবার বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেন বেনাপোলের বেঙ্গল এজেন্সি নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। তড়িঘড়ি করে চালানটি কোনো কায়িক পরীক্ষা না করে মঙ্গলবার শুল্ককর বাবদ ১১ লাখ ৬৯ হাজার ২১৮ টাকা রাজস্ব জমা দিয়ে ভারতীয় ট্রাক থেকে বাংলাদেশে ট্রাকে খালাস করা হচ্ছিল। এ সময় শুল্ক গোয়েন্দা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পণ্য চালানটি আটক করে।

মঙ্গলবার অনেক দেনদরবার করেও পণ্য চালানটি খালাস নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় প্রভাবশালী আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। পরে বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পুনরায় পণ্যচালানটি পরীক্ষা করে স্লেট স্টোনের পরিবর্তে ৯০ মেট্রিক টন গ্রানাইট স্লাব ও ৪০ মেট্রিক টন মার্বেল স্লাব পান। যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং সরকারি রাজস্ব প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। কিন্তু ১১ লাখ ৬৯ হাজার ২১৮ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করে পণ্য চালানটি ছাড় করার চেষ্টা করছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লোকজন।

তিনি আরো জানান, পণ্য চালানটির মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। সরকারি রাজস্ব আসে ৬৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। হোটেল জাবের প্যারাডাইজ শুল্ক পরিশোধ করে মাত্র ১১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ ছিল ৫২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সহকারী পরিচালক গোলাম রসুল বলেন, শুল্ক আইনে কোনো পণ্য শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্যম্যল্যের তিনগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ড হতে পারে। একইসঙ্গে পণ্য রাষ্ট্রের অনকূলে বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

জেইউ/মো. জামাল হোসেন/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।